|

প্রিজন ভ্যানে বোমা নিক্ষেপকারী মোস্তফার পরিবারকে ময়মনসিংহ পুলিশের জিঞ্জাসাবাদ সংশ্লিষ্টতা থাকলে মোস্তফার শাস্তি চায় পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ   গাজীপুরের টঙ্গিতে হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নান ও তার সহযোগীদের বহনকারী প্রিজন ভ্যানে হাত বোমা নিক্ষেপকারী মোস্তফা কামালের কৃষক বাবা মোফাজ্জল হোসেন ও তার দুই ভাইকে আটকের পর জিঞ্জাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

 

মঙ্গলবার সকালে মোস্তফার পরিবারকে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার পূর্ব পাগুলী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে আটক করে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আনা হয় এবং জিঞ্জাসাবাদ করা হয়।

 

পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম জানান, জিঞ্জাসাবাদ শেষে বিকেলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। জঙ্গি মোস্তফা কামাল গ্রেফতারের পর তার গ্রামের বাড়ি তারাকান্দায় পুলিশ তল্লাসী চালায়। কিন্তু কোনো বিস্ফোরক, জিহাদী বই, অস্ত্র কিংবা জঙ্গি সংশ্লিষ্ট কোনো কিছু পাওয়া যায়নি।

 

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে আটক মোস্তফা কামাল চার বছর পূর্বে ময়মনসিংহের তারাকান্দা বড় মসজিদ মাদ্রাসায় ক্বোরানে হাফেজ সম্পন্ন করে। এরপর দেড় বছর যাবত নরসিংদীর শেখেরচর মাদ্রাসায় কিতাব বিভাগে পড়াশুনা করছিল। সর্বশেষ সে তিন মাস আগে বাড়ী এসেছিল। এরপর আর বাড়ীর সাথে যোগাযোগ নেই।

 

Mymensingh-News--JMB-PIC-03

ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার পূর্ব পাগুলী গ্রামের মোস্তফা কামালের বাড়ি

 

 

ওই মাদ্রাসার এক শিক্ষক পুলিশকে জানিয়েছে, মোস্তফা কামাল ১০ ফেব্রুয়ারী ১০ দিনের ছুটিতে ওই মাদ্রাসা থেকে চলে আসে। এরপর থেকে তার আর কোনো হদিস নেই।

 

এদিকে পাগুলী গ্রামে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে নানা গুঞ্জন। তবে গ্রামের সহজ-সরল ছেলের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতায় হতবাক তার পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসী। কেউই ধারণা করতে পারছেন না মোস্তফা কামালের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে মোস্তফা কামাল তৃতীয়।

Mymensingh-News--JMB-PIC-01

পুত্রের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতায় কৃষক বাবা মোফাজ্জল হোসেন ক্রন্দনরত

 

এদিকে পুত্রের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতায় কৃষক বাবা মোফাজ্জল হোসেন ক্রন্দনরত কন্ঠে জানান, মোস্তফা কামাল ছোটবেলা থেকে মাদ্রাসা লাইনে পড়াশুনা করেছে। ছেলে জঙ্গি হবে এমন আচরণ কখনো বুঝতে পারেনি পরিবারের লোকজন। নরসিংদী শেখেরচর মাদ্রাসায় কিতাব বিভাগে পড়াশুনার জন্য প্রতিমাসে পনের’শ টাকা করে নিতো। অনেক কষ্ট করে টাকা যোগান দিতাম। গত ফেব্রুয়ারীতে কয়েকদিনের ছুটিতে বাড়ী আসবে বলে টাকাও পাঠিয়েছি। কিন্তু সে আসেনি।

 

মোস্তফা তখন পরিবারকে জানিয়েছে, বন্ধুদের সাথে বেড়ানো শেষে মাদ্রাসায় ফিরবে। বাড়ী আসবে না।

 

আবেগ-আপ্লুত কন্ঠে বাবা মোফাজ্জল হোসেন আরো বলেন, ‘মোস্তফা পড়াশুনা শেষ করে মাষ্টার হবে। আমার জানাযা পড়াবে। গ্রামের মানুষের জানাযা পড়াবে। এখন সবই শেষ।’ পুত্রের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতায় শাস্তি দাবি করে ওই মাদ্রাসা শিক্ষকদেরও শাস্তি দাবি করেন মোফাজ্জল হোসেন।

 

ছবিঃ লোক লোকান্তর

সর্বশেষ আপডেটঃ ৯:০০ অপরাহ্ণ | মার্চ ০৭, ২০১৭