|

শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার সনদ বঞ্চিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের ইন্তেকাল

স্টাফ রিপোর্টারঃ শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার কুর্শা বাদাগৌড় গ্রামের বিএলএফ সদস্য সনদ বঞ্চিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল রহমান ১৬/০৭/২০১৬ইং রোজ শনিবার দুপুর ১.৩০ ঘটিকায় দীর্ঘদিন রোগ ভোগের পর ময়মনসিংহ শহরের ¯^দেশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না……… রাজেউন)। তিনি দীর্ঘদিন যাবত পিত্তথলি ও লিভার ক্যান্সারে ভোগছিলেন। শেষ দিকে আর্থিক অনটনে ঠিকমত চিকিৎসাও করাতে পারছিলেন না। সনদ বঞ্চিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করেও মুক্তিযোদ্ধার সনদ পাননি। ১৯৯৬ সনে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে তিনি মুক্তিযোদ্ধা সনদ পাওয়ার জন্য আবেদন নিবেদন করে আসছিলেন। সর্বশেষ ২০০৮ সনে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি আবারও আবেদন নিবেদন করেন। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল থেকে তাঁর নাম তালিকায় অন্তভর্‚ক্ত করে যাচাই বাছাইয়ের জন্য ২০১০ সনে জেলা প্রশাসক শেরপুর বরাবরে প্রেরণ করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাঁর যাচাই বাছাইয়ের বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখে। অগত্যা নিরূপায় হয়ে তিনি ২০১২ সনে মহামান্য হাইকোর্টে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে সনদ পাওয়ার জন্য রিট আবেদন দায়ের করেন (রিট পিটিশন নং-৭৫৩৬, তারিখঃ ১০/০৭/২০১২ইং)। মহামান্য হাইকোর্ট তাঁকে কেন মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তভর্‚ক্ত করে মুক্তিযোদ্ধা সনদ দেয়া হবে না তাঁর কারণ দর্শাতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, জেলা প্রশাসক শেরপুরকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলেন। দীর্ঘদিনেও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, স্থানীয় প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নকলা থানা কমান্ড এ ব্যাপারে কোন কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। কিন্তু এই কয়েক বছরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল থেকে হাজার হাজার মানুষ মুক্তিযোদ্ধা সনদ সংগ্রহ করেছে। শুধুমাত্র যারা বিশেষ তদবীর করেছে কেবল তারাই মুক্তিযোদ্ধা সনদ সংগ্রহ করতে পেরেছে। দুঃখজনক যে শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার বিএলএফ সদস্যদের কারোই আজ পর্যন্ত যাচাই বাছাই তালিকায় নাম থাকার পরও যাচাই বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সনদ দেয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। আসল মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা যাচাই বাছাই না করে বছরের পর বছর ফেলে রাখা হয়। অথচ ভ‚য়া মুক্তিযোদ্ধারা তদবিরের মাধ্যমে সহজেই মুক্তিযোদ্ধার সনদ নিয়ে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান কি এভাবে বঞ্চিত হওয়ার জন্যই একদিন কিশোর বয়সে দেশ মাটি ও মানুষের জন্যে জীবন বাঁজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে ছিলেন। এর কোন সদুত্তর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, জেলা প্রশাসন শেরপুর ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নকলা থানা কমান্ডের কাছে আছে কি?

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০:২৩ অপরাহ্ণ | জুলাই ১৯, ২০১৬