লঞ্চে তরুণীকে গণধর্ষণ, যুবলীগ নেতার ছেলেসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা

অনলাইন  ডেস্ক, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৫,  শুক্রবার,

ঝালকাঠিতে সুন্দরবন-২ লঞ্চের কেবিনে আটকে রেখে এক কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগে গতকাল বৃহস্পতিবার ঝালকাঠি থানায় দুই বখাটের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম ঘটনাস্থল সুন্দরবন লঞ্চে তদন্তে যান। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে ঝালকাঠি জেলা যুবলীগ নেতা আব্দুল হক খলিফার বড় ছেলে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের রাজস্ব শাখার এমএলএস আরিফকে । গত বুধবার বিকালে ঝালকাঠি লঞ্চ টার্মিনালে অপেক্ষমান সুন্দরবন-২ লঞ্চের একটি কেবিনে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীকে উদ্ধার করে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করে। এ ঘটনায় ওই তরুণীর প্রেমিক হাসিবুল হাসান শান্ত বাদী হয়ে ঝালকাঠি থানায় নারী শিশু নির্যাতন আইনের ৯ (১) ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় আরিফ ছাড়াও অজ্ঞাত আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বরাত দিয়ে ঝালকাঠি ডিবি পুলিশের পরিদর্শক নজরুল ইসলাম জানান মঙ্গলবার বিকালে ঝালকাঠি সদর উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের আবদু রবের ছেলে হাসিবুল হাসান শান্তর (১৮) সাথে ঢাকার মীর হাজিরবাগ এলাকার ১৬ বছর বয়সী এক তরুণী ঢাকা থেকে ঝালকাঠিতে পালিয়ে আসে। বুধবার বিকালে তারা পুনরায় ঢাকা যাওয়ার জন্য ঝালকাঠি লঞ্চঘাটে আসে। স্থানীয় বখাটেরা বিষয়টি টের পেয়ে প্রেমিক জুটিকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে ঢাকাগামী সুন্দরবন-২ লঞ্চের একটি কেবিনে আটকে রাখে। এসময় দুই বখাটে শান্তকে মারধর করে কেবিন থেকে বের করে দেয়। পরে তারা ওই তরুণীকে গণধর্ষণ করে। বখাটেরা প্রেমিক জুটির সাথে থাকা দুইটি মোবাইল সেট ও নগদ ২১০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনা কাউকে জানালে তরুণীকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয় বখাটেরা। বিকালেই ঝালকাঠি গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল লঞ্চে তল্লাশী চালিয়ে কেবিন থেকে তরুণীকে উদ্ধার করে। ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ধর্ষকরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর তরুণীকে আদালতের মাধ্যমে সেইভহোমে পাঠানো হয়েছে।