|

সর্বশেষ

গফরগাঁওয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উন্নয়ন তহবিলের টাকা আত্মসাতসহ বিস্তর অভিযোগ

আজহারুল হক, গফরগাঁও
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে চরআলগী ইউনিয়নের ২১ নং শরীফ ফরাজি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) মোশারফ হোসেন আলমগীরের বির্বদ্ধে বিদ্যালয় উন্নয়নের ৪০ হাজার টাকার মধ্যে দুই হাজার টাকার রং ক্রয় করে তা বিদ্যালয়ের দেয়ালে লাগিয়ে বাকি টাকা আত্মসাত, বিদ্যালয়ে না এসে অগ্রিম শিক্ষক হাজিরা খাতায় স্বাৰর করে রাখা, ১৫ আগষ্টে জাতীয় শোক দিবস পালন না করে সকাল ১১টায় বিদ্যালয়ে তালা লাগিয়ে চলে যাওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতেরও অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বাড়ি ঘেরাও এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির সাথে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটেছে।
সরেজমিনে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন (চলতি দায়িত্ব) গত বুধবার থেকে  শনিবার পর্যন্ত শিক্ষক হাজিরা খাতায় অগ্রিম স্বাৰর করে রেখেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, বিদ্যালয় সু-সজ্জিত করার জন্য বরাদ্দকৃত ৪০ হাজার টাকার মধ্যে প্রধান শিক্ষক মাত্র দুই হাজার টাকার রং ক্রয় করে বিদ্যালয়ের দেয়ালে সেই রং লাগিয়ে বাকি টাকা তিনি আত্মসাত করেছেন। টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে অন্য শিক্ষকদের সাথে র্দূব্যবহার করেন। এছাড়াও শিক্ষকরা জানান, দীর্ঘদিন যাবত প্রধান শিক্ষক আলমগীর বিদ্যালয়ে না এসে হাজিরা খাতায় অগ্রিম স্বাৰর করে আসছেন।
সরকারের কঠোর নির্দেশ থাকার পরেও ১৫ আগষ্ট কেন জাতীয় শোক দিবস পালন না করে বিদ্যালয়ে তালা লাগানো ছিল এমন প্রশ্নে শিৰকরা বলেন, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে তালা লাগিয়ে চলে গেলে আমাদের কি করার আছে। তারপরেও আমরা আমাদের সাধ্য অনুযায়ী শোক দিবসের কর্মসূচী পালন করেছি।
শিৰার্থীদের উপবৃত্তির টাকা কম দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে শিৰকরা জানান, প্রধান শিৰক উপবৃত্তি বিতরণকালে তিনি প্রত্যক শিক্ষার্থীকে ৪’শ থেকে ৬’শ টাকা হারে কম দেন। এ ঘটনায় অভিভাবক ও স’ানীয়রা তাকে অফিস কৰে আটক করে বাহির থেকে তালা ঝুলিয়ে দেন। খবর পেয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম ঘটনাস’লে উপসি’ত তাকে উদ্ধার করেন। পরে কম দেওয়া অনেক শিক্ষার্থীকে পূনরায় তিনি টাকা দিয়ে দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক আলমগীরের (০১৮১৪৪০৩০৯৯) মুঠোফোনে কথা বলে অগ্রিম কেন স্বাৰর করেন জানতে চাইলে তিনি স্বীকার বলেন, ভূলক্রমে অগ্রিম হাজিরা খাতায় স্বাৰর করে ফেলেছি। এমনটা আর হবে না। বিদ্যালয়ের ৪০ হাজার টাকার মধ্যে দুই হাজার টাকার রং ক্রয় করে বাকি টাকা আত্মসাত করেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, রং ক্রয় ব্যাতিত লাগানো বাবদ আরো কিছু টাকা খরচ হয়েছে বাকি টাকা শিগগির বিদ্যালয়ে ফেরত দেব। জাতীয় শোক দিবস পালন না করার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন, সকালে বিদ্যালয়ে পৌছে জাতীয় শোক দিবস পালন করে দুপুর ১১টার সময় বিদ্যালয়ের একটি কৰ খোলা রেখে বাকিগুলোতে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। আর যে সকল শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তির টাকা কম পেয়েছিল তাদেরকে পূনরায় ওই টাকা দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শরীফ ফরাজি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আজিজুল ফরাজি অভিযোগ করে বলেন, প্রধান শিৰক কাউকে পরোয়া করেন না। বরং দম্ভোক্তি করে বলেন, আমি বরখাস্ত হলে আরো ভালো। বাড়িতে বসে বসে বেতন পাবো।
বিষয়টি জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ার্বল ইসলাম সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রধান শিক্ষককের বির্বদ্ধে সকল অভিযোগের তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে যথাযথ ব্যবস’া নেওয়া হবে।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ৯:২৪ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০৩, ২০১৬