|

ভোক্তারা নিজেদের অধকার সম্পর্কে সচেতন নয় : দেবানন্দ সিনহা

ফাহিম মোঃ শাকিলঃ   সিলেট জেলায় ভোক্তাদের নিয়ে কাজ করার পর ময়মনসিংহ অঞ্চলের দায়িত্ব পান দেবানন্দ সিনহা। ময়মনসিংহে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা হয়েছে খুব বেশি সময় হয়নি। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এই অঞ্চলের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা হয় এবং গত বছরের জুলাই মাস থেকে ময়মনসিংহ অঞ্চলের ভোক্তাদের নিয়ে কাজ করার সুযোগ পান দেবানন্দ সিনহা। বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহ জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এর সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন।

 

ময়মনসিংহ অঞ্চলে যোগদানের পর থেকে এখানকার ভোক্তাদের অধিকার ও তাদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। শহরসহ আশেপাশের এলাকায় প্রতিনিয়তই অভিযান চালাচ্ছেন, ব্যবসায়ী-ভোক্তা উভয়দের সাথে আলোচনা করছেন যাতে করে ব্যবসায়ীদের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভোক্তাদের অধিকার ক্ষুন্ন না হয়।

 

এরই ফলশ্রুতিতে খুব কম সময়ের মাঝেই এই অঞ্চলের ভোক্তারা তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে শুরু করেছে। প্রতিনিয়তই অভিযোগ জমা পড়ছে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে এবং ভক্তারা অভিযোগের সাড়াও পাচ্ছেন দ্রুততম সময়ের মাঝেই। ২০১৬ সালের ১৩ জুলাই মাস থেকে এখন পর্যন্ত ১৩১ প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬ লক্ষ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

 

দৈনিক লোক লোকান্তর এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে দেবানন্দ সিনহা জানিয়েছেন, এতো অল্প সময়ে কীভাবে তিনি এই অঞ্চলের ভোক্তাদের সচেতনতা ও তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করছেন।

রংয়ের মিশ্রনেও ভেজাল । ছবি: দৈনিক লোক লোকান্তর

 

লোক লোকান্তর: ময়মনসিংহ জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এর সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত আপনার কিছু উল্লেখযোগ্য কাজের বিবরণ দিন?

দেবানন্দ সিনহা: ভোক্তাদের নিয়ে কাজ করার পরিধি অনেক বেশি। এই অঞ্চলে আসার পর বিশেষ করে খাবারের প্রতিষ্ঠান গুলোর আচরন ও কর্মকাণ্ড আমার বেশি চোখে পরেছে। এই কাজ গুলো অনেকের কাছে ছোট হতে পারে, কিন্তু এইগুলো দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা যা পরবর্তীতে ভোক্তাদের ভোগাবে। নিষিদ্ধ রং ব্যবহারকারী বেকারি , পন্যের গায়ে মেয়াদ উল্লেখ না থাকা, প্রসাধনী সামগ্রীতে আমদানিকারকের সিল না থাকালে, যারা মসলার মাঝে ভেজাল মেশাচ্ছে তাদের আইন অনুযায়ী জরিমানা করা হচ্ছে। এছাড়া অভিযোগকারীর অভিযোগ মোতাবেক সত্যতা যাচাই করে আমরা অভিযান চালাচ্ছি। এই অঞ্চলের প্রায়ই সব রেস্টুরেন্ট গুলোতে কোমল পানীয়র দাম বিক্রয় মূল্য থেকে বেশি রাখা হচ্ছে। তাদের এই সম্পর্কে অবাগত করেছি। যারা না মানছেন তাদের জরিমানা করা হচ্ছে। আসলে জরিমানা আদায় করা মুখ্য উদ্দেশ্য না ভোক্তা আইন সম্পর্কে ভোক্তাদের ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করার জন্য জরিমানা করা হয়েছে।

 

লোক লোকান্তর: এই অঞ্চলের ভোক্তাদের নিয়ে কাজ করে নিজেকে কতটুকু সফল মনে করছেন?

