|

ময়মনসিংহে বাড়ীতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর-তিন নারীসহ আহত ৫

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সুহিলা এলাকায় চাঁদা না দেওয়ায় বাড়ী ঘরে হামলা চালিয়ে নগদ সাড়ে ৪ লক্ষ্য টাকা, সাড়ে ৩ ভরি স্বর্নলঙ্কার লুটপাট ও বাড়ী ঘর ভাংচুর করেছে ওই এলাকার একদল প্রভাবসালী সন্ত্রাসীরা।

 

এ ঘটনায় দুই গৃহবধু, এক কলেজ পরুয়া ছাত্রী ও দুই পুরুষসহ অন্তত ৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতরা হলেন, জালাল উদ্দিন (৬০) স্ত্রী রাশিদা খাতুন ( ৫৫), কলেজ পড়–য়া মেয়ে মনিরা আক্তার (২০), নববধু শ্রাবন্তী আক্তার (১৮), ছেলে রুবেল মিয়া। তারা সবাই মমেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে তাদেও মধ্যে গৃহবধু রাশিদার অবস্থা আশংকা জনক বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

শনিবার ( ১৫ জুলাই ) বিকালে ও রাতে উপজেলার ১১ নং ঘাগড়া ইউনিয়নের সুহিলা গ্রামে দুই দফা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।হামলার শিকার রুবেল জানায়, প্রতিবেশি সাইদুল ইসলাম, মজিবুর রহমান ও হাবিবুর রহমান (মাস্টার) গংদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল।

 

এরই জের শনিবার বিকাল ৪ টার দিকে রুবেলের বাবা জালাল উদ্দিনের কাছে দশ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন মজিবুর রহমান ও হাবিবুর রহমান (মাস্টার) এর সন্ত্রাসী বাহিনী। তাদেরকে চাঁদার টাকা না দেওয়ায় সন্ধ্যায় বাড়ী ঘরে হামলা চালিয়ে নগদ সাড়ে চারলক্ষ্য টাকা, সাড়ে তিন ভরি স্বর্নলঙ্কার লুটপাট করে এবং বাড়ী ঘর ব্যাপক ভাংচুর করেছে।

 

এ সময় বাড়ীতে থাকা দুই গৃহবধু ও এক কলেজ পড়–য়া ছাত্রীকে বেধরক মারপিট চালিয়ে গুরতর যখম করে সন্ত্রাসীরা। তখন নারীদের রক্ষা করতে গেলে দুই পুরুষ আহত হয়। তাদের ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে তাদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ( মমেক) হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।

 

বাড়ী ঘর ভাংচুর ও স্বর্নলঙ্কার লুটপাটসহ প্রায় ১২ লক্ষ্য টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান রুবেল।তিনি আরও জানান, সাইদুল ইসলাম, মজিবুর রহমান ও হাবিবুর রহমান (মাস্টার) এর নেতৃত্বে দেশীয় অস্র নিয়ে মজিবুর রহমানের ছেলে রাশেদুল ইসলাম শাওন, মাহবুব, খায়রুল ইসলাম, নাজমুল হোসেনসহ অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জন সন্ত্রাসী এ হামলা করেন।

এদিকে ওই এলাকার প্রতক্ষদর্শী গোলাম মোস্তফা জানান, ১৯৭১ সালে বাঙ্গালীদের উপর যেভাবে হামলা চালিয়ে ছিল পাকিস্তানী হানাদার বানিহী ঠিক এরকমই এদের উপর দুই দফা হামলা হয়েছে। এদের কর্মকান্ডে এলাকার মানুষ অশান্তিতে বসবাস করছে। এরা সব সময় গ্রামের মানুষের উপর অন্যায়ভাবে দীর্ঘদিন ধরে অত্তাচার করে আসছে। এদের বিরুদ্ধে যেন প্রশাসন দ্রুত আইননুগ ব্যবস্থা গ্রহন করেন সেই দাবিই জানিয়েছেন মোস্তফা।

 

এ ঘটনায় রবিবার ( ১৬ জুলাই) দুপুরে ময়মনসিংহ কোতুয়ালি মডেল থানায় জালাল উদ্দিন বাদি হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। এর গত মাস আগে একই ঘটনায় আরও একটি অভিযোগ দায়ের করেছিল। তিনি আরও জানায়, বাড়ীতে কোন পুত্র সন্তান না থাকায় সন্ত্রাসীরা আগেও তার বাড়ি ঘরে হামলা চালিয়ে ঘরে থাকা মালা মাল লুট করে নিয়ে গেছে। তখন ঘরের আসভাবপত্র ভাংচুর করে ও মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিল।

 

শনিবার বিকালে আবারও তারা আমার স্ত্রী, কলেজ পড়–য়া মেয়ে ও পুত্রবধুকে বেধরক মারপিট করেছে। স্ত্রী রাশিদা খাতুন এখনো মমেক হাসপাতালের ১১ নং ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন। আমার ছেলে রুবেলকে প্রকাশ্যে সাত দিনের মধ্যে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। আমি প্রশাসনের কাছে তাদের কঠিন শাস্তির দাবি যানাচ্ছি।

 

এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি তদন্ত) মনসুর আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হামলার ঘটনাটি শুনে পুলশি পাঠিয়ে ছিলাম। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা হয়নি। তবে অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইননুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১:৫৮ অপরাহ্ণ | জুলাই ১৬, ২০১৭