|

গুগলকে ২৭০ কোটি মার্কিন ডলার জরিমানা গুনতে হবে !

লোক লোকান্তর :শপিং সার্চ রেজাল্টে কারসাজির অভিযোগে গুগলকে জরিমানা গুনতে হবে। প্রযুক্তিগত ওয়েবসাইট টেকক্রাঞ্চ এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

 

 

এতে বলা হয়, ইউরোপে সেবা সরবরাহে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একাধিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি ব্যবসা সম্প্রসারণের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে থাকতে অবৈধভাবে সুবিধা নেয়ায় মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানি গুগলকে অভিযুক্ত করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

 

 

বিজ্ঞাপণ প্রদর্শন, এটির অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম এবং তুলনা বিষয়ক শপিং সার্ভিসের কারণে এসব অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে তুলনা বিষয়ক শপিং সার্ভিস বা গুগল শপিং সার্চ কম্পারিজন সার্ভিস এর কারণে এ পরিমাণ অর্থ জরিমানা করা হয়। জানা যায়, এই প্রথম কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে এতো পরিমাণ অর্থ জরিমানা করা হল।

 

 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিযোগী কমিশনার মার্গারেট ওয়েস্টগার জানিয়েছেন, গুগল যা করেছে তা ইইউ অ্যান্টিট্রাস্টের নিয়ম অনুযায়ী অবৈধ।শপিং সার্চ রেজাল্টে কারসাজি ও নিজেদের পণ্য সার্চ রেজাল্টের উপরের দিকে অনৈতিকভাবে প্রদর্শন করার তাদের এ রেকর্ড পরিমাণ জরিমানার মুখে পড়তে হচ্ছে। ইইউ আরো জানায় গুগলকে ৯০ দিনের মধ্যে এই জরিমানার অর্থ প্রদান করতে হবে। না করলে জরিমানা আরো বাড়তে পারে।

 

 

এর আগে ২০০৯ সালে অ্যান্টি ট্রাস্ট  অভিযোগের প্রেক্ষিতে হার্ডওয়্যার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ইন্টেলকে ১.০৬ বিলিয়ন ইউরো জরিমানা করেছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন।উল্লেখ্য, ইন্টারনেট সার্চে শপিং সার্ভিসের প্রচারণা করার কারণে সেই ২০১০ সাল থেকে গুগলকে অভিযুক্ত করে আসছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

 

 

২০১০ সালে বিষয়টি দেখভালকারী ইইউ কম্পিটিশন কমিশন গুগলের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য দুই বছরের বেশি সময় ধরে গুগলের সঙ্গে আলোচনা চালান তদানীন্তন কম্পিটিশন কমিশনার জোয়াকিন আলমুনিয়া। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিগুলোর এবং জার্মান ও ফরাসি রাজনীতিকদের আপত্তির কারণে ২০১৪ সালে ইইউ গুগলের প্রস্তাবিত ক্ষতিপূরণকে অপর্যাপ্ত বলে প্রত্যাখ্যান করে।

 

 

জোয়াকিন আলমুনিয়ার প্রত্যাখ্যানের সুবাদেই তার উত্তরসূরি ও বর্তমান কম্পিটিশন কমিশনার মারগ্রেথ ভেস্টাগার ২০১৫ সালের এপ্রিলে গুগলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন।

 

 

গুগলের বিরুদ্ধে একই অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রেও। কিন্তু গুগল স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে নিজেদের নীতিতে কিছু পরিবর্তন আনার কথা জানালে সে তদন্ত বন্ধ হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১:০৯ পূর্বাহ্ণ | জুন ২৮, ২০১৭