|

সর্বশেষ

একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে উদ্ধর্তন পদে দায়িত্ব দেয়ায় ক্ষুদ্ধ বিনার কর্মচারীরা

স্টাফ রিপোর্টার:  একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযুক্ত বাংলাদেশ পরমানু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এর সহকারী পরিচালক (অর্থ) মোঃ মনজুরুল হোসেন খানকে আজ মঙ্গলবার উপ-পরিচালক (প্রশাসন ) মোঃ আবদুল লতিফ সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক পত্রে উপ-পরিচালক (অর্থ) চলতি দায়িত্বে পদায়ন করায় বিনার কর্মকর্তা/কর্মচারীদের মধ্যে তোলপাড় চলছে। তারা নিয়ম বর্হিভুতভাবে পদায়ন করার ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

৬ আগস্ট, ১৯৯১ সালে সহকারী পরিচালক (প্রশাসন ) মোঃ আজিজুল হক হিসাব সহকারী তথা ক্যাশিয়ার মোঃ মনজুরুল হোসেন খানকে অনিয়মের জন্য কৈফিয়ত তলব করা হয়। তার সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় পরবর্তীতে এই ধরণের কার্যকলাপ পুনরাবৃত্তি ঘটলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সর্তককরণ করা হয়। পরবতীতে মোঃ মনজুর্বল হোসেন খানের বির্বদ্ধে ২৩/০৩/১৯৯৯্‌ ইং সালে পুনরায় আর্থিক অনিয়মের ৫টি অভিযোগ আনা হয়। যা আজো নিস্পত্তি হয়নি। পরবতীতে ১৩/০৪/২০১৪ ইং তারিখে বিনা কর্মচারী সমিতি সহকারী পরিচালক (অর্থ) মোঃ মনজুরুল হোসেন খান এর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আনলে উপ-পরিচালক (প্রশাসন ) মোঃ আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। পিএসও এবং ইলেকট্রনিক্স শাখার প্রধান ড. মোঃ শরীফুল হক ভুইয়াকে প্রধান করে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মহাপরিচালক বরাবরে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে তদন্ত না করার জন্য অভিযুক্ত মোঃ মনজুরুল হোসেন খান আদালতের আশ্রয় নেন।

ময়মনসিংহ সিনিয়র জজ আদালতে গত ৬/৮/২০১৪ ইং তারিখ অন্যপ্রকার মামলা করেন। মামলা নং ২৮৪/২০১৪ । মামলাটি চলমান। এব্যাপারে বিজ্ঞ আদালত কোন নির্দেশ দেননি। এর থেকে রহস্যজনক কারণে তদন্ত কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। গত ২২-১২-২০১৪ ইং বিনার চাকুরী প্রবিধানমালা ১৯৯০ এর আচরণ ও শৃংখলা বিধি ৪৩ ধারা মোতাবেক মোঃ মনজুরুল হোসেন খান এর বির্বদ্ধে দায়েরকৃত বিভাগীয় মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ হয়ে মহাপরিচালক এর দপ্তরে রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে তার বির্বদ্ধে শাস্তি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এত সব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সংশিৱষ্ট কর্র্তৃপৰ মোঃ মনজুরুল হোসেন খানকে উপ পরিচালক (অর্থ) পদে চলতি দায়িত্ব প্রদান করেন। বিনার কর্মচারী সমিতির সভাপতি আলতাফ মাছউদ ও সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান এব্যাপারে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, বিনার প্রবিধান মালা ১৯৯০ এর ৪৫(১) এবং চাকুরী বিধি অনুযায়ী এটা সর্ম্পুন নিয়ম বর্হিভুত, আমরা অবিলম্বে এ আদেশ বাতিলের দাবী জানাই। আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত বর্তমান উপ পরিচালক (অর্থ) মোঃ আবু লায়েছকে নিম্ন পদে পদায়ন করা হয়েছে। একই অভিযোগে অভিযুক্ত মোঃ মনজুর্বল হোসেন খানকে সহকারী পরিচালক (অর্থ) থেকে উপ পরিচালক (অর্থ) উর্দ্ধতন পদে পদায়ন করা হয়েছে।
উলেৱখ্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের তদন্তে বিনার ৬ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলেও শুধুমাত্র উপ পরিচালক (অর্থ) মোঃ আবু লায়েছ এর বির্বদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বাকীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
এব্যাপারে উপ-পরিচালক (প্রশাসন ) মোঃ আবদুল লতিফ সিদ্দিকী জানান, মোঃ মনজুর্বল হোসেন খানকে পদন্নোতি দেয়া হয়নি। টেকনিক্যাল কারণে অতিরিক্ত দায়িত্ব না দিয়ে চলতি দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এব্যাপারে বিনার মহাপরিচালক ড. শমসের আলী বলেন, মোঃ মনজুরুল হোসেন খানকে আপাতত কোন পদায়ন করা হচ্ছে না।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ৯:৫১ অপরাহ্ণ | আগস্ট ৩০, ২০১৬