দেবানন্দ সিনহা: আমি আমার পরিসর থেকে চেষ্টা করে যাচ্ছি। নিয়মিত অভিযান ছাড়াও ভোক্তাদের অভিযোগকে গুরুত্ব দিচ্ছি। অভিযোগ আসার পর পরই এর সত্যতা যাচাই করে শুনানির মাধ্যমে জরিমানা করা হচ্ছে। অভিযোগ ভেদে অভিযোগকারীকে জরিমানার পঁচিশ শতাংশ অর্থ দিয়েছি যাতে ভোক্তারা তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ করতে আসে। এখন পর্যন্ত বেশ কিছু একালার ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেছি। তাদের ডিজিটাল মাপার যন্ত্র ব্যবহারের কথা বলছি। ইতিমধ্যে নতুন বাজারস্থ ফলের বাজার ও ময়মনসিংহ এর সবচেয়ে বড় বলে আখ্যায়িত মেছুয়া বাজারের প্রায় সকল ব্যবসায়ীরা ডিজিটাল মাপার যন্ত্র ব্যবহার করছে।

মাছের বাজারে অভিযান। ছবি: দৈনিক লোক লোকান্তর

লোক লোকান্তর: আপনার অবস্থান থেকে কোন বাঁধার সন্মুখিন হয়েছেন কিনা ?

দেবানন্দ সিনহা: জনগন তথা ভোক্তাদের নিয়ে কাজ করতে গেলে বাঁধা আসবেই। কাউকে না কাউকে তো কাজ করতে তানা হলে পরিবর্তন আসবে না। তবে এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক স্যার, পুলিশ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যক্তিদের কাছ থেকে অনেক সহায়তা পেয়েছি।

 

লোক লোকান্তর: আপনি এ অঞ্চলের ভোক্তাদের কতটুকু সচেতন করতে পেরেছে?

দেবানন্দ সিনহা:  ভক্তারা নিজেদের অধকার সম্পর্কে সচেতন ছিলেননা, তাদের সচেতনতা বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছি। এ অঞ্চলের ভোক্তারা আস্তে আস্তে সচেতন হচ্ছেন। তাদের সচেতনতা বাড়াতে সেমিনারের আয়োজন করা হচ্ছে। সদর সহ উপজেলা গুলোতে যাচ্ছি, সেখানে ভোক্তা অধিকার বিষয়ক লিফলেড বিতরন করছি। ভোক্তাদের সাথে সরাসরি কথা বলছি। তাদের অভিযোগ নিয়ে কাজ করছি। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠনকে সাথে নিয়ে ভোক্তাদের সচেতনতা বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছি। প্রায়ই বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন গুলোর সাথে আলোচনা করছি। তাদের ভোক্তা আইন সম্পর্কে জানাচ্ছি। আইন না মানলে তাদের জরিমানাসহ বিভিন্ন শাস্তির কথা বলছি।

 

লোক লোকান্তর: সামনে আপনার পরিকল্পনা কি?

দেবানন্দ সিনহা: বেশ কিছু পরিকল্পনা নিয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে ডিজিটাল করতে বদ্ধ পরিকর। ডিজিটালাইজেসনের এই সময়ে সবকিছু ইন্টারনেট ভিত্তিক হচ্ছে। তাই আমাদের সেবাগুলো নিকটবর্তী সময়ের মাঝে ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাওয়া যাবে। এপসের মাধ্যমে ভোক্তারা আমাদের কাছে অভিযোগ করতে পারবেন। এতে সময়ও বাচবে এবং অভিযোগ দেয়ার ক্ষেত্রে ভোক্তাদের আগ্রহ বাড়বে। এছাড়া আমরা সামনে কলেজ গুলোতে যেয়ে সেমিনার করার কথা ভাবছি। এতেকরে ছাত্র বয়স থেকেই ভোক্তা আইন ও অধিকার সম্পর্কে তারা জানতে পারবে।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ২:৪৬ অপরাহ্ণ | মার্চ ১৫, ২০১৭