|

বাউকুল চাষ করে ভাগ্য পাল্টাতে শুরু করেছে চাষিদের

লোক লোকান্তরঃ  রাঙামাটি সাপছড়ি ইউনিয়নের শুকুরছড়ির বোধিপুর। গ্রাম জুড়ে শোভা পাচ্ছে কেবল বাউকুল। এখানে এবার ফলের বাম্পার ফলন হয়েছে। পাহাড়ি টিলায় ৩০ থেকে ৫০ বাগানে এবার বাউকুলের বাম্পার ফলন হয়েছ। আর একটা বাগান থেকে ১৫০ থেকে ২০০ মণ বাউকুল উৎপাদন সম্ভব। ইতিমধ্যে খরচ বাদে আয় হয়েছে অর্ধ লক্ষাধিক টাকা। ভাগ্য পাল্টাতে শুরু করেছে চাষিদের।

 

বৃহস্পতিবার দৈনিক ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বোধিপুরের গাছে গাছে প্রচুর ফল ধরেছে। কৃষি বিভাগ বলছে, গ্রামের কৃষকরা পাহাড়ি টিলায় টিলায় বাউকুল চাষ করেন। বাদুর ও পাখির কবল থেকে রক্ষা করতে জাল দিয়ে ঢেকে রাখা হয় বাগান।

 

সঠিক পরিচর্যার কারণে এবার এ ফলের বাম্পার ফলন হয়েছে। এরই মধ্যে চাষিরা বাগানের অর্ধেক বাউকুল আগাম বিক্রি করেছেন। তাতে তাদের সব খরচ বাদে আয় হয়েছে অর্ধ লক্ষাধিক টাকা। বাজারে এ ফলের চাহিদা অনেক, দামও ভালো। বোধিপুরের উৎপাদিত বাউকুল স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি হয় চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্নস্থানে। এক কেজি বাউকুল ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়।

 

উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শান্তিময় চাকমা জানান, রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলায় বাউকুল চাষ বেড়েছে। পাহাড়ি টিলায় ৩০ থেকে ৫০ বাগানে এবার বাউকুলের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনেক কৃষক পরিবার বাউকুল চাষ করে এরই মধ্যে স্বাবলম্বী হয়েছেন। একটা বাগান থেকে ১৫০ থেকে ২০০ মণ বাউকুল উৎপাদন সম্ভব।

 

রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক রমণী কান্তি চাকমা জানান, পাহাড়ের উঁচু জমি কুলচাষের উপযোগী হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে আধুনিক পদ্ধতিতে বাউকুল চাষ বাড়ানো সম্ভব। এখনো যে পরিমাণে অনাবাদী পতিত জমি রয়েছে তাতে কুল চাষ করা হলে বেকারত্ব যেমন কমবে, তেমনি অন্য অর্থকরী ফসলের সঙ্গে কুল চাষ বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

 

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সরকারিভাবে বাউকুল চাষীদের সহযোগিতা করলে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।

 

ছবিঃ  বাউকুল চাষ। সংগৃহীত

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৭