|

বাংলাদেশকে কলঙ্কমুক্ত করাই আমাদের কাজ- সিলেটে প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক,১৮ জুন ২০১৫, বৃহস্পতিবার,

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতার আসার আগে পুরোনো বিল্ডিং ভেঙে নতুন নাম লাগানো ছাড়া সিলেটের তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। কেবল নেমপ্লেটের উন্নয়ন ছিল। যদিও সিলেটে যুগ যুগ ধরে অর্থমন্ত্রী ছিলেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সিলেটে উন্নয়ন হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার সকালে লন্ডন থেকে ঢাকা ফেরার পথে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে এক শুভেচ্ছা বিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সকাল ১০টা ৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বিজি-০১৬ (বোয়িং-৭৭৭) উড়োজাহাজটি সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সোয়া ১০টায় ভিআইপি লাউঞ্জে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া, সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা হকসহ শীর্ষ নেতারা তাকে অভ্যর্থনা জানান। পরে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় সভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। এক ঘণ্টা বিরতি শেষে প্রধানমন্ত্রীকে বেলা ১১টা ৮ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে বিমানে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী।   শুভেচ্ছা বিনিময় সভায় সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সিটি মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান সভাপতিত্ব করেন। উপস্থাপনা করেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতার আসার পর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করা, রেল স্টেশন আধুনিক করা থেকে শুরু করে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, ঢাকা-সিলেটের যোগাযোগ সবগুলো আওয়ামী লীগ সরকারের করা। এমনকি সিলেটে কোনো ক্যান্টনমেন্ট ছিল না। আমরা এখানে আলাদা একটা ডিভিশনও করে দিয়েছি। এটা হওয়ার পরে সিলেটের নিরাপত্তা আরো বৃদ্ধি পাবে এবং কার্যকলাপ আরো ত্বরান্বিত হবে। এভাবে সারাদেশেই আমরা প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা ব্যবস্থা করে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর থেকে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করতে চায়। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এই সিলেট। এই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য আওয়ামী লীগ সবসময় সচেতন এবং সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছে। আপনারা দোয়া করবেন যাতে আমরা সবসময় এসব কাজ করে যেতে পারি।’ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরো গতিশীল করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘সংগঠন শক্তিশালী করতে হবে। সংগঠন যেনো সাংগঠনিকভাবে সুন্দর হয়ে গড়ে ওঠে সেইদিকে নজর দেবেন।’ দেশবাসীকে রোজার শুভেচ্ছাও জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘হিথ্রো থেকে বিমানের সরাসরি ফ্লাইট সিলেটে নামার উদ্যোগ আমিই প্রথম নিয়েছিলাম এবং বাস্তবায়ন করেছি। তাই আমি যখন এটা বাস্তবায়ন করলাম তখন এটার ব্যতিক্রম কীভাবে করি, এজন্য সুযোগ পেয়েই নেমে গেলাম।’

নিজের লন্ডন সফর নিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশের তিন কন্যা বৃটিশ পার্লামেন্টের এমপি। সিলেটের রুশনারা আলী, পাবনা থেকে রূপা হক ও ঢাকার টিউলিপ সিদ্দিকী। আমি সেখানে গিয়েছিলাম, প্রবাসী বাঙালিরা সেখানে এক সংবর্ধনার আয়োজন করেছিল। আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছিল- টিউলিপকে আমি ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানাতে পেরেছি। তার ভাষণ শুনে খুব ভাল লেগেছিল। এক অন্যরকম অনুভূতি হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী প্রবাসী সিলেটবাসীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘টিউলিপের জন্য প্রত্যেক সিলেটবাসী আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে গেছে, অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। যে কারণে এই পরিশ্রমের ফসল পাওয়া গেছে। টিউলিপ ১ হাজার বেশি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছে।’

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে নির্বাচিত তিন এমপি বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করবে- এমন আশা রেখে প্রধানমন্ত্রী জানান, টিউলিপ ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ ও সিলেট সফরের ঘোষণা দিয়েছেন।টিউলিপের জন্য কাজ করায় দলীয় নেতাকর্মী ও দেশের মানুষকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রশংসা করেন রুশনারা আলীরও।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৫৪ সালের ১৬ মে বঙ্গবন্ধু স্থল সীমান্ত চুক্তি করে গিয়েছিলেন। এজন্য বাংলাদেশ পার্লামেন্টে সংবিধানের তৃতীয় সংশোধনী এনেছিলেন, অনুমোদনও করে গিয়েছিলেন এবং আইন পাসও করে গিয়েছিলেন। ভারত তখন সংবিধান সংশোধন করেনি, আইনও করেনি। এবার ৭ মে ভারতের পার্লামেন্টে সংবিধান সংশোধন হল, আইনও পাস হল। এজন্য আমি ভারতের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, রাজনৈতিক দল, পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে। তাই আমরা জানি যে দেশের কোথায় কী করতে হবে। বঙ্গবন্ধু যদি বেঁচে থাকতেন হয়তো এসব কাজ অনেক আগেই হয়ে যেত। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর এই উদ্যোগ আর কেউ হাতে নেয়নি। জিয়া সরকার, এরশাদ সরকার, খালেদা সরকার মাঝখানে কেয়ারটেকার সরকার ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু কোনো সরকার এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এটা বাংলাদেশের জন্য দুর্ভাগ্যের বিষয়।’

বঙ্গবন্ধুর মেয়ে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শুধু যে স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছেন তা নয়, স্বাধীনতা অর্জন, অর্জন-পরবর্তী একটি স্বাধীন রাষ্ট্র কীভাবে তৈরি হবে, কোথায় কী কী কাজ করতে হবে সবকিছু তিনি করে দিয়ে গেছেন। শুধু বাস্তবায়ন করাটাই বাকি ছিল।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন পর ক্ষমতায় এসেছে, ক্ষমতায় আসার পরেই এই কাজগুলো হাতে নিয়েছে এবং উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করতে শুরু করেছে। সমুদ্রসীমা আমরা পেয়েছি, স্থলসীমান্ত চুক্তিও আমরা বাস্তবায়ন করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর নীতি ছিল প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতার সম্পর্ক না রাখা। সেই নীতিতে আমরা অবিচল থেকেই একেক করে আমাদের সমস্যাগুলো সমাধান করতে পেরেছি। ভারতের ৫৪টি নদী বাংলাদেশের সঙ্গে সংযুক্ত। এসব নদীগুলোর সমস্যা সমাধানে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিশ্বে বাংলাদেশ বেশ কয়েক ধাপ এগিয়ে গেছে। এটা আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশকে একটা সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে গেছে। এটার দাবিদার আপনারা সবাই, প্রবাসী বাংলাদেশি থেকে শুরু করে প্রত্যেকে এতে অবদান রেখেছেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার গঠন করে অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে চলতে হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার করেছি, যুদ্ধাপরাধের বিচার হচ্ছে, মানুষ হত্যা, গণহত্যার বিচার ইতোমধ্যে আমরা করে যাচ্ছি। এটা না করলে বাংলাদেশ কলঙ্কমুক্ত হবে না। ’বাংলাদেশকে কলঙ্কমুক্ত করা এটাই আমাদের কাজ।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন- জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আশফাক আহমদ।

জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৯:৩৪ অপরাহ্ণ | জুন ১৮, ২০১৫