|

সর্বশেষ

আকুয়া’তে ৮ বছরের শিশু ধর্ষন, আটক এক

মাসুদ রানা, ময়মনসিংহ:  ময়মনসিংহ শহরের আকুয়া চৌরুঙ্গী মোড় এলাকায় ৮ বছরের এক শিশুকে ধর্ষন করেছে পাশের বাড়ীর এক বখাটে। আটক ধর্ষকের নাম রুবেল মিয়া (৩৫) পিতাঃ বাবুল মিয়া। ধর্ষনকৃত শিশু এখন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ( মমেক ) হাসপাতলের গাইনী বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।

গত বুধবার (৩১ আগস্ট) সন্ধার পর ধর্ষনের শিকার হয় এই শিশুটি। এ বিষয়ে ধর্ষিতার বাবা কাজল মিয়া বাদী হয়ে কোতুয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

ধর্ষিতার বাবা কাজল প্রতিবেদককে জানায়, আমি একজন সাধারন রিক্সা চালক। শহরে আকুয়া হেজবুল্লা পট্টির শাহজাহানের ভাড়া বাড়ীতে থেকে রিক্সা চালাই। অভাবের সংসার। তাই শিশুটিকে পাশের বাড়ীতে কাজ করতে দিয়েছিলাম। ওখানে সাড়া দিন ছোট খাটু কাজ করতো। কাজের ফাঁকে একটু সময় পেলে মেডামরাই তাকে পাড়াতো। পড়া শেষে সে বাড়ীতে চলে আসতো। কিন্তু ঐদিন কাজ শেষে প্রতিদিনের মতই, আমার মেয়ে সন্ধার পর বাড়ীতে আসার জন্য রওনা দেয়। বুধবার সন্ধার পর আমার মেয়ে পাশের বাসায় কাজ করে ফেরার পথে রুবেল তাকে জোর করে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যায় বহুতল এক ভবনের পেছনে। পরে নির্জন অন্ধকার জায়গায় নিয়ে হাত, পা বেধে তাকে ধর্ষন করে।

তিনি আরো জানান, ধর্ষনের সময় মেয়েটি চিৎকার করতে চাইলে তার মুখের ভিতর রুবেল ওড়না দিয়ে মুখ বন্ধ করে রাখে ও ছুড়ি দিয়ে তাকে ভয় দেখায়। পরে ধর্ষন শেষে মেয়েটিকে নিয়ে রুবেলের বাড়ীতে যায়। রুবেলের স্ত্রী, মেয়েটির দিকে তাকালে দেখে তার পাইজামার নিচ থেকে অজরে রক্ত জরছে। আর এদিকে ৮ বছরের মেয়েটি কাঁদছে। এক পর্যায়ে,  রুবেলকে স্ত্রী  জিঙ্গাসা করে মেয়েটির কি হয়েছে। উত্তরে রুবেল বলেন রাস্তায় বসে কাঁদছিল আমি তাকে বাড়ীতে নিয়ে আসছি। মেয়েটি সাথে সাথে বলে আমাকে মুখে ওড়না পেচিয়ে ভয় দেখিয়ে জামা, কাপড় খুলছে। এ কথা রুবেলের স্ত্রী শুনে শিশুটিকে নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ( মমেক ) হাসপাতলের গাইনী বিভাগে ভর্তি করেন। সাথে সাথে  রুবেলও যায় সেখানে।

কাজল আরো জানায়, ডাক্তার শিশুটিকে ধর্ষনের কথা জিজ্ঞাস করলে রুবেলের কথা বলে মেয়েটি। পরে তাকে হাতে নাতে আটক করে (মমেক) হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা পুলিশ। এ বিষয়ে রুবেলের বাড়ীতে খোজ নিতে গেলে পরিবারের কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই আনিসুর রহমান বলেন, ধর্ষক রুবেল মিয়াকে পুলিশ গ্রেফাতার করেছে। রুবেল জিঙ্গাসাবাদে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দী দিয়ে দোষ শিকার করেছে। তবে মেয়েটি এখনো (মমেক) হাসপাতালের গাইনী বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। এই ধর্ষনের সাথে আরো কেউ জরিত আছে কিনা তা এখনো তদন্ত চলছে। তবে ফরেনসিক বিভাগে ধর্ষনের আলামত পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট আসলে অন্য ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে (মমেক) হাসপাতালের গাইনী বিভাগের চিকিৎসক জানান, মেয়েটির অবস্থা খুব খারাপ। মারাক্তক ভাবে যখম হয়েছে। যৌনি পথে অপারেশন করা হয়েছে। তবে ভবিস্যতে মেয়েটির কখনো বিয়ে হলে বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে।

অন্যদিকে এলাকাবাসী জানায়, ধর্ষক রুবেল গত সাত মাস আগেও আরেকটি মেয়েকে সে ধর্ষন করার চেষ্টা চালায়। তবে তার সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। প্রশাসনের কাছে ধর্ষিতা’র পরিবারের দাবী, রুবেল এমন কাজ যেন আর কোন মেয়ের না করতে পারে। রুবেলের কুকর্মের উপযুক্ত শাস্তি চায় তারা । সে ব্যাপারে প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানান অসহায় পরিবারটি।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১:২৪ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০৫, ২০১৬