|

সর্বশেষ

গৌরীপুরে ডেল্টা স্পিনার্স মিলের শ্রমিকদের অসন্তোষ ১০ ঘন্টা কর্মবিরতি ॥ ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ

 

সাজ্জাতুল ইসলাম সাজ্জাত, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) থেকে ঃ ২১ জুলাই ২০১৬, বৃহস্পতিবার
৭ দফা দাবিতে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে কলতাপাড়াস’ ডেল্টা স্পিনার্স লিমিটেডের শ্রমিকরা বুধবার রাত ১০টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পযন্ত কাজে যোদগান না করে মিল গেইটের বাইরে অবস’া নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এসময় তারা ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করে। ফলে রাস্তার দু’পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে গৌরীপুর থানার পুলিশ পরিসি’তি নিয়ন্ত্রণে এনে যাত্রীদের দূর্ভোগের বিষয়টি শ্রমিকদের বুঝালে মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচী প্রত্যাহার করে নেয়। শ্রমিকদের দাবীগুলো হলো বকেয়া বেতন প্রদান, শ্রম আইনানুযায়ী বেতন-ঈদ বোনাস বৃদ্ধি, মাতৃত্বকালীন ৬মাসের ছুটি, মাসের ১-৫তারিখের মধ্যে বেতন প্রদান, অতিরিক্ত কাজের প্রাপ্য মজুরী দেয়া, পহেলা বৈশাখ ও শারদীয় দূর্গোৎসবসহ সকল সরকারি ছুটি বাস্তবায়ন, কথায় শ্রমিক নির্যাতন বন্ধকরণ।
বিৰোব্দ শ্রমিকরা জানান, বুধবার জুলাই মাসের ২০তারিখ হলেও তারা এখনও জুন মাসের বেতন পাননি। এই বকেয়া বেতন কবে দেয়া হবে মিল কর্তৃপৰ কেউ বলতে পারেন না। মিলের প্রশাসন বিভাগের কর্মকর্তাগণ শুর্ব মালিকের দোহাই দিয়ে কালৰেপন করছেন।
মিলের মেশিন অপারেটর সালেহা জানান, ৮বৎসর যাবত কাজ করছে বেতন ৪হাজার টাকা। ঈদ বোনাস দেয়া হয়েছে ২হাজার টাকা। চিকিৎসাভাড়া, বাড়ি ভাড়াসহ শ্রমআইন অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন না। লায়লা আক্তার জানান, মাতৃত্বকালীন ছুটি সরকার ৬মাস দিলেও আমরা পাচ্ছি মাত্র ৩মাস। শ্রমিক পারভীন আক্তার কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন ২০বছর ধরে কাজ করছি বেতন মাত্র ৩হাজার টাকা। একদিন অনুপসি’ত হলেই হাজিরা বোনাসসহ ৭শ/৮শ টাকা কেটে নেয়া হচ্ছে। মিলের রিং সেকশন, কোন, বুলুর্বম, ডায়িং, কাটিং, স্যামকেলিং, বয়লার, ডিলিং ও ফিনিশিং সেকশনের শ্রমিকরা কয়েকদফা আন্দোলন করলেও মালিকপৰ কোন প্রতিশ্র্বতি পূরণ করেনি বলে দাবি করেন।
মিল কর্তৃপৰের হয়ে শ্রমিকদের সুপারিশ করেন এলাকার টগবগে তর্বণ মোজাম্মেল হোসেন। তিনিও শ্রমিকদের কষ্টের কথা উলেৱখ করে বলেন মাত্র ৩হাজার টাকা বেতনে ভাত কিনতে পারলেও তরকারী কিনতে পারছে না। সন্তানদের চিকিৎসা, শিৰার সুযোগ নেই। শ্রমিকদের কাজ যোগ দিচ্ছে চাপ দেন শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের নন্দীগ্রামের জালাল উদ্দিন। তিনি এখানে ১০হাজার টাকা পান অন্য কোথাও গেলে দ্বিগুণ বেতন পেতেন বলে জানান। আরেক কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ ১১হাজার ৩০০টাকা বেতন পান। তিনি জানান, গ্রেড অনুযায়ী বেতন হওয়ার কথা ২০হাজার টাকা উপরে। তবু মালিকপৰের হয়ে শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে জোরজবরদস্তি করছেন।
শনিবারের মধ্যে তাদের দাবি মালিক কর্তৃপৰের সাথে আলোচনা করে সুরাহা করবেন জানিয়ে সকাল সাড়ে ৮টায় ব্যবস’াপক (প্রশাসন) মোঃ মাহমুদুল হাসান মুন্সী আন্দোলনরত শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। এ সময় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও মিলের কর্মকর্তাগন ব্যবস’াপকের বক্তব্য মেনে নেয়ার সুপারিশে আন্দোলনরত শ্রমিকরা শনিবার (২৩ জুলাই) পর্যন্ত অবরোধ ও কর্মবিরতী কর্মসূচী প্রত্যাহার করে সকাল ৯টায় কাজে যোগ দেন। মোঃ মাহমুদুল হাসান মুন্সী এ প্রতিনিধিকে জানান, মালিকপৰের নিকট শ্রমিকদের দাবি উত্থাপন করে শনিবারের মধ্যেই ব্যবস’া নেয়া হবে।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ৯:১৫ অপরাহ্ণ | জুলাই ২১, ২০১৬