|

শ্রীবরদীতে ভূয়া সনদে মাদরাসায় চাকুরী করছে এক শিক্ষক !

 

শ্রীবরদী প্রতিনিধিঃ
শেরপুরের শ্রীবরদীতে এক মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভূয়া সার্টিফিকেট দিয়ে শিক্ষকতা করার অভিযোগ উঠেছে। আর এ ঘটনায় সচেতন মহলের মাঝে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল হালিম উপজেলার ভটপুর সিনিয়র আলিম মাদরাসার সহকারী শিক্ষক (ইংরেজী) বিষয়ের উপর কর্মরত রয়েছে। একাধিক সূত্রে জানা যায়, আব্দুল হালিম যার ইনডেক্স নং- ২১১৫২০৬। ২০১৬ সালের জানুয়ারী মাসের এমপিও’তে ভূয়া সার্টিফিকেট দাখিল করেন। তিনি শ্রীবরদী উপজেলার ভারেরা এসপি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৮ সালে বিজ্ঞান বিভাগ হতে প্রথম শ্রেণিতে এস.এস.সি পাশ করলেও ২০০৩ সালে শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগ হতে ২.১০ জিপিএ নিয়ে প্রাইভেট পরীক্ষায় এইচ.এস.সি পাশ করেন। এমপিও ভূক্তির সময় সেই শিক্ষক ময়মনসিংহ সরকারি আনন্দ মোহন কলেজের একই নামধারী ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষে রোল নং- ৬১০৯১১, রেজিঃ নং- ৮১৯৬৩৭ অর্নাসের দ্বিতীয় শ্রেণির সার্টিফিকেট ব্যবহার করেন। কিন’ নিয়োগের সময় তিনি দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট ব্যবহার করেন। যা সরকারি নিয়ম বর্হিভূত। সরকারি আনন্দ মোহন কলেজের ওই সার্টিফিকেটের প্রকৃত ছাত্র আব্দুল হালিম, পিতা- আব্দুর রহমান, মাতা- খালেদা রহমান, গ্রাম+পোষ্ট- কেওয়াটখালি, উপজেলা+জেলা- ময়মনসিংহ। তিনি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার জহির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (ইংরেজী) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এ প্রসঙ্গে ভূয়া সনদে চাকুরী করা শিক্ষক আব্দুল হালিম জানায়, দীর্ঘদিন যাবত এমপিও না থাকায় আমি শেরপুরের দরিপাড়া দাখিল মাদরাসার অফিস সহকারী সেলিম মিয়াকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম। সে কিভাবে কাজ করেছে তা আমার জানা নেই। তিনি এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন। বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহের সরকারি আনন্দ মোহন কলেজের ইংরেজী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আফসান আতকিয়া জানায়, এইচ.এস.সি প্রাইভেট পাসকৃত কোনো শিক্ষার্থীই অনার্সে ভর্তি হতে পারবে না। শ্রীবরদী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আলম তালুকদার বলেন, আমার কাছে যে ফাইল দেওয়া হয়েছে তা দেখে আমি পাঠিয়ে দিয়েছি। সার্টিফিকেট জাল কিনা তা আমার পরীক্ষা করার সুযোগ নেই। ভটপুর সিনিয়র আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম বলেন, এমন কাজ দেশে অনেক হচ্ছে। এটা তেমন কিছু না। অনেক কাগজের ভিড়ে ওই সার্টিফিকেট ফটোকপি কিভাবে সত্যায়িত করেছে তা আমি জানি না। মাদরাসা ব্যবস’াপনা কমিটির সভাপতি আব্দুল্লাহেল মনির বলেন, আমার পূর্বের কমিটি যে কাগজে তাকে নিয়োগ দিয়েছে আমি সেই কাগজেই স্বাক্ষর দিয়েছি। শ্রীবরদীর সচেতন মহল অতি অবিলম্বে ভূয়া সনদে চাকুরী নেওয়ার ঘটনার সুষ্ঠু তদনে-র মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস’া গ্রহণের দাবী জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ৮:০১ অপরাহ্ণ | আগস্ট ২৩, ২০১৬