|

জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস বরদাশত করা হবে না : প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক : ১৫ অক্টোবর ২০১৫, বৃহস্পতিবার,

 প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে অবস্থানকারী বিদেশী নাগরিকদের হত্যা করে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে অভিযুক্ত করে দেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসকে বরদাশত না করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের কোন স্থান নেই এবং আমরা চাই না, কেউ এ ধরনের অপরাধ করুক। বরং আমরা চাই প্রত্যেকেই একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ জীবন-যাপন করুক এবং আমরা দেশটিকে এই পথেই গড়ে তুলতে চাই।
শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া যখন দেশে ছিলেন তখন আগুনে পুড়িয়ে দেড় শতাধিক লোককে হত্যা করেছেন। তাদের এই নৃশংসতা থেকে বাসচালক, হেলপার, কলেজ ছাত্রী এবং শিশুদের কেউ রেহাই পায়নি। বিএনপি নেতা এখন বিদেশে বসে বাংলাদেশে বসবাসকারী বিদেশী নাগরিকদের হত্যা করে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার ষড়যন্ত্র করছেন।
প্রধানমন্ত্রী আজ বিকেলে এখানে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগ আয়েজিত এক বিশাল জনসমাবেশে ভাষণ প্রদানকালে একথা বলেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম মঞ্জু মন্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, প্রখ্যাত লেখক সৈয়দ শামসুল হক এবং কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাফর আলী বক্তব্য রাখেন।
২০০৩ সালে ও চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বিএনপি-জামায়াত জোটের নৃশংসতা এবং সংঘর্ষের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা হচ্ছে জন্তু, তারা মানুষ নয়। তারা সরকার বিরোধী আন্দেলনের নামে বহু লোককে পুড়িয়ে মেরেছে এবং দুই থেকে আড়াই হাজার বাস, প্রাইভেটকার ও অন্যান্য যানবাহন অগ্নিসংযোগ করেছে
তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত দেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস সৃষ্টি করেছে। এই অশুভ শক্তিই দেশে এই ধরণের অপরাধ করে যাচ্ছে। কেউ তাদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না।
শেখ হাসিনা লেখাপড়ায় মনযোগী হতে এবং মাদকাসক্ত হওয়া থেকে নিজেদের বিরত রাখতে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আমরা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তরুণদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। তাদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। আমরা তাদেরকে আর মাদকাসক্তির শিকার হওয়ার সুযোগ দেব না।
প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর সরকারের সাফল্যের উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বে একটি রোল মডেল। কিন্তু কিছু লোক এটি পছন্দ করছে না। তারা দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে।
প্রধানমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে ছিটমহল সমস্যার সমাধানের উল্লেখ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারই দীর্ঘদিনের এ সমস্যার সমাধান করেছে। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু এই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু তাঁর হত্যাকা-ের পর জিয়া, এরশাদ এবং খালেদা জিয়া কেউই এ বিষয়টি সমাধানের জন্য কোন পদক্ষেপ নেয়নি। :
তিনি বলেন, ঐতিহাসিক স্থল সীমানা চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ছিটমহলবাসীদের বঞ্চনার অবসান ঘটেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, অতীতের ছিটমহলগুলো এখন আর ছিটমহল নয় এবং এগুলো বাংলাদেশের অংশ। তিনি বলেন, ‘তারা এখন বাংলাদেশের নাগরিক এবং তাদের পাশে যারা থাকবেন তাদেরকে তাদের আপনজন হিসাবে বিবেচনা করতে হবে।’
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সাবেক ছিটমহল বাসিন্দাদের কল্যাণে তাঁর সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা সাবেক ছিটমহলবাসীদের কল্যাণে ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছিলাম।  (বাসস)

সর্বশেষ আপডেটঃ ৮:০৪ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ১৫, ২০১৫