|

ময়মনসিংহে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মাথা বিচ্ছিন্ন

লোক লোকান্তরঃ   ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় পল্লী চিকিৎসক এর ভুল চিকিৎসায় প্রসূতীর গর্ভ থেকে নবজাতক শিশুর মাথা বিছিন্ন করে আনা হয়েছে।

 

শুক্রবার (১২মে) নবজাতক শিশুর বিছিন্ন মাথাটি পুলিশ উদ্ধার করেছে। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ( মমেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে প্রেরণ করা হয়েছে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১০ মে) সন্ধার পর উপজেলার লাউটিয়া গ্রামের মো: শাহজাহান মিয়ার স্ত্রী মোছা: রাজিয়া খাতুনের (২৩) প্রসব ব্যথা উঠে। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওই প্রসূতীর স্বামী শাহজাহান মিয়া মোবাইল ফোনে টেঙ্গুলিয়া গ্রামের আবদুল জব্বারের পুত্র পল্লী চিকিৎসক আব্দুল হাকিম (৪০) কে বাড়ীতে ডেকে আনেন।

 

এসময় পল্লী চিকিৎসক প্রসূতির শারীরিক অবস্থা দেখে প্রথমে তাকে স্যালাইন পুষ করেন। পরে স্থানীয় ধাত্রী জোবেদা খাতুন ও সখিনা খাতুনকে ডেকে আনেন।

 

এরপর রাত পৌনে ১২টায় ওই চিকিৎসককে ধাত্রীরা জানান প্রসবের সময় এখনো হয়নি। আরো সময় লাগবে। তারপর চিকিৎসক আব্দুল হাকিম ধাত্রীদের তাড়িয়ে দেন। ওই সময় তিনি নিজেই হাতে তৈল মালিশ করে প্রসূতির প্রসবকালে বল প্রয়োগ করে নবজাতক শিশুকে বাহির করে আনার চেষ্টা করেন। চেষ্টাকালে নবজাতকের মাথা বিছিন্ন করে আলাদা বের হয়ে আসে। এ অবস্থা দেখে চিকিৎসক পালিয়ে যায়।

 

এ সময় প্রসূতির আত্তচিৎকারে বাড়ীর লোকজন ঘরে ডুকে দেখে ওই প্রসূতির প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে। পরে গুরতর অবস্থায় প্রসূতীকে বাড়ির লোকজন জরুরি চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ শহরের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে ভর্তি করে।

 

এ সুযোগে নবজাতক শিশুর ছিন্ন মাথা রেখে পল্লী চিকিৎসক আব্দুল হাকিম গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়।

 

এ ব্যাপারে প্রসূতির স্বামী মো. শাহজাহান মিয়া শুক্রবার বিকালে বাদী হয়ে আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে তারাকান্দা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

 

এবিষয়ে তারাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাজহারুল হক জানান, নবজাকের মাথা বিচ্ছিন্নের ঘটানায় অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনা জানার পর পরি পুলিশ নবজাতকের ছিন্ন মাথা উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ( মমেক) হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ ওই পল্লী চিকিৎসক কে গ্রেফতারের জন্য জোর তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৪:০২ অপরাহ্ণ | মে ১৪, ২০১৭