|

গৌরীপুরে কোটি টাকা নিয়ে এনজিও কর্মকর্তারা উধাও!

সাজ্জাতুল ইসলাম সাজ্জাত, গৌরীপুর থেকে:   ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার’ অনুমোদিত লিখে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধিত ডৌহাখলা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (রেজিঃ নং- ম-০১৬৭৭) নামের একটি এনজিও ময়মনসিংহের গৌরীপুরে গ্রাহকদের কোটি টাকা নিয়ে কর্মকর্তারা উধাও। এনজিও’র কার্যালয়ের সামনে টাকা ফেরতের দাবিতে ক্ষতিগ্রস্থ গ্রাহকরা দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করছে। তবে এখনও নিশ্চুপ সমাজসেবা দপ্তরের অনুমোদনকারী কর্মকর্তারা!

 

ক্ষতিগ্রস্থ গ্রাহক ও এলাকাবাসী জানান, সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে সমাজ উন্নয়নের নামে এ সংগঠনটি গ্রাহকদের অধিক মুনাফার প্রলোভন দিয়ে প্রতি মাসে ১হাজার, ২হাজার ও ৫শ টাকা জামানত নেন। যা ১০বছর, ১৫বছর ও ২০বছর মেয়াদী আমানত। এ প্রকল্প খাতে ৩৪জনের নিকট থেকে প্রায় ২৬লক্ষ টাকা জামানত সংগ্রহ করে। সঞ্চয় ও ঋণদান কর্মসূচীর অধিনে ৩৪টি ক্ষুদ্র সমিতির মাধ্যমে ৮৪০জন গ্রাহকের নিকট থেকে গড়ে ৪হাজার ৫শ টাকা করে ৩৭লক্ষ ৮০হাজার টাকা সঞ্চয় সংগ্রহ করেছে।

 

দৈনিক ও সাপ্তাহিক ভিত্তিতে ১হাজার ২৭০জন গ্রাহকের নিকট থেকে প্রায় ২২লক্ষ টাকা সঞ্চয় সংগ্রহ করেছে। ক্ষতিগ্রস্থ গ্রাহকদের গত বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর/১৬) টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও কোন কর্মকর্তাই এনজিও’র কার্যালয়ে আসেনি। ফলে বিক্ষুব্দ গ্রাহকরা ডৌহাখলা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও এনজিও কার্যালয়ের সামনে সঞ্চিত অর্থ অবিলম্বে ফেরতের দাবিতে গ্রাহকরা সমাবেশ করে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের সঞ্চয় সংগ্রহ সম্পূর্ণ অবৈধ উল্লেখ করে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন গৌরীপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ রইছ উদ্দিন জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্থদের টাকা ফেরত দিতে অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ ও সংস্থা ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

 

সংবাদপত্রের এজেন্ট মোঃ সাইদুর রহমান জানান, তিনিসহ তার এলাকার প্রায় ২শ গ্রাহক এ সংস্থার টাকা জমিয়ে আজ নিঃস্ব।

 

সমাবেশে ক্ষতিগ্রস্থ গ্রাহকরা জানান, ৭/৮মাস যাবত এনজিও’র দরজা তালা ঝুলছে। কর্মকর্তারা টাকা ফেরতের তারিখ দেয়, কেউ অফিসে আসে না। ক্ষতিগ্রস্থ গ্রাহক সভায় জানান রোমেলা আক্তারের ৪হাজার টাকা, খোকন সরকারের ২৮হাজার ৫শ টাকা, পলাশের ১৫৯৫ টাকা, লিটনের ৫১০০টাকা, স্বপ্নার ১২হাজার, রিমা রানীর ৩৬শ টাকা, শামসুন্নাহারের ১৬৩৮ টাকা, আব্দুল মান্নানের ২৩০৭টাকা, নজরুল ইসলামের ৫০হাজার টাকা জমা রয়েছে।

 

সংস্থার চেয়ারম্যান পানাটী গ্রামের মোঃ জিন্নত আলীর পুত্র মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, ঋণদান কর্মসূচীর অধিনে গ্রাহকদের নিকটও অর্থ রয়েছে, জামানতকারী অর্থ দ্রুত ফেরত দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

 

এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ মাজহারুল ইসলাম জানান, সমাজসেবার নিবন্ধন নিয়ে সঞ্চয় ও ঋণদান কার্যক্রম অবৈধ। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

এনজিও ফোরামের সভাপতি ইউএনও মর্জিনা আক্তার বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ গ্রাহকের টাকা ফেরতের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩:৩২ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ০২, ২০১৭