|

ময়মনসিংহ দেশের উৎপাদিত মাছের ২৫ শতাংশ যোগান দিচ্ছে

লোক লোকান্তরঃ   দেশে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে পুকুরে চাষকৃত মাছের উৎপাদন ছিল প্রায় ১৫ লাখ টন। এর মধ্যে শুধু ময়মনসিংহ জেলাতেই উৎপাদন হয়েছে ৩ লাখ ৭২ হাজার টন। ফলে উৎপাদিত মাছের প্রায় এক-চতুর্থাংশই উৎপাদন অর্থাৎ ২৫ শতাংশই হচ্ছে ময়মনসিংহে।

 

১৯৯৩-৯৪ অর্থবছরে জেলাটিতে মাছের উৎপাদন ছিল প্রায় ৫০ হাজার টন। বর্তমানে ময়মনসিংহ জেলাটিতে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে শুধু পাঙ্গাশ মাছের উৎপাদন ছিল প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার টন। এছাড়া কৈ ৫৫ হাজার, তেলাপিয়া ৩৪ হাজার, শিং ও মাগুর ১২ হাজার টন। পাশাপাশি গুলশা, পাবদা মাছের উৎপাদন ছাড়িয়েছে প্রায় নয় হাজার টন। বাকি মাছের মধ্যে কার্পজাতীয় যেমন রুই, কাতলা, সিলভার, মৃগেল মাছ উৎপাদন হচ্ছে।

 

বর্তমানে ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল, ভালুকা ও মুক্তাগাছা এলাকায় মাছের চাষ তুলনামুলক ভাবে বেশি হচ্ছে। ময়মনসিংহ জেলার কয়েক লাখ তরুণের পাশাপাশি কিছু বড় করপোরেট গ্রুপও বাণিজ্যিকভাবে মাছের উৎপাদন শুরু করেছে। এর ফলে এক দশক ধরে মাছ চাষে শীর্ষ জেলার স্থান ধরে রেখেছে ময়মনসিংহ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়নসাধন এবং উন্নত জাতের পোনা সরবরাহ করা গেলে বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ মাছ চাষ করা সম্ভব।

এ বিষয়ে মত্স্য অধিদপ্তরের পরিচালক ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নিত্যরঞ্জন বিশ্বাস বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মত্স্য অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক এবং মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষকরা তাদের গবেষণার প্রাথমিক ক্ষেত্রে হিসাবে এ এলাকার বিভিন্ন উপজেলাকে বেছে নিচ্ছেন। আঞ্চলিক সুবিধা থাকায় সেখানকার গবেষণালব্ধ ফলাফল খামারিরা দ্রুত রপ্ত করে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিচ্ছেন। তবে মাছ উৎপাদন টেকসই করতে পরিবেশগত ভারসাম্য আনতে হবে।

 

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা মত্স্য কর্মকর্তা আলেকুজ্জামান বলেন, ব্যক্তি উদ্যোগকে সম্প্রসারিত করতে সরকার বিভিন্নভাবে গবেষণা ও সম্প্রসারণের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করছে। খামারিদের প্রশিক্ষণ ছাড়াও নতুন নতুন প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং মাছের পোনা অবমুক্ত করছে। ফলে দেশের অনান্য জেলা থেকে এখানকার খামারিরা বেশি সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। এজন্যই চাষকৃত মাছে জেলাটি শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে। এটি টেকসই করতে মাছ চাষে বহুমুখিতা আনা ছাড়াও বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে।

 

দেশে সরকারি-বেসরকারি হ্যাচারির সংখ্যা প্রায় ৯৫০ এবং নার্সারির সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার। এর মধ্যে ময়মনসিংহ জেলায় হ্যাচারি রয়েছে ২০০টি এবং নার্সারি সাড়ে তিন হাজারের বেশি।

 

সূত্রঃ বনিকবার্তা

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩:২৫ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ২৪, ২০১৬