|

ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত, অল্পের জন্য রক্ষা পেল কয়েক হাজার ট্রেন যাত্রী

13880137_1897249010502490_2446792397728036476_n

আজহারুল হক, গফরগাঁও, ২৮ জুলাই ২০১৬, বৃহস্পতিবার,
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে অল্পের জন্য রক্ষা পেল ঢাকাগামী আন্তঃনগর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেন অন্তত সাড়ে ৪ হাজার ট্রেন যাত্রী। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে ভয়াবহ দূর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় ট্রেনটি। গফরগাঁওয়ের পাইথল ইউনিয়নের গয়েশপুর বাজারের বটতলা রেলক্রসিং অতিক্রমকালে ট্রেনটির ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হয়। এতে প্রায় দেড়শ মিটার রেলপথের সিৱপার ও ক্লিপ দূমড়ে মুছড়ে রেললাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়। তবে হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি। সকাল পৌনে ১১টায় ট্রেনটি গফরগাঁও রেলস্টেশন ছেড়ে যায়। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ট্রেনটি গফরগাঁওয়ের পাইথল ইউনিয়নের গয়েশপুর বাজারের বটতলা রেলক্রসিং অতিক্রম করে ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হয়। পরে সেখান থেকে অন্তত ২০০মিটার পর্যন্ত ইঞ্জিন স্লিপার দিয়ে ছেছড়ে ট্রেনটি সূতিয়া নদীর উপর নির্মীত গয়েশপুর-কাওরাঈদ রেলসেতু অতিক্রম করার পর পরেই বগি থেকে ইঞ্জিনটি বিছিন্ন হয়ে রেললাইন থেকে অনেকটা সরে গিয়ে গাজীপুরের কাওরাঈদ বাজারের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে গিয়ে থেমে যায়। তখনো ট্রেনের ৬টি বগি নদীর উপর নির্মীত রেলসেতুর উপর দাঁড়িয়ে। এছাড়াও আরো ৯টি যাত্রীবাহি বগি গয়েশপুর এলাকায় ছিল। কোন কারনে যদি বগিগুলো লাইনচ্যুত হলে নদীতে পড়ে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটতো।
ট্রেন যাত্রী গফরগাঁও বাজারের ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলাম উজ্জল জানান, ট্রেনের ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হওয়ার বিষয়টি অবগত না থাকলেও প্রচন্ড ঝাকুনীতে যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এ সময় আতঙ্কিত অনেক নারী-শিশু চিৎকার শুর্ব করে। ট্রেনের গতি মন’র থাকায় নদীর উপর রেলসেতু পার হয়েই ইঞ্জিন ও একটি বগি ছিটকে গেলেও বাকি বগিগুলো অৰত অবস’ায় রেললাইনেই দাড়িয়ে থাকায় হাজারো যাত্রী বেঁচে যান।
গফরগাঁওয়ের গয়েশপুর বাজারের ব্যবসায়ী প্রত্যৰদর্শী লিটন মিয়া জানান, গয়েশপুর বাজারের বটতলা রেলক্রসিং অতিক্রমকালে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়ে সিৱপারের ক্লিপগুলো ছিড়ে অন্তত ২০০ মিটার অতিক্রম করলেও ভাগ্যক্রমে ট্রেনের বগিগুলো লাইনচ্যুত হয়নি। যদি বগিগুলো লাইনচ্যুত হতো তাহলে তা শীলা নদীর গভীর পানিতে তলিয়ে যেত। ফলে কয়েক হাজার ট্রেন যাত্রীর প্রাণহানির ঘটনা ঘটে পারতো। এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত গফরগাঁওসহ বিভিন্ন রেলস্টেশনে আটকে আছে কয়েকটি ট্রেন।
কাওরাঈদ রেলওয়ে স্টেশন মাষ্টার এমদাদ হোসেন জানান, দূর্ঘটনা কবলিত ট্রেনটি উদ্ধারে ময়মনসিংহ ও ঢাকা থেকে দুটি রিলিফ (উদ্ধারকারী) ট্রেন ঘটনাস’লে পৌছেছে। তবে কখন ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে তা এখনিই বলা সম্ভব হচ্ছে না।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ১:২৯ অপরাহ্ণ | জুলাই ২৮, ২০১৬