|

আনন্দমোহন কলেজে রোপণ করা হল বিরল প্রজাতির বৃক্ষ ‘কাইজেলিয়া’

উবায়দুল হকঃ ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী বিদ্যাপিঠ আনন্দমোহন কলেজে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা ইউনিটের উদ্যোগে রোপণ করা হয়েছে বিরল প্রজাতির বৃক্ষ ‘কাইজেলিয়া’।

 

রোববার দুপুরে কলেজের শহীদ মিনারের পাশে এটি রোপণ করা হয়।

 

জানা যায়, পৃথিবীর বিরল প্রজাতির বিখ্যাত গাছের মধ্যে ‘কাইজেলিয়া’ অন্যতম। এটি ‘বিগনোনিয়াসিয়া’ গোত্রের গাছ। গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম ‘কাইজেলিয়া আফ্রিকানা’। আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে এর আদি নিবাস। আফ্রিকার বাইরে এই গাছটির অস্তিত্ব খুব একটা দেখা যায় না। বাংলাদেশে পূর্ণ বয়ষ্ক দুটি গাছ রয়েছে। আর সে দুটিই রংপুরের কারমাইকেল কলেজে।

 

ওই গাছ দুটির বর্তমান উচ্চতা প্রায় ২৫-৩০ ফিট। গাছটিতে কালচে লাল রংয়ের ফুল হয় এবং ফলগুলো হয় আকারে বড়, লম্বাটে ও গোলাকার। এর ওজন ৫ থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত হয়। ফলগুলো কাঁচা অবস্থায় সবুজ রঙের এবং পাকলে বাদামি রঙের হয়। এই ফল বিষাক্ত কিন্তু ফলগুলো প্রক্রিয়াজাত করলে আলসার, সিফিলিস, সর্প দংশনের ঔষধ, বাত, ছত্রাক দমন, চর্মরোগ, মেয়েদের প্রসাধনী সামগ্রী এমনকি ক্যান্সার রোগের চিকিৎসাতেও বহুল ব্যবহৃত হয়।

 

এই গাছের পরাগায়ন প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল বলে সহসাই চারা তৈরি করা যায় না। বেশ কিছু বছর পূর্বে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কারমাইকেল কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের একদল কৃষি বিজ্ঞানী টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে বেশ কয়েকটি চারা তৈরি করেন।
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহে চারাগুলো এনে রোপন করলেও তারা আর চারা গুলোকে বাঁচাতে পারেন নি। তবে কারমাইকেল কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সামনে তখন যে দু’টি চারা রোপন করা হয়েছিল তা ঐ বিভাগের ছাত্র এবং শিক্ষকরা বাঁচিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

 

কারমাইকেল কলেজের বাগানে মাস্টার রোলে চাকরি করা বাগান মালি বাটুল সিং প্রায় ১০ বছর ধরে দেশীয় সনাতন পদ্ধতিতেই এই গাছের চারা তৈরির চেষ্টা করে অবশেষে বেশ কয়েকটি চারা উৎপাদন করতে পেরেছেন।

 

এই খবরটি জানার পর বৃক্ষপ্রেমি কারমাইকেল কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র ও বর্তমানে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা ইউনিটের ইনচার্জ রবিউল ইসলাম ময়মনসিংহবাসীর জন্য উপহার স্বরূপ দু’টি চারা রংপুর থেকে নিয়ে আসেন।

 

সেখান থেকে একটি চারা ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা প্রাঙ্গণে রোপন করা হয় এবং আরেকটি রোববার আনন্দমোহন কলেজে রোপন করা হল।

এসময় কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর জাকির হোসেন, উপাধ্যক্ষ গাজী হাসান কামাল, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রকিবুল ইসলাম রকিব, কলেজ ছাত্রলীগের আহবায়ক মাহমুদুল হাসান সবুজ, যুগ্ম আহবায়ক শেখ সজল, জুনায়েদ টিপু, ওয়াহিদুর রহমান সবুজ, নাঈম আকন্দসহ কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের স্বেচ্ছাসেবকরা উপস্থিত ছিলেন।

 

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ইউনিট ইনচার্জ রবিউল ইসলামকে ধন্যবাদ জানিয়ে কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর জাকির হোসেন বলেন, “যাতে গাছটি এখানে টিকে থাকে সেজন্য সংরক্ষণের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।”

 

এসময় আনন্দমোহন কলেজের ছাত্রলীগের সকল নেতাকর্মীকে গাছটি দেখাশোনা করার নির্দেশ দেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রকিবুল ইসলাম রকিব।

 

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ইউনিট ইনচার্জ রবিউল ইসলাম বলেন, “গাছটি যেন ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমাদের দেশের ঐতিহ্য বহন করে সে লক্ষ্যেই এ গাছের চারা কলেজের ক্যাম্পাসে লাগানো হয়েছে। এটি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পাশাপাশি রংপুরবাসীর পক্ষ থেকে ময়মনসিংহবাসীকে উপহার।”

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১:৪৭ অপরাহ্ণ | জুলাই ০৯, ২০১৭