|

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে হাঁসের ছানায় ভাগ্য বদল

আজহারুল হক, গফরগাঁওঃ  বাংলা পুঞ্জিকায় এখন বর্ষাকাল। মৌসুমের আগাম বৃষ্টিপাতে নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাধারে পানি থৈ থৈ। আর এ জলে পুরো গ্রামাঞ্চলে দেখা মিলবে হাঁসের জলকেলি। গৃহস্থরা অর্থ-পুঁজি দুটোই বিবেচনা করে বর্ষার সময় হাঁস পালনে উদ্যোগী হন। সামান্য খরচেই হাঁস পালন করা যায় নদী-নালা, খাল-বিলবেষ্টিত জনপদে। গৃহস্থের বাড়িতে বাড়িতে হাঁস-মুরগি পালন চিরায়িত।

 

এক্ষেত্রে কিছুটা ভোগান্তি হাঁসের বাচ্চা প্রাপ্তিতে। গৃহস্থরা সাধারণত হাঁসের ডিম মুরগির আঁঝলায় তাপ দিয়ে বাচ্চা ফুটিয়ে থাকেন। এই বিড়ম্বনারও দিন শেষ। এখন আধুনিক তুষ পদ্ধতিতে হাঁসের বাচ্চা ফুটানো হয়। চাইলেই হাট-বাজার থেকে কিনে নেয়া যায় হাঁসের ছানা। তাই এখন অনেকে বাণিজ্যিকভাবেও করছেন হাঁস চাষ। গ্রামঞ্চলে গড়ে উঠেছে হাঁসের খামার। গ্রামাঞ্চলে বর্ষায় হাঁস চাষে ঝোঁক থাকে বেশি। তাই দিনদিন চাহিদাও বাড়ছে হাঁসের ছানার।

 

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের প্রসিদ্ধ সালটিয়ার হাটে গিয়ে দেখা যায়, শত শত হাঁসের ছানা নিয়ে বসে আছেন বিক্রেতারা। বেলা গড়াতেই ক্রেতার ভিড়ে সরগরম হাঁসের ছানা বিক্রির জমজমাট মোকাম।

 

প্রতি সপ্তাহে সোমবার হাটবারে হাঁসের বাচ্চা নিয়ে আসেন উপজেলার মশাখালী ইউনিয়নের বীরখারুয়া টানপাড়া গ্রামের দুই সহোদর আব্দুল ওয়াহাব ও রফিকুল ইসলাম।

 

এই দুই সহোদর জানান, গফরগাঁওয়ের পাশের উপজেলা নান্দাইল ও ঈশ্বরগঞ্জ থেকে এক-দুই দিনের হাঁসের বাচ্চা কিনেন। সেই বাচ্চাগুলোর পাঁচ দিন বয়স হলে হাটে নিয়ে আসেন। প্রতি সপ্তাহের হাটে প্রায় হাজারখানেক ছানা বিক্রি হয়। প্রতিটি ছানা ১১-১২ টাকা দরে কিনে ১৭ থেকে ১৮ টাকা দরে বিক্রি করে থাকেন। অবিক্রিতগুলো বাড়ি নিয়ে যায়। অনেকে আবার সেগুলো বাড়ি থেকেও কিনে নিয়ে যান।

 

হাঁসের ছানা বিক্রি করে আজ এই দুই সহোদরের মতো অনেকেরই ভাগ্য বদলে গেছে। পাশাপাশি তেমনি ছানার সহজলভ্যতায় অনেকেই গড়ে তোলেছেন হাঁসের খামার। গৃহস্থের বাড়ির পুকুর খাল-বিল ও জলাধারে হাঁস পালন হচ্ছে। এমন নানা উপায়ে দিনদিন সমৃদ্ধি হচ্ছে গ্রামের অর্থনীতি। হ্রাস পাচ্ছে বেকারত্ব।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩:০৯ পূর্বাহ্ণ | জুলাই ০৮, ২০১৭