|

ফুলবাড়ীয়ায় নিখোঁজের ৩মাস পর ব্যবসায়ীর হাড়-হাড্ডি উদ্ধার: ঘাতক পুত্রসহ গ্রেফতার-২

মোঃ আব্দুস ছাত্তার, ফুলবাড়িয়া থেকে ঃ | ২২ জুলাই ২০১৬, শুক্রবার  
নিখোঁজের ৩ মাস পর পদ্মা অয়েল কোম্পানী লিমিটেডের কীটনাশক ও অটো ক্রপ কেয়ার লিমিটিেডের উপজেলা ডিলার ও হলুদ ব্যবসায়ী মোঃ শাহজাহান (৫০) এর হাড়-হাড্ডি গতকাল শুক্রবার বিকেলে তার গোয়ালা খামারের পাশ্ববর্তী ঝোপের গর্ত থেকে উদ্ধার করেছে ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশ।
ঘটনায় সাথে জড়িত ব্যবসায়ী শাহজাহানের একমাত্র পুত্র মোস্তাফিজুর রহমান ও গোয়ালার কেয়ারটেকার সেকান্দর আলীকে গতকাল সকালে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত সেকান্দর আলীকে নিয়ে ডিবি পুলিশ আজ বিকেলে হাতিলেইট ব্যবসায়ীর খামার বাড়িতে নিয়ে আসেন। তার দেয়া তথ্যমতে খামার বাড়ির দক্ষিণ পাশে ঝোপের ভিতর একটি গর্তের ৬ ফুট নিচ থেকে শাহজাহানের হাড়-হাড্ডি উত্তোলন করা হয়। গ্রেফতার হওয়া পুত্র মোস্তাফিজুর রহমান স্বীকার করেন ঘটনার দিন বিকেলে খামার বাড়িতে তার পিতা কাজ করার সময় পিছন দিক থেকে দা দিয়ে কূপ দেয়, পরে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ পুতে রাখেন। মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির এস,আই মফিজুল ইসলাম পিপিএম জানান, নিহত শাহজাহান নিখোঁজের বেশ কিছু দিন আগে বিউটি নামের একটি মেয়েকে বিয়ে করেন। পরে তার ছেলে মোস্তাফিজ বিষয়টি জানতে পেরে বিউটিকে ময়মনসিংহে নিয়ে তার বাবাকে স্বামী তালাক করালে পারিবারিক আক্রোশ বেড়ে যায়। সেই আক্রোশের জের ধরে গত ১৭ এপ্রিল তার ছেলে মোস্তাফিজ এবং কেয়ারটেকার সেকান্দর আলী পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যার পর ব্যবসায়ী পিতা শাহজাহানের লাশ পাশের ঝোপের ছয় ফিট নীচে একটি গর্তে পুতে রাখে।
গত ২১ এপ্রিল পিতা নিখোঁজের ঘটনা দেখিয়ে পুত্র মোস্তাফিজুর রহমান ফুলবাড়ীয়া থানায় সাধারন ডায়েরি করেন। সাধারণ ডায়েরি নং-৭০৪। পরবর্তীতে সেই ঘাতক সূচতুর পুত্র মোস্তাফিজ ঘাটাইলের হলুদ ব্যবসায়ী হানিফ মিয়াসহ ৬ জনকে আসামী করে ফুলবাড়ীয়া থানায় অপহরন মামলা দায়ের করেন। মামলার পর ব্যবসায়ী উদ্ধারে কোন অগ্রগতি না হওয়ায় মামলাটি ফুলবাড়ীয়া থানা থেকে ময়মনসিংহ ডিবি কার্যালয়ে স’ানান্তর করা হয়।
ডিবির মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা ১৩ মে ব্যবসায়ীর গোয়ালার (খামারবাড়ি) কেয়ার টেকার সেকান্দর আলীকে জিঙ্গাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়। গতকাল তাকে আবারও আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিঙ্গাসাবাদ করলে স্বীকার করেন হত্যার ঘটনার এক মাস পূর্বে ব্যবসায়ীর শাহজাহানকে হত্যার পরিকল্পনা করেন স্ত্রী মাজেদা খাতুন, পুত্র মোস্তাফিজুর রহমান ও কেয়ারটেকার সেকান্দর আলী। পরিকল্পনা অনুযায়ি গত ১৭ মে শাহজাহান মিয়াকে দাঁ দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে তার গোয়ালায় হত্যাকরে লাশ মাটির নিচে পুতে রাখা হয়। উপজেলার কেশরগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী পাশ্ববর্তী গ্রাম বড়খিলা গ্রামের মকবুল হোসেনের পুত্র শাহজাহান কীটনাশকের পাশাপাশি পাশ্ববর্তী ইউনিয়ন রাঙামাটিয়ায় নিজ গোয়ালা খামার বাড়িতে আনারসসহ হলুদের ব্যবসা চালিয়ে আসছিল।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ৮:১৯ অপরাহ্ণ | জুলাই ২২, ২০১৬