|

মুক্তাগাছায় সড়ক ও ড্রেন উন্নয়নের কাজে মন্থরগতি জনদুর্ভোগ

IMG0184A

মুক্তাগাছা  প্রতিনিধি: মুক্তাগাছা শহরের সবগুলো সড়কের বেহাল দশা। জলবায়ু প্রকল্পসহ কয়েকটি উন্নয়নের কাজ চলছে ধীর গতিতে। ড্রেন নির্মাণের নামে মাসের পর মাস সড়কগুলো বন্ধ করে রাখা হচ্ছে। এতে পুরো শহরের সবগুলো সড়কই এখন অচল। ড্রেনের মাটি সড়ক জুরে ফেলে রাখায় মানুষের পায়ের চলাচলের পথও বন্ধ হয়ে গেছে। কাঁদা পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে সড়কগুলো। এতে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন শহরের বাসিন্দারা।
মুক্তাগাছা পৌর শহরে জলবায়ু, ইউজিপ ও জনগুরুত্বপূর্ন নগর উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ১৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে। এ সব প্রকল্পের আওতায় চলছে আরসিসি ড্রেন নির্মাণ,নদী খনন  ও সোলার প্যানেল নির্মানের কাজ। গত বছরের শেষ দিকে এ প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়। শহরের সবকটি সড়কের ড্রেনের কাজ শুরু করা হয় একই সময়ে। কাজও চলছে ধীর গতিতে। ড্রেনের মাটি সড়কের ওপর রাখায় একটু বৃষ্টিতেই কাঁদা মাটিতে সয়লাব হয়ে গেছে সড়কগুলো। এছাড়া ড্রেন নির্মাণের নামে অধিকাংশ সড়কই মাসের পর মাস বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এতে যে কয়েকটি সড়ক খোলা রাখা হয়েছে ওইসব সড়কেও ড্রেনের মাটি ফেলে রাখায় কাঁদা মাটিতে একাকার হয়ে আছে সড়কগুলো। পায়ে হাঁটারও পথ খোলা নেই এ সব সড়কে। সার পট্রির সড়কটির ড্রেনের কাজ শুরু করায় প্রায় দুই মাস ধরে কাঁদায় একাকার হয়ে আছে পুরো সড়ক। পচা ও কাঁদা মাটির দুর্গন্ধে ওই পথ দিয়ে চলাচল একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। আটানী বাজার থেকে চৌরঙ্গির মোড়ের সড়কটি দীর্ঘদিন বন্ধ করে রাখায় সড়কটি চলাচলে অকেজো হয়ে আছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যস্ততম সড়ক মহারাজা রোড ও কলেজ রোডের অবস্থা একই চিত্র। সর্বশেষ কলেজ রোড থেকে লক্ষীখোলার রোডটি কালভার্ট নির্মাণের কাজে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। তামাক পট্রির ছোট সড়ক খালি থাকায় এ সড়কে এখন দীর্ঘ যানজট লেগেই আছে। অর্থাৎ পুরো শহর এখন কাঁদা মাটি ,পানি আর যানজটে একাকার। এত দুর্ভোগের পরও পৌরসভা কর্তৃপক্ষের যেন কোন দায় নেই পৌরবাসীর জন্য। দীর্ঘ দিন ধরে সড়কগুলো বন্ধ থাকার পরও তাদের কোন উদ্যোগ নেই সড়কগুলো চালু করার।  পাশাপাশি জলবায়ুর ঠিকাদাররাও দায়সারাভাবে ধীর গতিতে প্রকল্পের কাজ করে যাচ্ছেন। তাদেরও যেন কোন দায় নেই। এভাবেই চলছে মুক্তাগাছা পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ।

সারপট্রি রোডের হোটেল ব্যবসায়ী সুলতান মিয়া বলেন, কাঁদা মাটিতে সড়ক একাকার হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এ সড়কে মানুষ ও যানচলাচল করতে পারে না। এর পরও পৌর কর্তৃপক্ষের কোন উদ্যোগ নেই মাটি সরিয়ে সড়কটি চলাচলের উপযোগি করে তোলতে।
জলবায়ু প্রকল্পের কাজ করছেন ঠিকাদার ব্যবসায়ী এবিএম জহিরুল হক জহির বলেন, বৃষ্টির জন্য শ্রমিকরা ঠিকমতো কাজ করতে পারছে এ কারনে কারেন কিছুটা কাজের বিলম্ব হচ্ছে। এর পরও আশা করছি দুই আড়াই মাসের মধ্যে শহরের সবগুলি সড়কের কাজ শেষ হয়ে যাবে।

এ ব্যাপারে মুক্তাগাছা পৌসরভার নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আর মাস দুই এক এর মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে যাবে। ড্রেনের সংযোগ দিয়ে দিলে পানি নিষ্কাশন দ্রুত গতিতে হয়ে যাবে রাস্তাঘাটে পানি আর কাদা জমে থাকবে না।

এ ব্যাপারে মুক্তাগাছা পৌরসভার মেয়র শহিদুল ইসলাম শহিদ বলেন ঠিকাদারদের কাজের অবহেলা আর আবহাওয়া খারাপের জন্য সড়কগুলোর এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ৬:৫৩ অপরাহ্ণ | জুলাই ২৫, ২০১৬