|

সেনা কর্পোরাল আজিজুলের ঈদে বাড়ি ফেরা হলো না

লোক লোকান্তর : ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় তরফ পাসাইল গ্রামে পরিবারের সাথে এক সঙ্গে ঈদ করার কথা থাকলেও সে কথা রাখতে পারেনি সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা কর্পোরাল আজিজুল হক। ঈদে বাড়ি ফেরার জন্য ছুটিও নিয়ে ছিলেন তিনি। কিন্তু ঈদে কেন? সে আর কোন দিনই বাড়ি ফিরবেন না।

 

আজিজুল পরিবারের সবাইকে ফাঁকি দিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে।আজিজুল উপজেলার মগটুলা ইউনিয়নের তরফ পাসাইল গ্রামের আমির উদ্দিন মুন্সীর ছেলে। গত মঙ্গলবার (১৩ জুন) প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধসে রাঙামাটির মানিকছড়িতে হতাহতদের উদ্ধার করতে গিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২ কর্মকর্তাসহ অন্তত ৪ জন সদস্য নিহত হন। তাদের মধ্যে কর্পোরাল আজিজুল হক একজন।

 

জানা গেছে নিহতরা সবাই রাঙামাটির মানিকছড়ি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। বুধবার ( ১৪ জুন) চট্রগ্রামে জানাজা শেষে আজিজুলের মৃতদেহ প্রথমে ঢাকা সেনানিবাস, পরে বিকাল ৫ টায় ময়মনসিংহ ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে হেলিকপ্টার যোগে নিয়ে আসা হয় । সেখান থেকে সেনাবাহিনীর এম্বোলেন্সে করে তার নিজ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে লাশ পৌছার পর স্ত্রী-সন্তান ও স্বজনদের আহাজারিতে বাতাস ভারি হয়ে উঠে। পরে একই দিন সন্ধ্যায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

 

এদিকে বৃহস্পতিবার ( ১৫ জুন ) দুপুরে কথা হয় আজিজুলের স্ত্রী আনোয়ারা বেগমের সাথে, তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমার স্বামী প্রায় ৪ মাস আগে ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন। এই ঈদে ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে আমার স্বামীর অনেক পরিকল্পনা ছিল। এখন কীভাবে স্বামীর স্বপ্ন পূরণ হবে এই কথা বলেই বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন আনোয়ারা। তবে আজিজুলের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলে শাকিল আহমেদ রিফাদ দিতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র ও ছোট মেয়ে সাহানাজ আজিজ রিতা সে ধনিয়াকান্দি ফাজিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণীর ছাত্রী বলে জানা গেছে। বাবা হারানোর বেদনায় সন্তান দুটিও এখন দিশে হারা।

 

আজিজুলের বড় ভাই আব্দুল হাশিম জানান, ৪ ভাই ২ বোনের সংসারে আজিজুল ছিল ভাইদের মধ্যে ৩ নম্বর। ১৯৯৫ সালে সৈনিক পদে সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন আজিজুল। আগামী বছরের এপ্রিলে চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার কথা ছিল তার। তিনি আরও জানান, বাড়িতে এসে অবসরের পেনশনের টাকা দিয়ে ব্যবসা করার পাশাপাশি ছেলেমেয়ের লেখাপড়া করাবেন এমন পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই সে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে।

 

তিনি আরও জানান, তার ভাইয়ের স্ত্রীকে যদি যোগ্যতা অনুযায়ী একটি চাকরি দেওয়া যায়। তাহলে এই পরিবারটি সমাজে দাঁড়াতে পারবে। তিনি এ ব্যাপারে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় মগটুলা ইউপি চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান মামুন বলেন, আজিজুলের অকাল মৃত্যুতে আমরা মর্মাহত। সরকার যেন এই পরিবারটিকে চলার মত একটা ব্যবস্থা করে দেন এটাই আমাদের দাবি। আজিজুলের মৃত্যুতে পরিবারসহ পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩:২৮ অপরাহ্ণ | জুন ১৫, ২০১৭