|

সর্বশেষ

এবার কোরবানির পশুর হাটে থাকবে ১ হাজার মেডিকেল টিম

অনলাইন ডেস্ক : কোরবানির পশুর শরীরে ক্ষতিকর উপাদান পরীক্ষায় সব সিটি করপোরেশনসহ দেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়ে পশুর হাটে এক হাজার মেডিকেল টিম নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

কোরবানির পশুর হাটে সুস্থ-সবল গবাদিপশু সরবরাহ ও বিক্রয় নিশ্চিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে রবিবার মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাকসুদুল হাসান খান এতে সভাপতিত্ব করেন।

সভা শেষে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক অজয় কুমার রায় এ তথ্য জানান। গত বছর ৮৯৪টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

অজয় কুমার রায় বলেন, ‘সকল সিটি করপোরেশনসহ দেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়ে গরুর হাটে এক হাজার ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম থাকবে বলে সভায় প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রতিটি টিমে একজন পশু চিকিৎসক ও আরও দুইজন সহকারী থাকবেন।’

‘পশু চিকিৎসক দল হাটে একটি বুথে চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে অবস্থান করবেন। পশুর শরীরে ক্ষতিকর উপাদান পরীক্ষাসহ কোন অসুস্থ প্রাণী পেলে তারা শনাক্ত করে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করবে’ বলেন তিনি।

মহাপরিচালক বলেন, ‘মেডিকেল টিমগুলো কোরবানি ঈদের আগের দিন পর্যন্ত তিনদিন পশুর হাটে অবস্থান করবে। উপজেলা পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি হাটে মেডিকেল টিম থাকবে।’

গত বছর কোরবানির সময় ৯৬ লাখ ৩৫ হাজার পশু (গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া) প্রয়োজন হয়েছিল জানিয়ে অজয় কুমার রায় বলেন, ‘মাঠ পর্যায় থেকে প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী এ বছরে কোরবানি যোগ্য হৃষ্টপুষ্ট গরু-মহিষের সংখ্যা প্রায় ৩৩ লাখ। গরু-মহিষ ও ছাগল ভেড়াসহ মোট কোরবানিযোগ্য গবাদি পশুর সংখ্যা এক কোটি ৪ লাখ।’

পশু চিকিৎসকদলের কার্যক্রম তদারকির জন্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক মনিটরিং টিম গঠনের বিষয়েও সভায় সিদ্ধান্ত হয়।

কোরবানি ঈদের আগে অতি মুনাফার আশায় অনেক অসাধু ব্যবসায়ী ক্ষতিকর স্টেরয়েড ব্যবহার করে গরু মোটাতাজা করে থাকে। এ ধরণের গরুর মাংশ মানুষের শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর বলে জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তারা।

২০১৪ সালে আদালতের নির্দেশে প্রথম সিটি করপোরেশনসহ দেশের জেলা-উপজেলায় কিছু কিছু হাটে পশু পরীক্ষায় চিকিৎসক দল রেখেছিল প্রাণিসম্পদ অধিদফতর।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহ আলম বাদশা জানান, সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, কোরবানি ঈদের আগে পশু মোটাতাজাকরণের ওষুধ যাতে বিক্রি করা না হয় সেজন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি লিখে অনুরোধ জানানো হবে।

এছাড়া পশু মোটাতাজাকরণে স্টেরয়েড, হরমোন ইত্যাদি ব্যবহারে কুফলের দিক তুলে ধরে এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর বিষয়েও সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পাশাপাশি ইসলামি বিধানানুযায়ী কোরবানির অযোগ্য অসুস্থ ও ত্রুটিযুক্ত গবাদি পশু যাতে হাট-বাজারে বিক্রি হতে না পারে, সেজন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সারাদেশের মসজিদে প্রচারণা চালানোর বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ৬:১৬ পূর্বাহ্ণ | আগস্ট ১৭, ২০১৬