|

৪২ বছর কোমায় থাকার পর অরুণার মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক, ১৮ মে ২০১৫, সোমবার:

যমদূতের সঙ্গে দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় পাঞ্জা লড়ে অবশেষে হার মানলেন অরুণা শ্যানবৌগ। ধর্ষণের পর বেদম পিটুনিতে মারাত্মক জখম হয়ে ৪২ বছর আগে হাসপাতালের কোমায় ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসাধীন থেকে সোমবার (১৮ মে) সকালে পরপারে পাড়ি জমালেন তিনি।

ভারতের মুম্বাইয়ের কিং এডওয়ার্ড হসপিটালের সাবেক এ সেবিকার রেকর্ড গড়ে কোমায় থেকে মৃত্যুর খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, সর্বশেষ ছয় দিন নিউমোনিয়ায় ভুগে সোমবার পৌনে ১০টার দিকে মারা যান ৬৭ বছর বয়সী অরুণা। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শ্বাস-প্রশ্বাসের জটিলতায় ভুগতে থাকলে তাকে নিকটস্থ প্যারেল হসপিটালের মেডিকেল নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (এমআইসিইউ) নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানকার নিবিড় তত্ত্বাবধানও পৃথিবীর আলোতে রাখতে পারলো না অরুণাকে।

আগামী জুনের প্রথম সপ্তাহেই ৬৮তম জন্মদিন উদযাপনের কথা ছিল অরুণার।

কিং এডওয়ার্ড হাসপাতালের‌ একজন পরিচ্ছন্নকর্মীর ধর্ষণ ও নির্মম শারীরিক নির্য‍াতনে পক্ষাঘাতগ্রস্ত (প্যারালাইজড) হয়ে ১৯৭৩ সালে কোমায় চলে যান ওই হাসপাতালেরই এ সেবিকা। তারপর থেকে হাসপাতালটি অরুণার বাড়িতে পরিণত হয়েছিল।

জানা যায়, সোহানলাল বার্থা বাল্মিকী নামে ওই পরিচ্ছন্নকর্মী অরুণাকে ধর্ষণের পর কুকুর বাধার শেকল দিয়ে নির্মমভাবে পেটাতে পেটাতে বেহুঁশ করে ফেলেন। এমনকি শেষ পর্যন্ত তার গলায় ফাঁসও দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে অরুণাকে উদ্ধার করে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তিনি কোমায় চলে যান।

চিকিৎসকরা জানান, নির্মম আঘাতের কারণে অরুণার মস্তিষ্কের কোষগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে তিনি জ্ঞান ফিরে পাওয়ার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেন। শেষ পর্যন্ত হারিয়ে ফেললেন সুন্দর জগতে বেঁচে থাকার ক্ষমতাও।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ৪:১৩ অপরাহ্ণ | মে ১৮, ২০১৫