|

সর্বশেষ

গফরগাঁওয়ে উপবৃত্তির কার্ডে শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য টাকার অর্ধেক লিখে সরবরাহ করলেন প্রধান শিক্ষক!

আজহারুল হক, গফরগাঁও
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে চরশাঁখচূড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৭০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে প্রাপ্য উপবৃত্তির মোট টাকার প্রায় অর্ধেক উপবৃত্তি কার্ডে লিখে সরবরাহ করলেন প্রধান শিক্ষক সারোয়ার আলম চাকলাদার। এ ঘটনায় মঙ্গলবার অভিভাবক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অপসারন দাবী করে উপবৃত্তির প্রাপ্য সমুদয় টাকা বিতরণের দাবী জানায়। এর আগে প্রতি শিক্ষার্থীর মোট টাকার প্রায় অর্ধেক লিখে উপবৃত্তির কার্র্ড প্রদান করে গত সোমবার উপবৃত্তি বিতরণ করতে চাইলে এলাকাবাসী প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও শিক্ষা অফিসার ঘটনাস’লে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করেন। অপরদিকে গত শনিবার চরআলগী ইউনিয়নের ২১ নং শরীফ ফরাজি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) আলমগীর হোসেন শিক্ষার্থীদের মাঝে উপবৃত্তির টাকা ৩’শ থেকে ৫’শ টাকা হারে কম বিতরণকালে স্থানীয়রা তাকে অফিস কক্ষে আটক করে বাহির থেকে তালা ঝুলিয়ে দেন। খবর পেয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম ঘটনাস’লে উপসি’ত পরিসি’তি শান্ত করেন। পরে তিনি পালিয়ে গিয়ে এ যাত্রায় রৰা পায়। এদিকে মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে গেলে প্রধান শিক্ষক আলমগীর ও বিদ্যালয়ের সভাপতি আজিজুল ফরাজির মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই বিদ্যালয়ের অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষককে তার বাড়িতে উপবৃত্তির কম দেওয়া টাকা ফিরিয়ে দিতে অবরোধ করে রেখেছে।
জানা যায়, পাঁচবাগ ইউনিয়নের চর শাঁখচুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উপবৃত্তির চাহিদা পত্রে ৫ম,৪র্থ,৩য় ও ২য় শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রী প্রাপ্য ১২’শ এবং ১ম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীর ৩’শ টাকা ঠিক রেখে তার বিদ্যালয়ের ৪৭০ জন শিক্ষার্থীর জন্য উপবৃত্তি বাবদ ৬ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। কিন’ শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির কার্ডে প্রায় অর্ধেক টাকা লিখে তা অভিভাবদের মাঝে সরবরাহ করেন।
নলচিড়া গ্রামের অভিভাবক জেসমিন বেগম বলেন, আমার মেয়ে ১’হাজার টাকা উপবৃত্তি পাওয়ার কথা। কিন’ প্রধান শিক্ষক উপবৃত্তি কার্ডে প্রথমে ৬’শ পরে ৭৫০টাকা লিখে স্বাৰর আদায় করেন। ২য় শ্রেণীর ছাত্রী ফাহিমার অভিভাবক খালেদা বেগম বলেন, আমার মেয়ে ১২’শ টাকা উপবৃত্তি পাবে। কিন্ত প্রধান শিক্ষক উপবৃত্তি কার্ডে ৬’শ টাকা লিখে টাকা দিতে গেলে আমি তা নিতে অস্বীকার করি। এছাড়াও আরো বেশ কয়েকজন অভিভাবকরাই অনুর্বপ অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে জানতে শিৰক আলমগীরের (০১৮১৪৪০৩০৯৯) মুঠোফোনে অসংখ্যবার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।
শরীফ ফরাজি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আজিজুল ফরাজি অভিযোগ করে বলেন, গত রমজানে ব্যাংকে থাকা বিদ্যালয়ের লেভেল ইমপ্র্বভমেন্ট পৱান্ট (সিৱপ) কমিটির বরাদ্দকৃত ৪০ হাজার টাকা থেকে ৮ হাজার টাকা উত্তোলনের কথা বলে আমার কাছ থেকে স্বাৰর নিয়ে জালিয়াতি করে ২৮ হাজার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করে। শুধু তাই নয় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির মূল টাকা থেকে ৪’শ থেকে ৬’শ টাকা হারে কম দিয়ে সে টাকাও আত্মসাত করেন তিনি।
এ ব্যাপারে শাঁখচুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সারোয়ার আলম বলেন, কোনো অনিয়ম হয়নি। কার্ডে সামান্য ভূল ছিল তা সংশোধন করে দেয়া হবে।
বিষয়টি জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, চরশাখচূড়া ও শরীফ ফরাজি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপবৃত্তির টাকা বিতরণে অনিয়ম ধরা পড়ায় বিতরণ বন্ধ করে দেয়া হয়। এছাড়াও দুই প্রধান শিক্ষককে জনরোষ থেকে উদ্ধারের বিষয়টিও স্বীকার করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিদ্ধার্থ শংকর কুন্ডু বলেন, সংশিৱষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে ভর্ৎসনা করে তা সংশোধনের মাধ্যমে আগামী রোববার উপবৃত্তির টাকা বিতরণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ৯:২১ অপরাহ্ণ | জুলাই ১৯, ২০১৬