|

আদমবেপারীর খপ্পরে সর্বশান্ত নিকলীর শাজাহান

খাইরুল মোমেন স্বপন, নিকলী (কিশোরগঞ্জ)ঃ এক আদমবেপারীর খপ্পরে পড়ে সর্বশান্ত নিকলীর এক যুবক শাজাহান(৪০) এখন পথের ভিখারী প্রায়। ইতিমধ্যেই সন্তানাদির পড়াশুনা হুমকির সম্মূখীন তার। পরিবারের নিত্য চাহিদা আর ঋণদাতাদের চাপে দিশেহারা হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে সে। সামাজিক দেনদরবার থেকে মামলা মোকদ্দমা কোন কিছুকেই তোয়াক্কা করছেনা ঐ আদমবেপারী বাচ্চু মিয়া(৪০)। সে উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নের প্রভাবশালী জুম্মাবাড়ীর মৃত তাহের উদ্দিনের পুত্র।
মামলা ও শাজাহানের পরিবার সূত্রে জানা যায়, চার সন্তানের জনক উপজেলার কুর্শা পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত আশক আলীর পুত্র কৃষক শাহজাহান। কৃষিতে পর পর লোকসানে কর্মহীন হয়ে পড়লে স্বপ্ন দেখে বিদেশে পাড়ি দেয়ার। কথা হয় উপজেলার সাজনপুর গ্রামের আদম বেপারী বাচ্চু মিয়ার সাথে। সময়টা ২০১৫ সালের মে মাসের মাঝামাঝি। বাচ্চু মিয়া শাহজাহানকে মালদ্বীপে হোটেল শ্রমিক হিসাবে পাঠাবে বলে মৌখিক চুক্তি হয়। চুক্তিতে বাচ্চুকে অগ্রিম সাড়ে ৩লাখ টাকা দেয়ার বিনিময়ে শাহজাহানকে মাসিক ২০হাজার টাকা বেতন এবং ৩মাসের মধ্যে পাঠানোর কথা থাকে। টাকা যোগার করতে কয়েক দিন সময় নেয় শাহজাহান। নিজের কৃষি জমি বন্ধক সহ ধারকর্জ করে টাকার ব্যবস’া করে সে। চুক্তি মোতাবেক একই বছরের ১জুন বাচ্চু মিয়া শাহজাহানের উপজেলা সদরের কুর্শা গ্রামে আসে টাকা নিতে। কয়েকজন স্বাৰীর সামনে সমূদয় টাকা বাচ্চু মিয়ার হাতে বুঝিয়ে দেয় শাজাহান। অনুনয় বিনয় করে যতদ্র্বত সম্ভব তাকে মালদ্বীপে পাঠনোর অনুরোধ করে আদম বেপারী বাচ্চুকে। টাকা দেয়ার ৩মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও শাহজাহানের সাথে কোন যোগাযোগ রাখেনা বাচ্চু। অগত্যা স্বাৰীদের নিয়ে বাচ্চুর বাড়ীতে যায় তারা। মালদ্বীপ পাঠানোতে দেরী হওয়ার কারণ ও চুক্তি ভঙ্গ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শাহজাহানের টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে দালাল বাচ্চু। স্বাৰীসহ শাহজাহানকে বাড়ী থেকে বেড় করে দেয়। আকাশ ভেঙ্গে পড়ে শাহাজাহানের মাথায়। এক দিকে ঋণের টাকা ফেরত দেয়ার তাগিদ, পরিবারের দৈনন্দিন চাহিদা এর মধ্যে দালাল বাচ্চুর তালবাহানা সব মিলিয়ে দিশেহারা শাহাজাহান নিজের ও বাচ্চরু এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তির দোয়ারে ধর্ণা দিলেও বাচ্চু নির্বিকার। শেষমেশ এ বছরের ২২ জুন কিশোরগঞ্জের ৪নং জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্র্যাট বরাবরে ৪০৬/৪১ ধারায় একটি মামলা দায়ের করে শাজাহান। আদালত মামলার তদন্তভার নিকলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কারার সাইফুল ইসলামের উপর দিলে তার নোটিশও উপেৰা করে প্রভাবশালী ঐ দালাল বাচ্চু। । আদম বেপারী বাচ্চুর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে সে এ প্রতিবেদকের নিকট শাহজাহানের কাছ থেকে টাকা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে। কয়েকবার টাকা পরিশোধের সময় দেয়। ইতিমধ্যে বিদেশ যাওয়ার আশায় বেকার শাহজাহানের পরিবারটি লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে। স্ত্রী বাপের বাড়ী, ৪ ছেলের পড়াশুনা বন্ধ, ঋণের চাপ, দৈনন্দিন চাহিদা ও মামলার খরচের ভারে বিপর্যস্ত শাহাজান ও তার পরিবার। আদম বেপারীর খপ্পরে সর্বশান্ত এই উপজেলার অনেক পরিবারমুখ খুলতেও সাহস পায়না বলে শাহজাহান জানায়।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ৮:১৪ অপরাহ্ণ | জুলাই ১৬, ২০১৬