|

নিকলীতে ভ্রাম্যমান আদালতের উপর হামলায় মামলা :পুরুষ শূন্য গ্রাম

খাইরুল মোমেন স্বপন, নিকলী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ ভ্রাম্যমান আদালতের উপর হামলায় নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্র্যাটসহ ১১ জন আহতের ঘটনায় শনিবার রাতে নিকলী উপজেলা মৎস্য অফিসের অফিস সহকারী মো.মনিরুল ইসলামের ২৪ জনের নামসহ অজ্ঞাত ২-৩শ নারী পুর্বষকে উল্লেখ করে দায়ের করা মামলায় চলছে পুলিশি অভিযান। গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে কিশোরসহ জারইতলা ইউনিয়নের পুড্ডা গ্রামের যুবক ও বৃদ্ধরা। ফলে গ্রামটি এখন পুরুষশুন্য প্রায়।
উপজেলা মৎস অফিস ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে নিকলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্র্যাট মোহাম্মদ মাহবুব আলমের নেতৃত্বে উপজেলার রোদার নদীতে নিষিদ্ধ জাল বিষয়ক ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হয়। গোয়ালহাটি খালে নৌকায় ও ব্রীজের উপর শুকাতে দেয়া কয়েকটি নিষিদ্ধ বেড়জাল আটকের সময় জেলেদের একটি উশৃঙ্খল দল নৌকায় থাকা ভ্রাম্যমান আদালতের উপর চড়াও হয়। খালের উঁচু পাড় থেকে তাদের এলোপাতারী ছোড়া ইট পাটকেল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্র্যাট মোহাম্মদ মাহবুব আলম, ওসি মুঈদ চৌধুরীসহ আদালতের কমপৰে ১১ জন আহত হন। এ সময় সঙ্গীয় পুলিশকে কোন নির্দেশ না দিয়ে নিজের কাছে থাকা পিস্তল দিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়তে থাকে মোহাম্মদ মাহবুব আলম। গুলির শব্দে আক্রমনকারীরা পিছু হঠলে গ্রাম থেকে ২ দিনমজুরকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতের পুলিশ। আটকদের প্রত্যেককে ১ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড এবং উদ্ধারকৃত নিষিদ্ধ জাল নিকলী উপজেলা পরিষদের সামনে জন সমক্ষে আগুনে পুড়িয়ে দেয় ভ্রাম্যমান আদালত। এ ঘটনায় একই দিন সন্ধ্যায় নিকলী থানায় সরকারী কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ঐরাতেই পুড্ডা গ্রামে অভিযান চালায় পুলিশ। স্কুল পড়-য়া ছাত্র, ব্যবসায়ীসহ ৫ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। অভিযানকালে কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুরসহ আতং্‌ক সৃষ্টি করে বলে গ্রামবাসীর অভিযোগ। তারা জনায়, মাত্র গুটি কয়েক দুষ্কৃতিকারীর জন্যে গ্রামবাসী পুলিশি হয়রানির শিকার হচ্ছে। নিকলী থানার ওসি মুঈদ চৌধুরী জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে তাদের আটক করা হয়েছিলো। রবিবার দুপুরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ৬:৩০ অপরাহ্ণ | জুলাই ২৪, ২০১৬