|

সর্বশেষ

শ্যামগঞ্জ-পূর্বধলা সড়ক ৩৬ কিঃ মিঃ সড়ক পারি দিতে সময় লাগে ৪ঘন্টা

 

তিলক রায় টুলু পূর্বধলা থেকেঃ ৬ আগস্ট ২০১৬, শনিবার

শ্যামগঞ্জ-পূর্বধলা দূর্গাপুর সড়ক জুড়ে হাজারো ছোট বড় গর্ত এবং খানা খন্দের সৃাষ্ট হয়েছে। কোথাও কোথাও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আর এ সব বড় বড় গর্তে পানি জমে সমস্ত রাস্তা জোরে পুকুরের মত সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এ সড়কে যানবাহন চলে হেলে দুলে আর ৩৬ কিঃ মিঃ সড়ক পারি দিতে সময় লাগে ৪ ঘন্টা।
সাধারন মানুষকে এ সব পুকুর পার হতে অন্যের দোকানের বারান্দা দিয়ে হেটে যেতে হয়। আর যাত্রীবাহী বাস সিএনজি মাইক্রোবাস অটো রিকসা থেকে যাত্রী নামিয়ে তার পর এ সব গর্ত পার হতে হয় বলে জানান বাস যাত্রী মামুন মিয়া। পুরো বর্ষা কাল এ অবস’ায় চললেও সড়ক জনপথ বিভাগ রাস্তা গুলো মেরামতের জন্য তেমন কোন উদ্যোগ নেয়নি।
শ্যামগঞ্জ-দুর্গাপুর সড়কটি পূর্বধলা ও দূর্গাপুর উপজেলার প্রায় ৪ লক্ষ মানুষের এক মাত্র সড়ক পথ। ফলে জীবনের ঝুকি নিয়ে প্রতি নিয়ত এ দুই উপজেলার সাধারন মানুষ এ সড়ক পথে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে।
বাস ড্রাইভার জাকির হোসেন জানান রাস্তার অবস্থা এতটাই বেহাল যে এ সড়কে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের যানবাহন বিকল ও দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।এ ছাড়া বেহাল রাস্তায় বিকল হয়ে পড়ে থাকতে দেখা য়ায়। এ সময় যাত্রীদের বিরম্ভবনার শেষ থাকে না। আর কোন জরুরী রোগী হলে তার জীবন শংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।
শ্যামগঞ্জ -পূর্বধলা দূর্গাপুর সড়কে প্রতিদিন যাত্রীবাহী বাস, বালু, মাটি, পাথর, কয়লা, ভর্তি শত শত ট্রাক সহ সিএনজি মাইক্রোবাস, অটোরিকসা সহ বিভিন্ন ধরনের যান বাহন চলাচল করে থাকে।
শ্যামগঞ্জ থেকে পূর্বধলা উপজেরার দূরত্ব ১২ কিঃমিঃ। আর পূর্বধলা থেকে দূর্গাপুর পর্যন্ত দূর্বত্ব হলো মাত্র ২৪ কিঃ মিঃ। কিন’ এ ৩৬ কিঃ মিঃ রাস্তা পারি দিতে যে কোন যানবাহন কে ৪/৫ ঘন্টা পর্যন্ত সময় লাগে।
সরেজমিনে দেখা যায় শ্যামগঞ্জ বাজার পার হয়ে ফাজিলপুর বাজার, বালুচরা বাজার রাজার বাজার ও পুর্বধলা চৌরাস্তা পার হলে বিপজ্জনক বড় বড় গর্ত। তারপর বামনখালী ঢেউটোকোন এরপর ভোটবাজার,ভোটবাজার থেকে এম পি’র বাড়ী পর্যন্ত চোখে পড়ে ১০-২০ গজ পর পর একেটি গর্ত ,পাঁচ সাত ফুট পর্যন্ত গভীর। এখানে বালু ভর্তি ট্রাক আটকে রাস্তা বন্ধ হযে য়ায় বলে জানান ট্রাক চালকরা।
হাজং মাতা রাশি মনি কল্যান পরিষদের সাধারন সম্পাদক স্বপন হাজং বলেন, ২০১৩ সালে এই রাস্তার কাজ শেষ হয়েছে, মাত্র কয়েক বছরে রাস্তা শেষ। এলাকাবাসীর দাবী রাস্তা সংস্কারের কাজ সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে হোক ।
পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূর হোসেন সজল জানান রাস্তাটি অচল হয়ে পড়ায় প্রশাসনিক কাজকর্ম মারাত্নক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তিনি জানান উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নের মধ্যে ৮ টি ইউনিয়নের সাথে যোগাযোগের জন্য এ রাস্তাটি ব্যবহার করতে হয় ফলে জর্বরী প্রয়োজনে পরিদর্শন করাও সম্বব হয়না । ফলে রাষ্ঠ্রীয় কাজকর্ম ব্যাগাত সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি আরো জানান ইতি মধ্যে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রাস্তাটি জর্বরী ভিত্তিত্বে সংস্কারের জন্য সংশিৱষ্ট বিভাগকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।
দূর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামুনুর রশিদ বলেন শ্যামগঞ্জ দূর্গাপুর সড়কটি অন্যান্য সড়কের মতো না । দেশের অন্যতম গুরুত্বপূন খনিজ সম্পদ পরিবহন হয় এ সড়ক দিয়ে।শুধু নির্মান সামগ্রীর প্রধান উপকরন লালবালু ঘিরে প্রতিবছর প্রায় অর্ধ কোটি টাকা লেনদেন হয়। সরকারি রাজস্ব আসে প্রায় ৫/৬ কোটি টাকা । বালুর টা্রাক থেকে পানি পড়ে মূলত রাস্তার বিরাট ক্ষতি হয়। কিন’ ভেজা বালুর ট্রাক থেকে পানি পড়া রোধ করাও সম্ভব হবে না। তাই সড়কটি পরিকল্পিত ভাবে নির্মান করা প্রয়োজন।
নেত্রকোনা সড়ক বিভাগের নতুন প্রকৌশলী সদ্য যোগদান করায় উনার বক্তব্য পাওয়া য়ায়নি।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ৯:৪৫ অপরাহ্ণ | আগস্ট ০৬, ২০১৬