|

স্কুলছাত্রীকে উত্যক্তের জের নেত্রকোনায় দুই গ্রামবাসী মূখোমূখি পাল্টাপাল্টি মামলা, এলাকায় আতঙ্ক

নেত্রকোনা প্রতিনিধি ঃ সদর উপজেলার লক্ষিগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে বখাটের উত্যক্ত করার জের ধরে আতকাপাড়া ও লক্ষিগঞ্জ রামপুর গ্রামবাসী মূখোমূখি অবস্থানে আছে। এ নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে দু’দফা সংঘর্ষও হয়েছে। সংঘর্ষে স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, স্কুল ও কলেজ ছাত্রসহ উভয় পৰের অন্তত ১৫জন আহত হয়েছে। এ নিয়ে এক পৰ অপর পক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টপাল্টি মামলা করেছে। এলাকার সাধারণ মানুষ, স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। মেয়েরা বিদ্যালয়ে যেতে ভয় পাচ্ছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার আতকাপাড়া গ্রামের লক্ষিগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে লৰিগঞ্জ রামপুর গ্রামের এক বখাটে যুবক বেশকিছুদিন ধরে উত্যক্ত করে আসছিল। এ নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে দুই দফা সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারিণ সম্পাদক ফেরদৌস মিয়া, নেত্রকোনা উন্মেষ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র সাকিবুল হাসান তানভীর, কলেজ ছাত্র রায়হান ও রিয়াদসহ উভয় পৰের অন্তত ১৫জন আহত হয়। আহতদের ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ফেরদৌসহ কমপৰে তিনজন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এ নিয়ে এক পক্ষ অপর পৰের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে। স্কুল ও কলেজ ছাত্রে ওপর হামলার ঘটনায় তানভীরের বাবা আবুল কালাম আজাদ গত শনিবার লক্ষিগঞ্জ রামপুর গ্রামের ৯জনের নাম উলেৱখ ও অজ্ঞাত ৭-৮জনকে আসামী করে নেত্রকোনা মডেল থানায় মামলা করেন। অন্যদিকে গত রোববারের হামলার ঘটনায় ফেরদৌসের ভাই কবীর বাদী হয়ে ২৯ নাম উলেৱখ ও অজ্ঞাত ২৫জনকে আসামী করে নেত্রকোনা থানায় অপর একটি মামলা করেন। ওই মামলায় জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও লৰিগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল কাদের সুজাকে আসামী করা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকেই দুই পৰের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকার ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে যেতে ভয় পাচ্ছে। সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম কামর্বল হাসান শাহীন এলাকায় গিয়ে দুই পৰকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। অন্যদিকে স’ানীয় একটি মহল এলাকার নিরীহ মানুষকে মামরায় জড়িয়ে হয়রানী করার জন্য তৎপর হয়ে উঠেছে।
স’ানীয় হাজি ফয়েজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিৰক আজহার্বল হক তুহিন বলেন, সংঘর্ষে আহত হয়ে কয়েকজন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। ছাত্রীদের স্কুলে না যাওয়ার মত কোন পরিবেশ নেই। একটি মহল নিরীহ মানুষকে হয়রানীর চেষ্টা করছে।
সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম কামর্বল হাসান শাহীন বলেন, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে এত বড় হামলার ঘটনা খুবই দুঃখজনক। ঘটনার পর আমি এলাকায় গিয়েছিলাম। এ নিয়ে আর নতুন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য সবাইকে শান্ত থাকার কথা বলেছি।
নেত্রকোনা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. আবু তাহের দেওয়ান জানান, দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। এ ঘটনায় দুই পৰই থানায় মামলা করেছে। ঘটনায় জড়িত নয় এমন কোন নিরীহ মানুষকে হয়রানী করা হবে না।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ৮:১৬ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০২, ২০১৬