|

সর্বশেষ

শেরপুরের বন্যা পরিসি’তির অবনতি : ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি : শেরপুর-জামালপুর মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ : শিশুর মৃত্যু

শেরপুর সংবাদদাতা: ৩১ জুলাই ২০১৬, রবিবার,
ব্রহ্মপুত্র ও দশআনী নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় আজ ৩১ জুলাই রোববার শেরপুরের সদর উপজেলার বন্যা পরিসি’তির আরো অবনতি হয়েছে। বর্তমানে উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের ৪০ গ্রাম বন্যা কবলিত। এসব গ্রামের ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস’ায় রয়েছে ও খেতের আবাদ পানিতে তলিয়ে গেছে। বন্যার পানিতে ডুবে আব্দুল মমিন (৪) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে আজ রোববার বিকেলে সদর উপজেলার চরপৰীমারী ইউনিয়নের কুলুরচর বেপারীপাড়া গ্রামে। শিশু মমিন ওই গ্রামের মো. হাতেম আলীর ছেলে। চরপৰীমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রউফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
শেরপুর-জামালপুর মহাসড়কের পোড়ারদোকান এলাকায় ডাইভারশন সড়কের ওপর দিয়ে ৩-৪ ফুট উচ্চতায় প্রবল বেগে পানি প্রবাহিত হওয়ায় আজ ৩১ জুলাই রোববার বিকেল থেকে ওই সড়কে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে জামালপুর ও টাঙ্গাইল হয়ে রাজধানী ঢাকা এবং উত্তরবঙ্গের সঙ্গে শেরপুরের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এর আগে আজ দুপুরে শেরপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) ওই সড়কে যানবাহন না চালানোর জন্য সাইনবোর্ড টানিয়ে নির্দেশ প্রদান করে। তবে ময়মনসিংহ হয়ে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে শেরপুর জেলার সড়ক যোগাযোগ যথারীতি চালু রয়েছে বলে সওজর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মাইদুল ইসলাম জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রশাসন ও স’ানীয় জনপ্রতিনিধিদের সূত্রে জানা গেছে, আজ রোববার ব্রহ্মপুত্র ও দশআনী নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকা পৱাবিত হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদসংলগ্ন সদর উপজেলার কামারেরচর, চরমোচারিয়া, চরপৰীমারী, বলাইয়েরচর ও বেতমারী ঘুঘুরাকান্দি ইউনিয়নের ৪০টি গ্রাম এখন বন্যা কবলিত। এসব গ্রামের ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস’ায় রয়েছে। বন্যা কবলিত বিস্তীর্ণ এলাকার উঠতি পাট, রোপা আমন বীজতলা, সবজী ও আউশ-আমন আবাদ পানিতে তলিয়ে গেছে। কামারেরচর ও চরপৰীমারী ইউনিয়নের ১৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যার কারণে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পিকন কুমার সাহা বলেন, প্রাথমিক হিসাবে আজ রোববার সকাল পর্যন্ত উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের ১২৫ হেক্টর জমির আবাদ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে এ হিসাব বাড়বে বলে তিনি জানান।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), শেরপুরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রফিকুল আলম চৌধুরী বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তবে তা বিপৎসীমার মাত্র শূণ্য দশমিক ৫৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক এ এম পারভেজ রহিম রোববার বিকেলে বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ৮:২৯ অপরাহ্ণ | জুলাই ৩১, ২০১৬