|

দুই যুগ পর ময়মনসিংহে জাতীয় পর্যায়ে ময়মনসিংহ আজ শুরু হচ্ছে প্রিমিয়ার লীগ ফুটবল খেলা

স্টাফ রিপোর্টার, ৪ আগস্ট ২০১৬, বৃহস্পতিবার
‘জমবে খেলা, মাতবে দেশ!’ এই শ্লোগান নিয়ে জে.বি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ -২০১৬ (বিপিএল) এ্‌র ময়মনসিংহ পর্ব আজ শুক্রবার শুরু হচ্ছে। নতুনরূপে নির্মিত ময়মনসিংহের বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া স্টেডিয়ামে শুক্রবার বিকেল ৪টায় প্রথম দিনের খেলায় চট্রগ্রাম আবাহনী এবং শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব লিঃ এর মধ্যে খেলা অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যেই খেলার সমস্ত প্রস’তি সম্পন্ন হয়েছে। ৪ শতাধিক পুলিশ ও র‌্যাব চারস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস’ায় নিয়োজিত থাকবে বলে প্রায় ২০ হাজার দর্শক একসঙ্গে খেলা উপভোগ করতে পারবেন বলে আশা আয়োজকদের।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, যুব ও ক্রীড়া উপ-মন্ত্রী আরিফ খান জয়, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার জি.এম সালেহ উদ্দিন, ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তাগণ উপসি’ত থাকবেন বলে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মুস্তাকীম বিল্লাহ ফারুকী বৃহস্পতিবার দুপারে এক প্রেসব্রিফিংএ জানান। এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হারুন অর রশিদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূরে আলম, বাফুফের হেড অব মিডিয়া এহসান আহমেদ অমিত, মিডিয়া কমিটির আহবায়ক এহতেশামূল আলম, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ জাহান চৌধুরী শাহীন প্রমূখ।

জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কৰে অনুষ্ঠিত প্রেসব্রিফিং্রএ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সদস্য গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ার‌্যান ফজলুর রহমান বাবু জানান, সাধারণ দর্শকদের জন্য ৪৫ টাকা এবং ভিআইপি গ্যালারিতে ১০০ টাকা করে টিকেটের বিনিময়ে দর্শকরা গ্যালারীতে বসে খেলা দেখতে পারবেন। ময়মনসিংহ স্টেডিয়ামে দর্শক সমাগম বেশী বলে পরবর্তী খেলাগুলোও ময়মনসিংহে আয়োজনের ব্যাপারে বাফুফে চিন্তা-ভাবনা করছে। ইতিমধ্যেই পুলিশ লাইন স্কুল এবং ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল মাঠ দুটিকে খেলোয়াড়দের অনুশীলন মাঠ হিসেবে প্রস’ত রাখা হয়েছে।
প্রায় দুই যুগ পর ময়মনসিংহ রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া স্টেডিয়ামে গড়াচ্ছে প্রিমিয়ার লিগের মতো মর্যাদাকর জাতীয় পর্যায়ের পেশাদার খেলা। এ উপলক্ষে স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা, সুপরিসর আসন, অবকাঠামো অনেকটাই আন্তর্জাতিক মানের খেলাধুলার জন্য উপযুক্ত করে সংস্কার করা হয়েছে। মাঠের সংস্কার, ঘাস কাটাসহ বাহারি রং-তুলির আঁচড়ে সাজানো হচ্ছে গ্যালালি, প্রেসবক্স, ভিআইপি লাউঞ্চ। চলছে চূড়ান্ত প্রস’তি। মূল মাঠের পাশাপাশি প্র্যাকটিস মাঠেরও সংস্কার চলছে। এরই মধ্যে বাফুফে নেতৃবৃন্দ মাঠের উপযুক্ততা পরিদর্শন এবং সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

