|

পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি

অনলাইন ডেস্ক,, ১৬ মে ২০১৫, শনিবার,
নির্বাচন কমিশন (ইসি) চলতি বছরের অক্টোবর থেকে আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যে প্রায় পৌনে ৩শ পৌরসভা এবং নভেম্বর থেকে জুলাইয়ের মধ্যে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে সংশিস্নষ্ট মন্ত্রণালয়ের সম্মতির পরই এসব নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক আয়োজন শুরম্ন করা হবে। এজন্য আগামী বাজেটে ইসি ৭শ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে। ইসি সংশিস্নষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
সংশিস্নষ্ট সূত্র মতে, ২০১১ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যনত্ম চার ধাপে ২৬৯টি পৌরসভার নির্বাচন হয়েছিল। ওসব পৌরসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী জানুয়ারি মাসে। স্থানীয় সরকারের আইন অনুযায়ী পৌরসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৩ মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান রয়েছে। সে প্রেক্ষিতে চলতি বছরের অক্টোবর থেকে জানুয়ারির মধ্যে এসব নির্বাচন করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। একইভাবে ২০১১ সালের ২৯ মার্চ থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত দু’ধাপে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হয়। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগের ৬ মাসের মধ্যে নির্বাচন করার বিধান রয়েছে। এ হিসাবে আগামী নভেম্বর থেকে জুলাইয়ের মধ্যে ওসব ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধতা রয়েছে।
সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকারের পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতিমধ্যে নানাভাবে প্রস’তি নিতে শুরম্ন করেছে। তৃণমূল পর্যায়ের নানা উন্নয়ন কর্মকান্ড, বিভিন্ন দিবস উপলড়্গে জনসংযোগ, দলীয় ও স্থানীয় সভা-সমাবেশ এবং সামাজিক কর্মকা-ের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের প্রাথমিক নির্বাচনী কার্যক্রম চালাচ্ছেন। পাশাপাশি দলীয় সমর্থন পেয়েও স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সিনিয়র নেতাদের আস’াভাজন হওয়ার চেষ্টায় নেমেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচনের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরম্ন করেছে। ইতিমধ্যে নির্বাচনের উপযোগী পৌরসভার তালিকা চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে কমিশন সচিবালয়। তবে এখনো ওই চিঠির কোনো জবাব না পাওয়ায় নির্বাচন সচিবালয় থেকে আবারো তাগিদপত্র দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
সূত্র আরো জানায়, দশম জাতীয় সংসদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র নির্ধারণসহ আনুষাঙ্গিক প্রস’তি নেয়া হয়। ওসব প্রস’তির কারণে পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচনের কাজ অনেক এগিয়ে রয়েছে। অবশ্য ইউপি ও পৌরসভা নির্বাচনের সময়সীমা কাছাকাছি হওয়ায় আগে কোনটি হবে সে সিদ্ধানত্ম নেবে কমিশন। তবে ইউপির তুলনায় পৌরসভার মেয়াদ শেষ হবে আগে। আর বিধান অনুসারে পৌরসভা নির্বাচন আয়োজনে ৩ মাস সময় পাওয়া যায়। তাছাড়া ইউপির তুলনায় পৌরসভার সংখ্যা ও নির্বাচনী এলাকা অনেক ছোট। সর্বশেষ অনুষ্ঠিত ২৬৯টি পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরড়্গিত কাউন্সিলর মিলিয়ে ৩ হাজার ৬৭৮ পদে নির্বাচন হয়। তাতে মোট ভোটার ছিলেন ৭৫ হাজার ৬০ হাজার ১০১ জন। আর ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী ও ভোটার সংখ্যা অনেকগুণ বেশি হয়। সবদিক বিবেচনা করে ইউপি নির্বাচনের আগেই পৌরসভা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ২০১১ সালের ২৯ মার্চ থেকে ২০১২ সালের ২৩ অক্টোবর পর্যনত্ম সারাদেশে ৪ হাজার ৪৩৯টি ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
এদিকে ইউপি ও পৌরসভা নির্বাচনের পরিচালনা খরচ হিসাবে আগামী বাজেটে নির্বাচন কমিশন ৭শ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে। এ অর্থের বেশিরভাগই খরচ হবে আইন-শৃঙ্খলা খাতে। দুই নির্বাচন পরিচালনায় ৩৪৩ কোটি টাকা এবং আইন-শৃঙ্খলা রড়্গায় ৩৫৭ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে। যদিও নির্বাচনে ৭শ কোটি টাকা ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে কমিশন সচিবালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় একাধিক বৈঠক করেছে। তবে চূড়ানত্ম হিসাবে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম হতে পারে ইসি কর্মকর্তাদের ধারণা।
অন্যদিকে আগামী ১৪ জুন দেশের ৫৭টি ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন কারণে পদ শূন্য হওয়ায় এসব ইউনিয়ন পরিষদে উপনির্বাচনের জন্য কমিশনের পড়্গ থেকে সংশিস্নষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইসির নির্দেশনায় ৫৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি চেয়ারম্যান পদে, ৪৭টি সাধারণ সদস্য পদে এবং বাকি ৫টিতে সংরড়্গিত নারী পদে ভোটগ্রহণের কথা বলা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদে ধারাবাহিক অনুপসি’তি, অনিয়ম এবং মৃত্যুজনিত কারণে এসব পদ শূন্য হয়েছে। তার মধ্যে যে ৫টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হবে সেগুলো হচ্ছে সিরাজগঞ্জের দুর্গানগর, ফুলবাড়িয়ার কালাদহ, লৌহজংয়ের হলদিয়া, নাঙ্গলকোটের দৌলখাঁড় এবং গোপালগঞ্জের ফুলবাড়ি। সংরড়্গিত নারী পদে নির্বাচন হবে এমন ৫টি ইউপি হচ্ছে মতলব দড়্গিণের উপাদী, উত্তরের ১নং ওয়ার্ড, নবীনগরের নাটঘর ইউপির ২নং ওয়ার্ড, মোড়েলগঞ্জের হোগলাপাশার ২নং ওয়ার্ড, আগৈলঝাড়ার রত্নপুরের ১নং ওয়ার্ড এবং পলাশ উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড। বাকি ৪৭টি সাধারণ ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণ করা হবে।
এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজ জানান, আইন অনুযায়ী এসব নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করা হবে। তবে নির্বাচনের এখনো অনেক সময় বাকি থাকায় বিষয়টি নিয়ে কমিশনে এখনো আলোচনা হয়নি।সুত্র এফএনএস এক্সক্লুসিভ

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০:২৭ অপরাহ্ণ | মে ১৬, ২০১৫