|

সর্বশেষ

এডারের একমাত্র গোলে প্রথমবারের মত ইউরোর শিরোপা জিতলো পর্তুগাল

 সেইন্ট-ডেনিস (ফ্রান্স) ১১ জুলাই (বাসস) : অতিরিক্ত সময়ে এডারের একমাত্র গোলে স্বাগতিক ফ্রান্সকে ১-০ গোলে পরাজিত করে প্রথমবারের মত ইউরো চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা ঘরে তুলেছে পর্তুগাল। নির্ধারিত সময়ের খেলা গোলশূন্য ড্র থাকায় ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। যদিও প্রথমার্ধে দিমিত্রি পায়েটের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বাঁধাগ্রস্ত হয়ে মাঠ ত্যাগে বাধ্য হন ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো। স্ট্রেচারে করে তাকে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হলেও ম্যাচের শেষের দিকে ফিরে এসে টাচলাইনে দাঁড়িয়ে পুরো দলকে উৎসাহিত করেছেন। তারই অনুপ্রেরণায় অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে এডার প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে জোড়ালো এক শটে স্তাদে ডি ফ্রান্সের নীল দর্শকদের হতাশায় ডুবিয়ে প্রথমবারের মত পর্তুগালকে শিরোপা উপহার দেন।
২০০৪ সালে প্রথমবারের মত ইউরোর ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল পর্তুগীজরা। কিন্তু ঐ ফাইনালে স্বাগতিক হিসেবে শ্রেষ্ঠত্ব দেখাতে পারেনি পর্তুগাল। গ্রীসের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়ে হতাশ হতে হয়েছিল। সেই একই হতাশা বরণ করতে হলো ফ্রান্সকে। প্যারিস আক্রমণের আট মাস পরে ১৩০জন মানুষের মৃত্যুশোক কাটিয়ে ওঠার একটি দারুন সুযোগও হাতছাড়া করলো ফ্রেঞ্চরা। কোচ দিদিয়ের দেশমের হাত ধরে বড় কোন টুর্নামেন্টে চতুর্থ শিরোপার লক্ষ্যেই নিজেদের পরিচিত মাঠে লড়াইয়ে নেমেছিল ফ্রান্স। ১৯৮৪ ইউরো ও ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপের পরে ঘরের মাঠে এটা তাদের জন্য তৃতীয় শিরোপার হাতছানি ছিল। ৯৮’র এর বিশ্বকাপ জয়ী দলের অধিনায়ক ছিলেন দেশম। কিন্তু এবার আর রোনাল্ডোর পর্তুগালের কাছে দেশমের দল পেরে উঠলো না।
এই জয়ের ফলে ফ্রান্সের কাছে টানা ১০ ম্যাচে হারের বৃত্ত থেকেও বের হয়ে এলো পর্তুগাল। ১৯৮৪ ইউরো সেমিফাইনাল, ইউরো ২০০০ ও ২০০৬ বিশ্বকাপে ফ্র্যান্সের কাছে পরাজিত হয়ে বিদায় নিয়েছিল পর্তুগীজরা। এবারের পুরো টুর্নামেন্টে ৯০ মিনিটে মাত্র একটি ম্যাচে জয়ী হয়েছে পর্তুগাল। সেমিফাইনালে ওয়েলসের বিপক্ষে ২-০ গোলে জয়ী ম্যাচটি ছিল পর্তুগীজদের কাছে অপেক্ষাকৃত সহজতর। কোচ ফার্নান্দো সান্তোসও তাই দলকে ‘দ্য আগলি ডাকলিং’ বলেই মন্তব্য করেছেন।
লিসবনে ২০০৪ সালে গ্রীসের কাছে পরাজিত ম্যাচটিতে রোনাল্ডোর বয়স ছিল মাত্র ১৯, ঐ বয়সে ফাইনালে পরাজিত হয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। কালও ইনজুরিতে পড়ে ২৫ মিনিটে স্ট্রেচারে করে বাইরে বের হবার সময় তার চোখের পানি দেখেছে পুরো স্টেডিয়াম। তাকে যখন বাইরে বের করে নেয়া হচ্ছিল স্তাদে ডি ফ্রান্সে উপস্থিত পুরো সমর্থকরাই দাঁড়িয়ে তার প্রতি সম্মান দেখিয়েছে। যদিও দ্বিতীয়ার্ধের শেষের দিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে মাঠে ফিরে এসে টাচলাইনে দাঁড়িয়ে সান্তোসের পাশাপাশি পুরো দলকে উৎসাহিত করেছেন।
বড় কোন টুর্ণামেন্ট জয়ের দিক থেকে এখন তিনি পর্তুগীজ দুই লিজেন্ড ইউসেবিও ও লুইস ফিগোকে ছাড়িয়ে গেছেন। একইসাথে তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী লিয়নেল মেসিকে ছাড়িয়ে আগামী বছরের ব্যালন ডি’অর পুরস্কারটি নিজের করে নিতে আরো একধাপ এগিয়ে গেলেন।
৭৮ মিনিটে রেনাটো সানচেসের পরিবর্তে মাঠে নেমেছিলেন এডার। অতিরিক্ত সময়ের ১১ মিনিটে এডার প্রায় ২৫ গজ দুর থেকে ফ্রেঞ্চ গোলরক্ষ লরেন্ট কোসিনলিকে পরাস্ত করলে পর্তুগীজ সমর্থকরা উল্লাসে ফেটে পড়ে। এর আগে অবশ্য দুই দলই বেশকটি সুযোগ নষ্ট করে। ন্যানি, রোনাল্ডোর যেমন শুরুতে পর্তুগালকে হতাশ করেছে একইভাবে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা এন্টোনি গ্রিয়েজমানের হেড দুইবার কোনরকমে রক্ষা করেছে রুই প্যাট্রিসিও। পুরো ম্যাচেই অবশ্য ফ্রান্সের আক্রমনের আধিক্য ছিল।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ৫:২৮ অপরাহ্ণ | জুলাই ১১, ২০১৬