|

প্রিজনভ্যানে হামলা ঘটনায় ময়মনসিংহের মোস্তফা কামালকে ৫ দিনের রিমান্ড

লোক লোকান্তরঃ    সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী হত্যাচেষ্টা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নান ও তার সহযোগীদের বহনকারী প্রিজনভ্যানে হামলার ঘটনায় গ্রেফতার মোস্তফা কামালকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত।

 

৭ মার্চ মঙ্গলবার আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।

 

এর আগে ৬ মার্চ বিকেলে টঙ্গীর কলেজ গেট এলাকায় এ হামলার ঘটনায় মোস্তফা কামালসহ চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন টঙ্গী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অজয় কুমার চক্রবর্তী।

 

সোমবার আদালতে হাজিরা শেষে মুফতি হান্নানসহ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার ২১ জন আসামিকে ঢাকা থেকে প্রিজনভ্যানে করে কাশিমপুর কারাগারে নেওয়া হচ্ছিল। ওইদিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে টঙ্গীর কলেজ গেট এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ওই প্রিজন ভ্যান লক্ষ্য করে দুটি বিস্ফোরক ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে মোস্তফা কামালকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার মোস্তফা ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে প্রিজন ভ্যান লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করেছিল বলে জানিয়েছেন।

 

হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশের (হুজিবি) জঙ্গিরা দেশে সাত বছরে অন্তত ১৩টি নাশকতামূলক ঘটনা ঘটায়। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১০১ জন। আহত হয়েছেন ৬০৯ জন। এসব হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন হুজিবি ও হরকাতুল মুজাহিদীনের অন্যতম শীর্ষ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান।

 

এর মধ্যে একটি হামলা ও দুটি হামলাচেষ্টার ঘটনার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া তিনি ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী হত্যাচেষ্টা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।

 

ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার পূর্ব পাগলী গ্রামের নিম্নবিত্ত এক পরিবারের সদস্য মোস্তফা কামাল। পরিবারের সে-ই একমাত্র মাদ্রাসা-পড়ুয়া। সে চার ভাই-বোনের মধ্যে তৃতীয়।

 

এদিকে, জঙ্গি মোস্তফা কামালের বাবা মোফাজ্জল হোসেন (৬০) এবং তার দুই ভাই আব্দুল মোতালেব (২৪) ও শরীফুল ইসলামকে (১৮) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে এনেছে জেলা পুলিশ।

 

মঙ্গলবার (০৭ মার্চ) দুপুরে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়ে ডাকা হয়। এর আগে সোমবার (০৬ মার্চ) রাতেই কামালের মা আছিয়া খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তারাকান্দা থানা পুলিশ।

 

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, সোমবার রাতেই মোস্তফা কামালের বাড়ি রেইড করা হয়।  বিস্ফোরক ও জঙ্গিবাদ সম্পৃক্ত বই খোঁজা হয়। কামালের সঙ্গে পরিবারের সম্পৃক্ততা রয়েছে কীনা তাও খতিয়ে দেখা হয়।

 

কিন্তু প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে পরিবারের সদস্যরা ইনোসেন্ট। তাদেরকে আটক করা হয়নি বলে জানান তিনি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৫:০৯ অপরাহ্ণ | মার্চ ০৭, ২০১৭