|

তাড়াইলে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের দেশীয় অস্ত্রের মহড়া

tarail-pic-15-10-2016

আমিনুল ইসলাম বাবুল, তাড়াইল:  তাড়াইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আজিজুল হক ভূঁইয়া মোতাহার এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ও দামিহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়ার মধ্যে বিরোধকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তাঁদের এ বিরোধের জের ধরেই দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা দফায় দফায় দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে তাড়াইল সদরে মহড়া দিচ্ছে।

 

শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁরা দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে  কিশোরগঞ্জ এর তাড়াইল সদরে অবস্থান নিলে চারদিকে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে আতংকে ছুটোছুটি করতে থাকে।

 

বৃহস্পতিবার রাতেও একইভাবে উভয় পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে তাড়াইল সদরে অবস্থান নিয়ে মহড়া দেয়। এ সময় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বড় ধরনের কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে, দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপজেলা সদরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে ব্যবসায়ীসহ ক্রেতা-বিক্রেতাদের জানমালের নিরাপত্তা বজায় রাখতে তাড়াইল বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. রোকন উদ্দিন মিয়া উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহবান জানিয়ে মাইকিং করছেন।

 

জানা গেছে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আজিজুল হক ভূঁইয়া মোতাহার ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়ার মধ্যে স্থানীয় একটি জলমহালের ইজারা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সর্বশেষ, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দামিহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নকে কেন্দ্র করে এ বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নেয়।

 

বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হক ভূঁইয়া মোতাহারের সমর্থকরা থানা রোডে ও সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ূন কবির ভূঁইয়ার সমর্থকরা ডাকবাংলো রোডে অবস্থান নিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এ ঘটনায় শুক্রবার দিনভর উভয়পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে।
এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক ও দামিহা ইউপির চেয়ারম্যান মো. হুমায়ূন কবীর ভূঁইয়ার সঙ্গে শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ধলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আজিজুল হক ভূঁইয়া মোতাহার বলেন, হুমায়ূন কবীর দলীয় শৃংখলা ভঙ্গসহ আওয়ামী লীগের স্বার্থ পরিপন্থী বিভিন্ন কর্মকান্ডে সরাসরিভাবে জড়িত।

 

তাড়াইল থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) খোন্দকার শওকত জাহান জানান, ঘটনার শুরুতেই পুলিশ তাৎক্ষনিক পদক্ষেপ নেয়ায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ৫:৫৫ পূর্বাহ্ণ | অক্টোবর ১৫, ২০১৬