|

নেত্রকোনায় দুই মাদ্রাসা ছাত্রসহ নিখোঁজ তিন

নেত্রকোনা প্রতিনিধি ঃ ২৩ জুলাই ২০১৬, শনিবার

নেত্রকোনায় এক বছর তিন মাসের মধ্যে দুই মাদ্রাসা ছাত্রসহ তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের সন্ধান চেয়ে পরিবারের লোকজন থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। নিখোঁজেরা হলেন- মাদ্রাসা ছাত্র আব্দুলৱাহ আল রাফি(১৪), আল-আমীন(১৩) ও আরেক যুবক ওয়াসিম মিয়া (২২)। এদের মধ্যে দুই ছাত্র জেলা শহর থেকে নিখোঁজ এবং ওয়াসিম মিয়া পূর্বধলা থেকে নিখোঁজ হয় বলে তাদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
নেত্রকোনা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু তাহের দেওয়ান ও পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচাজ (ওসি) আব্দুর রহমান এই নিখোঁজের বিষয় নিশ্চিত করেছেন। আব্দুলৱাহ আল রাফি ঃ নিখোঁজের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও মাদ্রাসা ছাত্র আব্দুলৱাহ আল-রাফির সন্ধান মেলেনি। পরিবারের একমাত্র ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে স্বজনেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। রাফিদের বাড়ি শহরের পূর্ব-কাটলী এলাকায় মসজিদের পেছনে। তার বাবা মো. আব্দুল সাত্তার সেনা বাহিনীর সার্জেন। বর্তমানে গাজীপুরে শিমুলতলী ডিজেলপৱান্টে কর্মরত আছেন। মা ঝর্না আক্তার গৃহিণী। রাফি শহরের কুড়পাড় এলাকায় ভূঁইয়া বাড়ি হাফিজিয়া মাদ্রাসায় পড়তো এবং ওই মাদ্রাসার ছাত্রাবাসেই থাকতো। ২০১৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর রোববার সন্ধ্যায় বাড়িতে এসে পর দিন সকাল ১০টার দিকে মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা বলে ঘর থেকে বের হয় রাফি। পরে তাকে আর কোথাও খোঁজে পাওয়া যায়নি। নিখোঁজের শারিক গঠন ও সার্বিক বর্ণনা দিয়ে শিশুটির বাবা আব্দুল সাত্তার জানান, রাফির উচ্চতা আনুমানিক সাড়ে চার ফুট, মুখম-ল গোলাকার। ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তার পরনে একটি সাদা পাঞ্জাবি ও পায়জামা ছিল। এ বিষয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় নিখোঁজের পর দিন একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
আল-আমীন ঃ গাজীপুর জেলার টংগী এলাকার আইয়ুব আলীর ছেলে আল-আমীন। সে নেত্রকোনা শহরের মোক্তারপাড়া মসজিদ কোয়াটার এলাকায় এক ভাড়াটিয়া রেজাউল ইসলামের তত্ত্বাবধানে ছিল। ওই শিশুটি শহরের নাগড়া এলাকায় ‘নাগড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসায়’ পড়ত। ওই মাদ্রাসার ছাত্রাবাসেই সে থাকতো। গত বছরের ৯ মার্চ দুপুর বেলায় সেখান থেকেই সে নিখোঁজ হয়। পর দিন বিকেলে রেজাউল ইসলাম এ বিষয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এর পর তার আর সন্ধান মেলেনি।
ওয়াসিম মিয়া ঃ জেলার পূর্বধলা উপজেলা ধোবা- হোগলা গ্রামের মো. আব্দুল গণির ছেলে ওয়াসিম মিয়া। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছিলেন তিনি। দেশের বাইরে‘ওমান যাওয়ার’ প্রস’তি নিচ্ছেন বলে এ বছরের ১২ এপ্রিল সকালে বাড়ি থেকে ঢাকা যান। এ পর থেকে তিনি আর বাড়ি ফেরেন নি। পরিবারের লোকজনও তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেন নি। এ বিষয়ে নিখোঁজের পর দিন ওয়াসিমের বাবা আব্দুল গণি পূর্বধলা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
নেত্রকোনা পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী বলেন, নিখোঁজ হওয়া ওই তিনজনের বিষয়ে সর্ব্বোচ গুর্বত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স’ানে পুলিশের কাছে তাদের তথ্য পাঠানো হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ৬:৫৩ অপরাহ্ণ | জুলাই ২৩, ২০১৬