|

সর্বশেষ

যারা জঙ্গি হামলার সাথে জড়িত তাদের বোঝানো হয়েছে ইহকাল কিছুই না, পরকালই সব

এইচ.এম জোবায়ের হোসাইন, ত্রিশাল:   ‘বর্তমানে দেশে যারা জঙ্গি হামলার সাথে জড়িত তাদের বোঝানো হয়েছে ইহকাল কিছুই না, পরকালই সব। ফলে তারা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পরকালে যেতে চায়। কিন্তু কবি নজরুল সবসময় ইহকালকে গুরুত্ব দিয়েছেন। নজরুল আমপারার অনুবাদ করেছেন। কারণ ইসলাম একটি পবিত্র ধর্ম, সেই ধর্ম কীভাবে সঠিকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায় সেইদিক বিবেচনা করেই তিনি আমপারার অনুবাদ করেন। তাঁর অনুবাদের ভাষা ছিল প্রাকৃতিক। আমরা প্রকৃতিকে যেভাবে দেখি, যেভাবে প্রকৃতিকে চিনি ঠিক সেভাবে তিনি আমপারার অনুবাদ করেছিলেন।’
কথাগুলো বলেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহীত উল আলম।
তিনি আরও বলেন, ‘কবি নজরুলকে একইসাথে নশ্বর জীবন এবং বিরহ আকর্ষণ করত। ফলে পরস্পরবিরোধী আকর্ষণে কবি নজরুল রিদ্ধ হয়েছিলেন। এছাড়া তিনি মৃত্যুকে ছোট করে ও জীবনকে বড় করে দেখেছেন। আমাদেরও একইভাবে জীবনকে অর্থাৎ ইহকালকে গুরুত্ব দিতে হবে।’ তিনি আরো বেশি বেশি নজরুল চর্চার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন এবং আগস্টের শোককে শক্তিতে রূপান্তরের আহ্বান জানান।
তিনি শনিবার জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪০তম প্রয়াণ দিবস উদ্যাপন উপলক্ষ্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে গাহি সাম্যেও গান মঞ্চের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।
দিবসটি উপলক্ষ্যে সকালে প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়, বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
বিকেলে গাহি সাম্যের গান মঞ্চে কবির জীবন ও কর্মের উপর এক আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর এ এম এম শামসুর রহমানের সভাপতিত্বে মুখ্য আলোচক হিসেবে আলোচনা করেন কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো: মাহবুব হোসেন, আলোচক হিসেবে আলোচনা করেন যথাক্রমে পরিচালক (ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা) প্রফেসর ড. মো: নজরুল ইসলাম,  পরিচালক (গবেষণা) প্রফেসর ড. বিজয় ভূষণ দাস। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ফোকলোর বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ মেহেদী উল্লাহ।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় উপ-পরিচালক(জনসংযোগ), উপাচার্য দপ্তরের এস.এম. হাফিজুর রহমান জানান, আলোচনা সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব নজরুল স্টাডিজ বৃত্তি প্রদান করা হয়। ২০০৯-২০১০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) নিয়মিত শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারকারী ৮ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে ১২৫০০/= টাকার চেক ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। বৃত্তি প্রদান করেন ইন্সটিটিউট অব নজরুল স্টাডিজ-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ও উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহীত উল আলম।
বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থী যথাক্রমে কলা অনুষদের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ইফ্ফাত আরা ইভা, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের এ.কে.এম. মাসুদুল মান্নান, চারুকলা বিভাগের দিদারুল হোসাইন লিমন, সঙ্গীত বিভাগের রুমঝুম বিজয়া রিছিল; বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শান্তা মারিয়া শিথিল; সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অর্থনীতি বিভাগের সাবিকুন্নাহার বন্যা; ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের নিবেদিতা দত্ত, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের আসলাম মাহমুদ কে ‘ইন্সটিটিউট অব নজরুল স্টাডিজ বৃত্তি’ প্রদান করা হবে। অনুষদ ভিত্তিক বৃত্তি সমূহ হচ্ছে: কলা অনুষদ-প্রমীলা বৃত্তি ,ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ-বুলবুল বৃত্তি, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদ-কাজী সব্যসাচী বৃত্তি, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ- কাজী অনিরুদ্ধ বৃত্তি। ভালো ফলাফলের স্বীকৃতিস্বরূপ গত ২০১৫ সাল থেকে এই বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০:৩০ অপরাহ্ণ | আগস্ট ২৭, ২০১৬