|

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি : আবেদনের ফল প্রকাশ কাল

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদনের ফল আগামীকাল প্রকাশ করা হবে।

 

৯ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত কলেজে ভর্তির আবেদন নেয়া হয়। সারা দেশে ৯ হাজার ৮৩টি উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের আবেদনের ভিত্তিতে চাহিদার শীর্ষে থাকা ২০টি কলেজের মধ্যে ঢাকার রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে এবার সবচেয়ে বেশি ৪২ হাজার ৬৪৫ শিক্ষার্থী আবেদন করেছে। এ কলেজে আসন আছে এক হাজার ৬৩৮টি।

 

দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আছে ঢাকা সিটি কলেজ ও ঢাকার সরকারি বাংলা কলেজ। সিটি কলেজে তিন হাজার ৪৫০টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছে ৩৯ হাজার ৩১৬ জন। বাঙলা কলেজে এক হাজার ৭০০ আসনের বিপরীতে ৩৯ হাজার ৫২ জন আবেদন করেছে। চতুর্থ স্থানে রাজশাহী কলেজ। আবেদন পড়েছে ৩৮৯১টি।

 

পঞ্চম স্থানে আছে চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ। আবেদন পড়েছে ৩৭ হাজার। ষষ্ঠ স্থানে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ। ৩৬৭৭৭ জন আবেদন করেছে। কবি নজরুল সরকারি কলেজ সপ্তম স্থানে। আবেদন পড়েছে ৩৫৫৭১টি। অষ্টম স্থানে সরকারি আনন্দ মোহন কলেজে প্রার্থী ৩৪৮৯৮। নবম ও দশম স্থানে আছে রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ এবং নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজ, রাজশাহী। আবেদন পড়েছে যথাক্রমে ৩১৬৪৫টি ও ২৮৬৭০টি।

 

এভাবে একাদশ থেকে ২০তম স্থানে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- ময়মনসিংহ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ (আবেদন ২৬৪৬২টি), ঢাকার রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ (২৫৬৪৪), বিএএফ শাহীন কলেজ (কুর্মিটোলা, আবেদন-২৫৫৪৪) ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী সরকারি কলেজ (২৫০৪২), চট্টগ্রামের বাকলিয়া সরকারি কলেজ (২৪৭১৯), সরকারি হাজী মুহম্মদ মুহসিন কলেজ (২৩৫২৭), রংপুর সরকারি কলেজ (২২৬৪১), বগুড়ার সরকারি এএইচ কলেজ (২২২৭৩), চট্টগ্রামের ওমরগঞ্জ এমইএস কলেজ (১৯৮৬৯) এবং চট্টগ্রাম কলেজ (১৭৯৪৭)।

 

গত বছর কম আবেদন পড়ায় শতাধিক কলেজ-মাদ্রাসা বন্ধ করে দিয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বোর্ডেই আছে ৭৯টি। দাখিলে খারাপ ফল করায় ৫০৮টি মাদ্রাসাকে শোকজ করা হয়েছে। এরপরও এবার এখন পর্যন্ত ১৫৪টি কলেজে সর্বনিন্ম ১০টি করে আবেদন পড়েছে। এর মধ্যে ৯৭টিই কারিগরি প্রতিষ্ঠান। মাদ্রাসা ৩৯টি। ছয়টি কলেজে ভর্তির জন্য কোনো শিক্ষার্থী আবেদন করেনি। এগুলো হল- নবাবগঞ্জ দাখিল মাদ্রাসা, মুন্সির তাল্লুক গার্লস আলিম মাদ্রাসা ও মাহমুদপুর রসুলপুর হামিদিয়া আলিম মাদ্রাসা, কুমিল্লার কাছিয়ারা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাজশাহীর খন্দকার আবু সাঈদ আদর্শ সায়েন্স কলেজ এবং কারিগরি বোর্ডের অধীন আদিবাবাদ ইসলামিয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

 

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের একজন কর্মকর্তা জানান, যে সাড়ে ১৫ লাখ আসন খালি থাকছে তার সবই বিদ্যমান ৯ সহস্রাধিক কলেজ ও মাদ্রাসার। ১০টির বেশি কিন্তু ২০টির কম আবেদন পড়া কলেজ-মাদ্রাসা আছে আরও শতাধিক।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এমন পরিস্থিতিতেও ২২ থেকে ২৯শে মের মধ্যে ৫টি নতুন কলেজ স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে। এগুলো হচ্ছে, মানিকগঞ্জের জিয়নপুর বেলায়েত হোসেন কলেজ, হবিগঞ্জের কীর্তি নারায়ণ মহাবিদ্যালয়, কুমিল্লার পীরযাত্রাপুর জোবেদা খাতুন কলেজ, টাঙ্গাইলের আমির উদ্দিন কলেজ এবং রংপুরে উইন্স কলেজ। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট বোর্ডকে স্থাপনের যৌক্তিকতা যাচাইয়ের নির্দেশনা দিয়ে প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা না করে পরের দু’দিনের মধ্যে অনুমতি দেয়া হয়। অন্যদিকে যে ৩০টি কলেজ স্থাপনের আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে, সেগুলোর মধ্যে ৫টি স্থাপনের যৌক্তিকতার প্রতিবেদন চেয়ে মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করেছে। বাকি ২৫টি কলেজের ফাইল মন্ত্রণালয়ে আছে। এই ২৫টির বেশির ভাগই প্রাইভেট কলেজ। এছাড়া ব্যক্তির নামে স্থাপনের কলেজ আছে কয়েকটি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৮:২২ অপরাহ্ণ | জুন ০৪, ২০১৭