|

`আমি মন্ত্রী হলেও ময়মনসিংহের লোকজন আমাকে এখনও প্রিন্সিপাল হিসেবে চেনে’

লোক লোকান্তরঃ ‘আমি মন্ত্রী হলেও ময়মনসিংহের লোকজন আমাকে এখনও প্রিন্সিপাল (শিক্ষক) হিসেবে চেনে। ১৯৫৮ সাল থেকে আওয়ামী লীগ করি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে সারাজীবন সততার সঙ্গে রাজনীতি করেছি। ক্ষমতা, অর্থবিত্ত ও মন্ত্রিত্বের লোভ কখনও করিনি। সারাজীবন আল্লাহর কাছে চেয়েছি যেন সন্তানরা সুসন্তান হয়।’

 

মঙ্গলবার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এভাবেই নিজের কথাগুলো বলছিলেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।

 

তিনি বলেন, ‘আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া তিনি আমার সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করেছেন। আমার কাছে মন্ত্রিত্বের চেয়ে শিক্ষক পরিচয় ও সন্তানদের মানুষ হওয়া অনেক বড় প্রাপ্তি।’

 

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের বর্তমান মন্ত্রিসভার অন্যতম প্রবীণ নেতা ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।

 

অনুষ্ঠানে বক্তব্যের শুরুতেই উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের সবার উপস্থিতিতে আজ যে পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে এ রকম পরিবেশ আর পাবো কিনা জানি না। আজ দিল খুলে কিছু কথা বলতে চাই। একটু বেশি সময় নিলে আপনাদের সমস্যা নেই তো?

 

এ সময় উপস্থিত অতিথিরাও সমস্বরে ‘না না’ বলে ওঠেন।

 

বক্তব্যের শুরুতে অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন, ১৯৫৮ সাল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়াউর রহমান ও আমি একসঙ্গে ছিলাম। মুক্তিযুদ্ধের সময় এদেশের মানুষকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। থালা না থাকায় পাতায় খিঁচুড়ি খেতে হয়েছে।

 

‘পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমান আমাকে ডেকে মন্ত্রিত্বের অফার দেন। আমি তাকে বলি, যে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে সুদীর্ঘকাল আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছি, বঙ্গবন্ধুর পাশে বসে উপদেশ শুনেছি তার বুকের তাজা রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আমি কিছুতেই মন্ত্রিত্ব নেবো না। এ কথা জানালে রোষানলে পড়ি আমি। এ কারণে ৪০ মাস জেলও খাটতে হয়েছে আমাকে।’

 

তিনি বলেন, মাস্টার্স পাস করার পর ময়মনসিংহ শহরে অনেক অভিভাববক তাদের মেয়ে বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। উপঢৌকন হিসেবে বাড়িও দিতে চেয়েছিলেন তারা। কিন্তু সে লোভ না করে বিএ পাস একজন শিক্ষিত নারীকে বিয়ে করি। যাতে সন্তানরা সুসন্তান হয়।

 

‘আমাদের সন্তানরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ-বিদেশে ভালো অবস্থানে রয়েছেন। মন্ত্রিত্বের চেয়েও সুসন্তানের বাবা হওয়া অনেক বড় প্রাপ্তি।যা আমি হতে পেরেছি।,’ যোগ করেন ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজের সাবেক এ অধ্যক্ষ।

 

ধর্মমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রী হলেও ময়মনসিংহে আমার পাকা দালানের বাড়ি নেই। পৈত্রিক সূত্রে ১৩ শতাংশ জমি ও দুটো রুম পেয়েছিলাম।

 

‘বিপুল অর্থবিত্তের জন্য কখনও লোভ করিনি।আমার দুই মেয়ে ও ছেলে বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত। তাদের কেউ বাবার ক্ষমতা খাটিয়ে ভাবমূর্তি নষ্ট করে না।’

 

অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন, মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের শিক্ষকরা কোমলমতি শিশুদের কষ্ট করে পড়াশোনা করান। কিন্তু তাদের মাত্র ২ হাজার ৩০০ টাকা বেতন দেয়া হয়, যা মোটেই ঠিক নয়।

 

‘যারা এ বেতন নির্ধারণ করলেন তাদের কাছে প্রশ্ন এ টাকা দিয়ে কি সারা মাস নাস্তা করা যায়? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেঁচে থাকলে শুধু এ শিক্ষকদেরই নয়, সারাদেশের উন্নতি হবে,’ যোগ করেন তিনি।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২:০২ পূর্বাহ্ণ | জুন ২২, ২০১৭