|

সর্বশেষ

পালাচ্ছে লোক, ঝিনাইগাতীতে বন্যহাতির তান্ডবে ১ মাসে নিহত-৮

এম খলিলুর রহমান, ঝিনাইগাতীঃ   শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলা সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারত থেকে নেমে আসা বন্যহাতির দলের আক্রমনে বাকাকুড়া, পানবর, গুরুচরণ দুধনই ও তাওয়াকোচা এলাকায় গত ১ মাসে ৮জনের প্রাণ হারায়। আহত হয় অনেক। মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি ঘর-বাড়ি, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে চলেছে বন্যহাতির দল।

 

উল্লেখ্য, বাকাকুড়া, পানবর, গুরুচরণ দুধনই ও তাওয়াকোচা গ্রামের অনেক ঘর-বাড়িতে বন্যহাতির দল তান্ডব চালায়। ওই সময় স্থানীয় লোকজন বন্যহাতির আক্রমন থেকে নিজেদেরকে আত্মরক্ষা ও তাদের ফসল বাঁচাতে ঢাক-ঢোল, মশাল ও ফটকা ফুটিয়ে হাতি তাড়াতে চেষ্টা করে।

 

কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের ঘর-বাড়ি, ফসল রক্ষা তো দূরের কথা নিজের প্রাণটা বাচাঁতে পারেনা। গতরাত সাড়ে ১২ টার দিকে একটি বন্যহাতির দল তাওয়াকোচা বিটের টিলাপাড়া গ্রামে তান্ডব চালায়। এতে নিজ বসত-বাড়িতে থাকা মমেনা বেগম (৬২) নামের এক বৃদ্ধ মহিলা বন্যহাতির ভয়ে পালানোর জন্য ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বন্যহাতির পায়ে পৃষ্টে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়।

 

এমনি ভাবে ১৪ অক্টোবর দিবাগত রাতে বন্যহাতির দল পানবর ও গুরুচরণ দুধনই গ্রামে ঢুকে তান্ডব চালালে ঘটনাস্থলেই ৩জনের মৃত্যু হয়। মৃত্যু ব্যক্তিরা হলো, পানবর ও গুরুচরণ দুধনই এলাকার জহুরুল হক (৫০), আইতুন নেছা (৪৫), আব্দুল হাই (৫৫) নিহত হয়েছেন।

 

এছাড়াও সম্প্রতি হাতির তান্ডবে যারা প্রাণ হারায় বাকাকুড়া গ্রামের কেন্তরাম সাংমার ছেলে বাসিরাম চাম্বুগং (৬০), চিবিরণ বেওয়া (৫০) ও ললেন মারাক (৬২)। এভাবেই সীমান্তে বন্যহাতির তান্ডবে কৃষকদের চলছে প্রাণনাশ।

 

বর্তমানে বন্যহাতির দল সীমান্ত অঞ্চলে অবস্থান করছে। তাই গ্রামবাসী প্রাণ বাচাঁতে গ্রাম ছেড়ে চলে যাচ্ছে অন্যত্রে। আবার কেউ বাপ-দাদার ভিটা বাড়ী ছেড়ে কোথায় যাবে। ঠাই করার জায়গা না থাকায় জীবন-মরণ বাজি রেখে নিদ্রাহীন ভাবে শঙ্কার মধ্যে রাত কাটাচ্ছেন।

 

গ্রামবাসীরা জানায়, এখানে আমাদের জীবনের কোন মূল্য নেই, যে কোন সময়ে হাতির আক্রমনের স্বীকার হতে পারে। তাছাড়া বন্যহাতির দল আমাদের ধান খেয়ে সাবার করে ফেলেছে। এখানে থেকে না খেয়ে মরার চেয়ে চলে যাওয়ায় ভাল।

 

এদিকে, গতরাতে বন্যহাতির আক্রমনে নিহত পরিবারের মাঝে শেরপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এ.কে এম ফজলুল হক সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং জানান, হাতির আক্রমণ প্রতিরোধে ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সীমান্ত এলাকায় সোলার প্যানেল শক পাইলট প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।

 

তিনি আরও জানান, ঝিনাইগাতীর ৮ কিলোমিটার এবং নালিতাবাড়ী উপজেলার পাঁচ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে স্থাপন করা হবে। ইতোমধ্যে ঝিনাইগাতীকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করে সরকারের কাছে দুই বান্ডিল টিন ও ছয় লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে বাড়িঘর মেরামত করার জন্য। এছাড়া বুনোহাতির আক্রমণে যারা নিহত হয়েছেন তাদের পরিবারকে পাঁচ লাখ ও আহতদের দুই লাখ টাকা করে অনুদান চাওয়া হয়েছে।

 

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা গোবিন্দ রায়, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সেলি রেজা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, রাংটিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন, তাওয়াকোচা বিট অফিসার মো. আশরাফুল আলম, গজনী বিট কর্মকর্তা মো. রফিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ অনেকেই। গ্রামবাসীর উদ্দেশ্যে (ডি.এফ.ও) গোবিন্দ রায় বলেন হাতির কাছ থেকে বাঁচতে হলে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে হবে। বনবিভাগের পক্ষ থেকে সকল ধরণের সহযোগীতা প্রদান করার আশ্বাস দেন।

 

ছবিঃ লোক লোকান্তর

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১:০৭ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ১৫, ২০১৬