দীর্ঘদিন ধরে ঝিমিয়ে থাকা ময়মনসিংহের ক্রীড়াঙ্গন, ক্রীড়া সংগঠন, ক্রীড়া সংগঠক, খেলোয়াড় ও দর্শকের মধ্যে পেশাদার লিগ খেলাকে কেন্দ্র করে বেশ চাঙ্গা ভাব দেখা গেছে। সবাই চান, ময়মনসিংহের অন্যতম ভেন্যু বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া স্টেডিয়ামে মর্যাদাকর সব ধরনের জাতীয় খেলাধুলার সংস্কৃতি চালু হচ্ছে।
ময়মনসিংহ জেলা ক্রীড়া সংস’ার সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ জাহান শাহীন বলেন, ’৯৩ সালের পর ময়মনসিংহে ফুটবলসহ জাতীয় পর্যায়ের কোনো খেলাই মাঠে গড়ায়নি। তাই এ খেলাকে সফল করার মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহের ভেন্যুতে বিশ্বমানের খেলার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার সুযোগ এসেছে। খেলা সফল করতে সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি দর্শকের সহায়তা কামনা করেন তিনি।

বিশ্বমানের ধারণায় নতুন করে গড়া ময়মনসিংহ রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া স্টেডিয়ামের ভিআইপিসহ সাধারণ গ্যালারিতে চেয়ার স’াপন করা হলে প্রায় ১৫ হাজার দর্শক বসার সুযোগ পাবেন। চেয়ার ছাড়া ২০ হাজার দর্শক একসঙ্গে খেলা উপভোগ করতে পারবেন বলে আশা কর্মকর্তাদের। ময়মনসিংহ জেলা ক্রীড়া সংস’ার সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাত জাহান শাহিন জানান, ৫ আগস্ট থেকে ১৭ আগট পর্যন্ত ময়মনসিংহ রফিক উদ্দিন ভুইয়া স্টেডিয়ামে ১২ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার থেকে টিকিট বিক্রি শুর্ব হয়েছে। ১৫টি ভ্রাম্যমান কাউন্টার টিকিট বিক্রি এবং ২৫টি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টিকিট বিক্রি করা হবে। এছাড়া স্টেডিয়াম সংলগ্ন ময়মনসিংহ জেলা শিল্পকলা একাডেমী প্রেসিডেন্সী স্কুলে ১২টি টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট বিক্রি হবে। টিকিটের মুল্য সাধারণ ৪৫ টাকা ও বিশেষ শ্রেনীর জন্য ১০০ টাকা করা হয়েছে। তিনি জানান, জনপ্রিয় ফুটবল খেলা সুষ্ঠু করতে ব্যাপক প্রস’তি নেয়া হয়েছে। ৯টি উপ কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপ কমিটি গুলো হচ্ছে অভ্যর্থনা, নিরাপত্তা, সাজসজ্জা, আবাসন, প্র্যাকটিস, গ্রাউন্ডস, লেয়োজা, মিডিয়া, প্রচার কমিটি, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবস’াপনা ও আপ্যায়ন। তিনি জানান, শোকের মাস থাকার কারণে আমরা আলোক সজ্জার বিষয়টি বাতিল করেছি। তিনি শোকের মাস হিসেবে উদ্বোধনী অনুষ্টানটি আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নামে উৎসর্গ করেছি। ব্যাপক প্রচারের জন্য দেড় লৰাধিক পোস্টার, হ্যান্ডবিল বিতরণ করা হবে। বিভাগীয় নগরীতে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ১০টি মাইকিং এবং উপজেলা পর্যায়ে ২টি মাইকিং করা হবে। নিরাপত্তা জন্য স্টেডিয়াম ভেতরে বাইরে ও আশপাশের এলাকা সিসি ক্যামরার আওতায় থাকবে। তিনি আশা করছেন প্রচুর র্দশক হবে ১৫ হাজার সিটের ধারণ ক্ষমতা স্টেডিয়ামে ২০ হাজার দর্শক ছাড়িয়ে যাবে। খেলোয়াড়দের জন্য উন্নত মানের ড্রেসিং রুম করা হয়েছে। ড্রেসিং এসি সংযোগ করা হয়েছে। তিনি মনে বাংলাদেশে কোন এত উন্নমানের ড্রেসিং র্বম নেই। তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন । সুশৃংখল ভাবে খেলা অনুষ্ঠিত হলে ময়মনসিংহ এই স্টেডিয়ামে জাতীয় পর্যায়ে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলা অনুষ্ঠিত হবে তিনি আশা্‌ করেন।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ৯:৩৫ অপরাহ্ণ | আগস্ট ০৪, ২০১৬