|

ময়মনসিংহে দম ফেলার সময় নেই প্রতিমা শিল্পীদের

স্টাফ রিপোর্টারঃ  আসন্ন দুর্গপূজা উপলক্ষে ময়মনসিংহে পূজা মন্ডপগুলোতে চলছে প্রস্তুতি। হিন্দু ধর্মের সবচেয়ে বড় উৎসব কে ঘিরে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা। তোরণ নির্মাণ, মন্ডপ তৈরি ও নানা রঙে সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন পূজা উদযাপন কমিটি।

সময় যতই দিন গরিয়ে আসছে মন্ডপ গুলোতে ততই কাজের চাপ বেরেই চলেছে। দেশের নবগঠিত অষ্টম বিভাগ ময়মনসিংহ জেলার  ১৩ উপজেলায় এবার ৭১০টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। হিন্দু ধর্মালম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে এখানকার মৃৎশিল্পের কারিগররাও ব্যস্ত সময় কাটচ্ছেন । এরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মন্ডপে প্রতিমা তৈরি, রং-তুলির ছোয়া ও সাজসজ্জার কাজ করে চলেছেন।

প্রতিমা শিল্পী নিমাই চন্দ্র দাস জানান, প্রায় ২৪ বছর ধরে বিভিন্ন এলাকার মন্দিরের পূজা উদযাপন কমিটির চাহিদ মতো তিনি প্রতিমা তৈরি করছেন। প্রতিমা তৈরির কাজ পুরোদমে চলছে। হাতে সময় কম থাকায় এখন আর দম ফেলার সময় নেই। দুর্গা, কার্তিক, সরস্বতী, লক্ষী ও গণেশের প্রতিমায় শেষ তুলির আঁচড় লাগলে সেগুলো জীবন্ত হয়ে উঠবে।

জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি আ্যাডভোকেট প্রণব কুমার সাহা, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাখাল চন্দ্র সরকার প্রতিবেদককে, জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শংকর সাহা, জানান, ময়মনসিংহ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জেলা। এখানে অতীতের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবছরও সাড়ম্বরে শারদীয় দুর্গাপূজা পালিত হবে।

জেলার ১৩ উপজেলায় মোট ৭১০টি মন্ডপে দুর্গাপূজা পালিত হবে। এর মধ্যে জেলা সদরে ১১২টি, মুক্তাগাছায় ১০৯টি, ত্রিশালে ৬২টি , ফুলবাড়ীয়ায় ৬০টি, ভালুকায় ৬০টি, হালুয়াঘাটে ৫২টি, তারাকান্দায় ৪৯টি, ঈশ্বরগঞ্জে ৪৯টি, গৌরীপুরে ৪৭টি, ফুলপুরে ৩৮টি, ধোবাউড়ায় ২৯টি, নান্দাইলে ২৫টি এবং গফরগাঁওয়ে ১৮টি মন্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৭ অক্টোবর ষষ্ঠীর মাধ্যমে ৫ দিনব্যাপী এ দুর্গোৎসব শুরু হবে এবং ১১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

জেলা পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, জেলার পূজা মন্ডপে গুলোর নিরাপত্তার বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের বেশ কয়েকবার বৈঠক হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় ব্যাপক আশ্বাস পেয়েছি।

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. খলিলুর রহমান বলেন, জেলার প্রতিটি মন্ডপে সরকারের পক্ষ থেকে যে কোন সাহায্য-সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রয়েছে। এসব এলাকার সনাতন ধর্মালম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে আমরা সবসময় সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছি।

এদিকে জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম বলেন, মন্ডপ গুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ ইতিমধ্যে  গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি মন্ডপে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।

ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪ কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি মন্ডপের নিরাপত্তায় আনসার-পুলিশের পাশাপশি র‌্যাবের নিয়মিত টহল অব্যাহত থাকবে।

ময়মনসিংহে দুর্গাপূজার আছে অতীত ইতিহাস। বিগত শতাব্দীর ৪০ এর দশকে মহাসমারোহে দুর্গাপূজা হতো ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা ও গৌরীপুর জমিদার বাড়িতে। পূজার প্রধান আকর্ষণ থাকতো যাত্রা। সপ্তমী থেকে নবমী এই তিনদিন মন্দির প্রাঙ্গণে বসতো যাত্রার আসর। দেশীয় দলের পাশাপাশি ভারতের কলকাতার দলগুলোকেও এখানে বায়না করে আনা হতো। মুক্তাগাছার জমিদারদের আয়োজনে বিজয়া দশমীর দিন আয়োজন করা হতো হাতির মিছিল।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ৪:৫৩ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৬