|

বাজেট বাস্তবায়নে সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ এরশাদের

লোক লোকান্তর : ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে সর্ববৃহৎ বাজেট উল্লেখ করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এই বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, এবার ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

 

এই বাজেট বাস্তবায়ন করতে হলে সক্ষমতা বাড়াতে হবে। কারণ বাজেট বাস্তবায়ন নির্ভর করে যোগ্যতা ও সক্ষমতার ওপর। গতকাল বুধবার সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, শেয়ার ও মানি মার্কেট দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম মানদন্ড।

 

 

শক্তিশালী শেয়ার মার্কেট ছাড়া সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়া সম্ভব নয়। তাই টেকসই অর্থনীতির জন্য ব্যাংকিং খাত ও শেয়ার মার্কেটে শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে হবে এবং এই খাতে লুটপাটকারীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে। তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ, কোচিং বাণিজ্য বন্ধ ও কারিকুলাম পরিবর্তন করে পরীক্ষার ফলাফলে জিপিএ’র পরিবর্তে আগের পদ্ধতি চালুর সুপারিশ করেন।

 

 

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মেডিটেশনকে শুল্কমুক্ত রাখা, সকল কৃষি উপকরণের ওপর থেকে কর প্রত্যাহার, বিড়ি শিল্পে কর কমিয়ে সিগারেটের ওপর শতভাগ করারোপ ও চালের দাম কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়ার আহবান জানান।

 

 

বাজেটকে দারিদ্র্য ও উন্নয়ন বান্ধব করার আহ্বান রওশন এরশাদের: জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ প্রস্তাবিত বাজেটকে দেশের সর্ববৃহৎ বাজেট উল্লেখ করে এতে ভ্যাট, আবগারি শুল্কসহ যেসব বিষয় নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে তা বিবেচনা করে বাজেটকে দারিদ্র্য ও উন্নয়ন বান্ধব করার আহ্বান জানিয়েছেন। সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ১৭ কোটি মানুষের দেশে আরো বৃহৎ বাজেট প্রয়োজন।

 

 

এবারের বৃহৎ বাজেটের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয় ও ’৪১ সালের মধ্যে উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত করতে হবে। পাশাপাশি তিনি বাজেটে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রার কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রবৃদ্ধি আরো বাড়াতে হবে। তা না হলে কাক্সিক্ষত সময়ের মধ্যে কিভাবে উন্নত দেশে পরিণত হবে? তবে তিনি বিগত ৬-৭ বছরে দেশের প্রবৃদ্ধির হার ধারাবাহিকভাবে ৬ শতাংশের ওপরে রাখায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। প্রবৃদ্ধির এ হার প্রতিবেশী দেশসমূহের তুলনায় বেশী।

 

 

বেগম রওশন এরশাদ দেশে নতুন কর্মসংস্থানে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিকল্প নেই উল্লেখ করে বলেন, বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ আরো নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে বিনিয়োগের পথে বর্তমানে সে সব আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রয়েছে তা দূর করতে হবে। তিনি দেশের জনগণকে ভেজালমুক্ত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

 

 

তিনি বলেন, খাদ্যে ভেজাল মেশানোর দায়ে সর্বোচ্চ শাস্তির বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। প্রয়োজনে খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে সেনাবাহিনী বা র‌্যাবকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

 

 

বিরোধীদলীয় নেতা প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষিপণ্য, মেডিটেশনসহ বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত ভ্যাট এবং ব্যাংক হিসাবের ওপর আবগারি শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানান। এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামানা করেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২:২৬ অপরাহ্ণ | জুন ২৯, ২০১৭