|

ভেঙে পড়েছে মদন হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছে না ডাক্তার মিলছে না ঔষধ

index

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা) থেকেঃ মদন স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি নামেই হাসপাতাল। স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত ডাক্তারগণ ক্লিনিকগুলোতে প্রাইভেট চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় হাপাতালে আগত রোগীরা টিকেট করেও চিকিৎসা না পেয়ে বাড়ি ফিরছে। সেবার মান উন্নয়নের লক্ষে্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোস্টারের মাধ্যমে ডাক্তারদের দায়িত্ব বন্টন করে দিলেও কর্মরত ডাক্তাররা তা মানছেনা। ফলে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে রোগীরা প্রাইভেট চিকিৎসা সেবার দিকে ঝুঁকছে।
হাসপাতালে আলট্রা, এক্সরে, প্যাথলজি ও দন্ত বিভাগের কোন জনবল না থাকায় প্রায় কোটি টাকা মূল্যের এসব যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ২০০৭ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সেবার মান দিন দিন অবনতি ঘটছে। এ উপজেলাটি হাওরাঞ্চলে হওয়ায় বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় প্রতিনিয়ত শত শত রোগী সেবা নিতে আসে।
রোববার সকাল ১০টায় স্থানীয় সাংবাদিকরা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সরেজমিনে গেলে শুধু স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কোন ডাক্তার পাওয়া যায়নি। অন্য ডাক্তার কোথায় আছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস’্য প্রশাসক স’ানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে বিভিন্ন ক্লিনিকে ছোটাছুটি করতে থাকেন। দুপুর ১২টায় মেডিকেল অফিসার ডাক্তার সাদিকুর রহমান, ডাক্তার মোস্তাফিজুর রহমান ও ডাক্তার জহির্বল ইসলামকে বর্হিবিভাগের চেম্বারে ডুকতে দেখা যায়। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে রোস্টারে ডাক্তারদের দায়িত্ব বন্টন করে দেয়া আছে। আজ রোস্টার অনুযায়ী আমাদের সেবা দেয়ার কথা নয়। তবে রোস্টার অনুয়ায়ী দায়িত্ব পালন করলে সেবার মান বাড়বে বলে তারা জানান। রোববার রোস্টারে যাদের দায়িত্ব পালন করার কথা তাদের মধ্যে ডাক্তার নেসার আহম্মেদ খান আশেকীন, ডাক্তার তাপস বিশ্বাস তারা দুজনেই অনুপসি’ত।
একমাত্র গাইনী ডাক্তার নাদিয়া নাসরিন সবসময় ক্লিনিকগুলোতে প্রাইভেট রোগী দেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় হাসপাতালে আগত গাইনী রোগীরা ডাক্তার না পেয়ে নিরাশ হয়ে বিনা চিকিৎসায় বাড়ি ফিরছে। রোববার স্বাস’্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা মদন বাজার থেকে শাকিয়া আক্তার, লায়লা আক্তার, নাসিমাসহ আরো অনেকে জানান, আমরা ১ ঘন্টা যাবৎ গাইনী ডাক্তারকে দেখানোর জন্য অপেৰা করছি, আসবে বলে আর আসছে না, তাই বাধ্য হয়ে চিকিৎসা না নিয়েই নিরাস হয়ে বাড়ি ফিরছি। আবার অনেকে প্রাইভেট ক্লিনিকে নাদিয়া সুলতানাকে দেখাচ্ছেন।
হাসপাতালে ২দিন ধরে ভর্তি ডায়াবেটিস রোগী শাহেরা আক্তার, আটপাড়া উপজেলার দেওশ্রী গ্রামের পেট ব্যথা রোগী নজর্বল ইসলাম, রোগী শিশু রামিমের মা জেসমিন আক্তার জানান, সকাল ১২টা ওইছে এহন লাগাত আমরারে কোন ডাক্তার দেখছে না আমরা গরীব মানুষ আমরার কপালে কোন ঔষধও মিলে না। এভাবেই চলতাছে হাসপাতালের স্বাস’্য সেবা। এ ব্যাপারে সিনিয়র স্টাফ নার্স নাসরিন সুলতানার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এখানে ১০ জন নার্স কর্মরত থাকার কথা, ২ জন মাতৃত্ব কালীন ছুটিতে, স্টাফ নার্স স্মৃতি বেগম সাময়িক ভাবে বহিঃস্কার ও বাকীরা ডেপুটেশনে রয়েছে। আমি একাই তিন মাস ধরে কোন ভাবে ওয়ার্ডের রোগীদের সেবা দিচ্ছি।
স্বাস’্য প্রশাসক ডাক্তার আব্দুল কদ্দুছ জানান, হাসপাতালে মোট ১৪ জন ডাক্তার কর্মরত আছেন। এর মধ্যে ডেপুটেশনে নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে ডাক্তার জীবন কৃষ্ণ, ডাঃ মাহমুদুর রহমান রয়েছেন। প্রশিক্ষণে রয়েছে ডাঃ কাউছার আমিন ভূইঁয়া বাকীরা পর্যায় ক্রমে চিকিৎসা দিচ্ছেন। রোববার সকালে তিনি ছাড়া অন্য কোন ডাক্তার কর্মরত অবস’ায় না থাকার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, রোস্টার অনুযায়ী যারা চিকিৎসা দিচ্ছেন না তাদের বির্বদ্ধে ব্যবস’া নেয়া হবে।
কিছুদিন আগেও সরেজমিনে গেলে দেখা যায় এ হাসপাতালের বর্হিবিভাগে প্রতিদিন আড়াই থেকে ৩শ রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে আসত। বর্তমানে সেবার মান না থাকায় ৫০-৬০ জন রোগী আসছে। কর্মরত ডাক্তারগণ হাসপাতালে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেই প্রাইভেট রোগী দেখতে ক্লিনিকগুলোতে সময় ব্যয় করছেন বেশি। ফলে হাসপাতালে আগত রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ৮:২৩ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০৪, ২০১৬