|

ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ৮ ঘন্টা পর ট্রেন চলাচল শুরু

13880137_1897249010502490_2446792397728036476_n

গফরগাঁও প্রতিনিধিঃ  ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ৮ঘন্টা পর সন্ধা ৭টা থেকে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে গফরগাঁওয়ের পাইথল ইউনিয়নের গয়েশপুর বাজারের বটতলা রেলক্রসিং অতিক্রমকালে ট্রেনটির ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হয়। এতে প্রায় দেড়শ মিটার রেলপথের স্লিপার ও ক্লিপ দূমড়ে মুছড়ে রেললাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বেলা ১১টা এ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ট্রেনটির পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ট্রেনের ১৬টি বগিতে অসংখ্য যাত্রী ছিলেন। ইঞ্জিন লাগোয়া লাইনচ্যুত বগির যাত্রীদের অনেকেই ভয়ে লাফিয়ে পড়েন। এতে অন্তত ১৫জন আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যায়। গুরুতর ৮জনকে শ্রীপুর ও গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্ধা ও রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ট্রেনটি গফরগাঁওয়ের পাইথল ইউনিয়নের গয়েশপুর বাজারের বটতলা রেলক্রসিং অতিক্রম করে ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হয়। পরে সেখান থেকে অন্তত ২০০মিটার পর্যন্ত ইঞ্জিন স্লিপার দিয়ে ছেছড়ে ট্রেনটি সূতিয়া নদীর উপর নির্মীত গয়েশপুর-কাওরাঈদ রেলসেতু অতিক্রম করার পর পরেই বগি থেকে ইঞ্জিনটি বিছিন্ন হয়ে রেললাইন থেকে অনেকটা সড়ে গিয়ে কাওরাঈদ বাজারের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে গিয়ে থেমে যায়। তখনো ট্রেনের ৬টি বগি নদীর উপর নির্মীত রেলসেতুর উপর দাঁড়িয়ে। এছাড়াও আরো ৯টি যাত্রীবাহি বগি গয়েশপুর এলাকায় ছিল। কোন কারনে যদি  বগিগুলো লাইনচ্যুত হলে নদীতে পড়ে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটতো।
ট্রেন যাত্রী গফরগাঁও বাজারের ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলাম উজ্জল জানান, ট্রেনের ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হওয়ার বিষয়টি অবগত না থাকলেও প্রচন্ড ঝাকুনীতে যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এ সময় আতঙ্কিত অনেক নারী-শিশু চিৎকার শুরু করে। ট্রেনের গতি মন্থর থাকায় নদীর উপর রেলসেতু পার হয়েই ইঞ্জিন ও একটি বগি ছিটকে গেলেও বাকি বগিগুলো অক্ষত অবস্থায় রেললাইনেই দাড়িয়ে থাকায় হাজারো যাত্রী বেঁচে যান।

কাওরাঈদ রেলওয়ে স্টেশন মাষ্টার এমদাদ হোসেন জানান, দূর্ঘটনা কবলিত ট্রেনটি উদ্ধারে ময়মনসিংহ ও ঢাকা থেকে দুটি রিলিফ (উদ্ধারকারী) ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌছেছে। তবে কখন ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে তা এখনিই বলা সম্ভব হচ্ছে না।
লাইনচ্যুত ট্রেনের লোকোমেটিক মাষ্টার (চালক) আফাজ উদ্দিন জানান, বেলা সোয়া ১১টার দিকে আউটার সিগন্যাল এলাকার বাইরে গফরগাঁওয়ের গয়েশপুর বটতলা এলাকায় রেললাইনের ওপর কয়েকজন লোক দেখে টানা হর্ন বাজাতে থাকি। কিন্তু রেললাইনের ওপর থেকে সরে না গিয়ে ট্রেনটি কাছাকাছি চলে আসার পর তারা লাল পতাকা দেখান। ওই সময় সামনে বিপদ থাকতে পারে; এই আশঙ্কায় প্রাণপণ গতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়।
রেল গফরগাঁওয়ের স্টেশন মাষ্টার মোসলেম উদ্দিন জানান, সন্ধা ৭টায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ৯:২৭ অপরাহ্ণ | জুলাই ২৮, ২০১৬