|

কটিয়াদীতে ঘুম নেই কামারদের, টুং টাং শব্দে মুখরিত হচ্ছে কামারশালা

katiadi-kamar pic

ছাইদুর রহমান নাঈম,কটিয়াদী থেকে: কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহৎতম উৎসব ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে ব্যস্ততা বেড়েছে কামারদের।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়,  কারিগররা দা, কুড়ালসহ লোহার যন্ত্রপাতি তৈরীতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। অধীকাংশ দোকানেই তাদের নিজেদের তৈরি যন্ত্রপাতি বিক্রি করছেন। অন্যান্য সময়ের চেয়ে ঈদুল আযহার সময় কর্মব্যস্ততা বেড়ে যায় কামারদের। কারন ঈদুল আযহার সময় পশু কোরবানিকে কেন্দ্র করে প্রচুর পরিমানে দা,চুরি,চাপাতি, কুড়াল, বটিসহ লোহার যন্ত্রপাতির চাহিদা দ্বিগুন বেড়ে যায়। তাই কর্মকারদের ওই যন্ত্রপাতির যোগান দিতে হয়। ঈদুল আজহায় সামর্থবান ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পশু কোরবানি দেবেন। ঈদে পশু জবাই, চামড়া ছাড়ানো, গোস্ত বানানোর কাজে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ধারালো দা, বটি, চাকু, ছুরি ও কাটারির।

এই মুর্হুতে কটিয়াদী উপজেলার আনাচে কানাচে, হাটে-বাজারে কামাররা এসব ধারালো অস্ত্র তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গরমলোহা পেটানোর শব্দে মুখরিত। হাটেবাজারে বা বাড়ীর পার্শ্বে, রাস্তার ধারে বসবাকারী লোকজনের ঘুম ভাঙ্গছে কামারদের লোহা পেটানো শব্দে। কামারদের তৈরী ধারালো ছুরি, চাকু ইত্যাদি কিনতে লোকজন ছুটছেন কামারদের দোকানে। তবে কামারদের তৈরী এসব পণ্যের দাম এখন আগের চেয়ে বেশি।  সরকারিভাবে সহজশর্তে
আর্থিক সহযোগিতা না থাকায় লোহা, ইস্পাত ও কয়লার মূল্য বৃদ্ধিসহ প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে এই শিল্প দিন দিন পঙ্গু হয়ে পড়ছে।

হাট-বাজারে সরঞ্জামের চাহিদা থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উৎপাদন খরচ উঠছে না। তাছাড়া বর্তমান আধুনিক যুগে সংসারে ব্যবহার্য স্টিলের নানা ধরণের সাজসরঞ্জাম বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। স্টিলের সরঞ্জাম যতই চকচক করুক সেগুলো দিয়ে তো আর ক্ষেতের ধান টাকা যাবে না। মাটি কাটা যাবে না। ক্ষেত নিড়ানী দেওয়া যাবে না। কোরবানির পশু জবাই করা যাবে না।  কামার শিল্পের তৈরি গ্রাম বাংলার গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত দ্রব্যাদি কুড়াল, দা, বঁটি, কোদাল, কাঁচি, নিড়ানি, খুন্তি, নাঙ্গলের ফলা ইত্যাদির চাহিদা শেষ হয়ে যায়নি। তবে প্রয়োজনীয় উপকরণ ও পুঁজির অভাব রয়ে গেছে।  কামারদের প্রধান উপকরণ লোহা ও ইস্পাতের মূল্যে বর্তমানে অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ শিল্পের ব্যবহার্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি যেমন হাতুড়ী, সাঁড়াশি, অ্যাংগেল, ফলা প্রভৃতির দাম ক্রয়-ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। তৈরিকৃত জিনিসপত্র বেশিদামে বিক্রি করতে না পারায় কামার শিল্পী সম্প্রদায় আজ বিপাকে। এসব সামগ্রী বিক্রির জন্য দিনের পর দিন তাদের বিভিন্ন হাটে-বাজারে আসা-যাওয়া করতে হয়। এতে সময় এবং অর্থ উভয় নষ্ট হচ্ছে।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ৯:১২ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০৪, ২০১৬