|

জামালপুরে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়ে নেতা-কর্মীরা দুইভাগে বিভক্ত ॥ চলছে চাঁদাবাজি

জামালপুর প্রতিনিধি
আগামী ২০ মে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা দুই ধারায় বিভক্ত হয়েছে। শহরজুড়ে আওয়ামী পরিবারে একদিকে উৎসব অন্যদিকে একাধিক সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী নিয়ে চলছে নানা শঙ্কা। সভাপতি পদে একতরফা একজন প্রার্থীর বিষয়ে সিদ্ধান- নেয়া হলেও সাধারণ সম্পাদক পদে মাঠে রয়েছেন দুইজন প্রার্থী। এই নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। সম্মেলনের নামে চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়েছে বিভিন্ন মহল।
জানা গেছে, ২০০৩ সালের ২৩ অক্টোবর জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে সভাপতি হন অধ্যাপক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক হন ফারুক আহমেদ চৌধুরী। সাধারণ সম্পাদকের একক আধিপত্যর কারনে এর পর আর সম্মেলন করতে পারেনি দলটি। জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়ে প্রতিটি উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। সভাপতি পদে একাধিক প্রার্থী থাকলেও একতরফা সিদ্ধানে- একজন প্রার্থী করা হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক পদে দুইজন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। সম্মেলনের মাধ্যমে আগামী দিনে জেলা আওয়ামী রাজনীতির শীর্ষ পদে কারা দায়িত্ব পাচ্ছেন এই প্রশ্ন এখন সর্বমহলে।
জানা গেছে, জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র এখন পর্যন- সভাপতি পদে একক প্রার্থী বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ’র নাম শুনা যাচ্ছে। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ চৌধুরী ও বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক এবং এফবিসিসিআই এর পরিচালক রেজাউল করিম রেজনু (সিআইপি)। ইতোমধ্যে দুই সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীর পক্ষেই শহর জুড়ে টানানো হয়েছে ব্যানার-ফেস্টুন। দুই সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীর পক্ষে দুইভাগে বিভক্ত হয়ে অবস্থান নিয়েছে দলটির নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা।
সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ফারুক আহমেদ চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অপর সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী রেজাউল করিম রেজনু বর্তমানে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন ইতোপূর্বে। তিনি আওয়ামী লীগের কান্ডারী। কর্মীবান্ধব এই নেতা দলের পেছনে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেন নিঃস্বার্থভাবে। কয়েক কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ লিখে দিয়ে দলটির জেলা কার্যালয় করে দিয়েছেন তরুণ এই নেতা। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের হৃদয়ে স’ান পাওয়া এই নেতাকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পেতে চায় তারা।
একাধিক প্রার্থী থাকায় ব্যালট পেপার ও সীল তৈরিসহ নির্বাচনের সকল প্রস’তি সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে।
জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন-ব্য করেছেন, রাজনীতিতে শেষ বলে কোন কথা নেই। শেষ পর্যন- সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীদের একজনকে সভাপতি ও একজনকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে জেলা কমিটি ঘোষিত হলেও আশ্চয্য হবার কিছু নেই।
এদিকে সম্মেলন জাকজমকপূর্ণ করতে চলছে চাঁদাবাজি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েক জন নেতা-কর্মী ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সম্মেলনকে কেন্দ্র করে চলছে চাঁদাবাজির মহোৎসব। পিছিয়ে নেই সরকারী দপ্তরগুলোও। সম্মেলনের জন্য জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ চৌধুরী জেলার মিল মালিকদের বরাদ্দ হ্রাস করে এক হাজার মেট্রিক টন চালের বরাদ্দ নিয়েছে। এতে কোন ব্যবসায়ী ১শ মেট্রিক টন চাল সরবরাহের বরাদ্দ পেলেও তিনি দিতে পারবেন ৮০ মেট্রিক টন চাল। জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের ২০ মের এই সম্মেলনন উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষি মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। প্রধান অতিথি থাকবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
শেষ পর্যন- আওয়ামী লীগের সম্মেলনে যোগ্য, ত্যাগী ও কর্মীবান্ধব নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হবে এমন প্রত্যাশা দলটির তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের।#

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ৪:২৭ অপরাহ্ণ | মে ১৭, ২০১৫