|

‘সিলেটে কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা’

অনলাইন ডেস্ক, ১২ জুলাই ২০১৫, রবিবার:

‘আমাকে আর মারবেন না, মরে যাবো। হাড়-গুড় ভেঙে গেছে। পুলিশের দিয়ে দেন। একটু পানি খাওয়ান। আর পারছি না।’ ২৮ মিনিটের ভিডিও ফুটেজে এরকম আকুতি ছিল বেশ কয়েক বার। কিন্তু সিলেটের শিশু রাজনের শত আকুতিতেও মন গলেনি ঘাতকদের। বরং তারা উল্লাস করে করে টানা তিন ঘন্টা নির্মম নির্যাতন চালিয়ে খুন করেছে রাজন নামের এই শিশুটিকে। কুমারগাঁও এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে ভ্যান চুরির অভিযোগে গত বুধবার তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর একটি মাইক্রোবাসে তুলে রাজনের লাশ নিয়ে যাওয়ার সময় মুহিত আলম (২২) নামের একজনকে ধরে পুলিশে দেন স্থানীয়রা। মৃত্যুর আগে রাজন বুক ফাটা আর্তনাদ করে। জীবন ভিক্ষা চেয়েছে। একটু পানি চেয়েছে। আল্লাহর দোহাই দিয়েছে। নির্যাতনকারীদের বাবা ডেকেছে। কখনো কখনো পুলিশের কাছে দেওয়ার কথা বলেছে।-এতো সব আকুতি, মিনতি কোনো কিছুই ঘাতকদের কঠিন মনকে নরম করতে পারেনি। বরং উল্লাস করে করে নির্মমভাবে পিঠিয়ে খুন করা হয়েছে ১৩ বছরের শিশু রাজনকে। টানা তিন ঘন্টার নির্যাতনে যখন রাজন মারা যায় তখন ঘাতকরা মাইক্রোবাসে তুলে লাশ গুম করার চেষ্টা চালায়। কিন্তু স্থানীয় লোকজন ঘেরাও করে মাইক্রোবাস সহ লাশ আটক করে। এরপর ধীরে ধীরে বেরিয়ে এসেছে আসল তথ্য। ঘটনার ৫ দিনের মাথায় গতকাল শিশু রাজনকে নির্যাতনের নির্মমতা সম্বলিত ২৮ মিনিটের একটি ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ পায়। শিশু রাজনের পুরো নাম সামিউল ইসলাম রাজন। বয়স ১২ পেরিয়ে ১৩। দুরন্ত বয়সী রাজনের বাড়ি সিলেট শহরতলীর কান্দিগাও ইউনিয়নের বাদেআলী গ্রামে। সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের টুকেরবাজার এলাকা থেকে বেশি দূরের পথ না তাদের গ্রাম। পিতার নাম আজিজুর রহমান। তিনি পেশায় মাইক্রাবাস চালক। আর মা লুবনা বেগম গৃহিনী। ঘাতকদের ধারন করা ২৮ মিনিটের ভিডিও ফুটেজে রাজন নিজেই এসব তথ্য জানিয়েছে। এসময় রাজন আরও জানায়, তারা দুই ভাই। সে বড়। তার ছোটো আরও এক ভাই রয়েছে। সিলেট শহরতলীর অনন্তপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪র্থ শ্রেনী পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে রাজন। এরপর অভাব-অনটনের সংসারে সে আর পড়া লেখা করতে পারেনি। পিতাকে কিছুটা সাহায্য করতে সবজি ব্যবসায় যোগ দেয়। এ কারনে রাজনকে রমজানের দিনে খুব ভোরে বাড়ি থেকে বের হতে হতো। ফিরতো বিকেলে। রাজনের পারিবারিক সূত্র জানায়, গত বুধবার খুব ভোরে রাজন বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এরপর দিনে সে বাড়ি ফিরেনি। কিংবা কোনো খবরও মিলেনি। পরে রাতে থানায় গিয়ে তার লাশ পাওয়া যায়। দুপুরের দিকে লাশটি জালালাবাদ থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। কিন্তু রাত পর্যন্ত লাশটি অজ্ঞাত হিসেবেই ছিলো। পরে থানায় জিডি দায়ের করতে গিয়ে রাজনের পিতা আজিজুর রহমান লাশটি সনাক্ত করেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৯:১৬ অপরাহ্ণ | জুলাই ১২, ২০১৫