|

বাজিতপুরে মালয়েশিয়াগামী ৪ যুবক ৩ মাস ধরে নিখোঁজ পরিবারের আহাজারী, গ্রেফতার ১

 

মহি উদ্দিন লিটন, বাজিতপুর সংবাদদাতা ঃ
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার মাইজচর ইউনিয়নের পারকচুয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে নূর মোহাম্মদ (২৪) একই গ্রামের মোঃ আবু বক্করের ছেলে শফিকুল ইসলাম (২৭), মরম আলীর ছেলে মোঃ আকবর আলী (২৫) ও পারকচুয়া গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে শফিক মিয়া (২৫) ৩ মাস ধরে নিখোজ রয়েছে।  গত ৩ মাস আগে চট্টগ্রাম রুহানা ট্রেনিং এর স্বত্বাধিকারী আরিফুল ইসলাম এর সহায়তায় আঞ্চলিক চক্র আশিক জামাল, মোঃ কবির মিয়া, আব্দুস ছাত্তার, জসিম উদ্দিন সহ ৫/৬ জন দালাল চক্র সহজ-সরল এসব যুবকদের নিকট থেকে মালয়েশিয়ার নাম করে সর্বমোট ৯ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে এসব যুবক বেঁচে আছে নাকি নিখোঁজ রয়েছে এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতারক চক্রের আঞ্চলিক প্রতারক ও আয়নারগোপ গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের ছেলে জসিম উদ্দিন পাঠান (২৫) কে পুলিশ গত শুক্রবার দিবাগত রাতে অষ্টগ্রাম উপজেলার হাওর এলাকা হতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে। পরে প্রতারক চক্রের প্রধান চট্টগ্রাম আন্দারকিল্লা রুহানা ট্রেনিং এর স্বত্বাধিকারী আরিফুল ইসলামকে প্রধান আসামী করে মোঃ আশিক জামাল, কবির মিয়া, আব্দুস ছাত্তার, গ্রেফতারকৃত জসিম উদ্দিন পাঠানসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনের বিরম্নদ্ধে বাজিতপুর মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ এর ৭ ও ৮ (১) ধারায় এ মামলাটি বাদী হয়েছেন মোঃ মাশুক মিয়া। আজ শনিবার সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, গত ৩ মাস আগে (২৭ ফেব্রম্নয়ারী) স্থানীয় প্রত্যারক চক্র ও পারকচুয়া গ্রামের মোঃ আব্দুস ছাত্তারের ছেলে মোঃ আশিক জামাল, মৃত জারম্ন মিয়ার ছেলে মোঃ কবির মিয়া সহ ৫/৬ জন দালাল চক্র এলাকার সহজ-সরল যুবকদেরকে অবৈধ ভাবে মালয়েশিয়ার নাম করে প্রতি জনের নিকট থেকে দুই লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা নগদ ও আরো টাকা নেওয়ার জন্য থাইল্যান্ডের এক জঙ্গলে নির্যাতনের মধ্য দিয়ে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এর পর থেকে এ চার জন যুবক পরিবারের সাথে কথা বলতে না পারায় পরিবার বর্গরা বর্তমানে পাগল প্রায় অবস্থায় রয়েছে।আজ  শনিবার নিখোঁজ যুবক নূর মোহাম্মদের বড় ভাই মুসলিম মিয়া, শফিকুল ইসলামের বড় ভাই আব্দুল খালেদ, মোহাম্মদ আকবর আলীর পিতা মরম আলী সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে আলাপ করলে তারা জানান, দালালগণ তাদের নিকট থেকে ও সনত্মানদের কাছ থেকে এ পর্যনত্ম ১০ থেকে ১২ লড়্গ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। গত তিন মাস ধরে এ ৪ জন ছেলে বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে তার কোন হদিস নেই। তারা আরো বলেন, তাদের সনত্মান দেরকে মালয়েশিয়া পাঠানোর সময় কেহ জমি বিক্রি শেষ ভিটে বিক্রি ও মহাজনী সুদের টাকা এনে মালয়েশিয়া পাঠান। কিন্তু এ ৪ যুবকের কোন হদিস না পেয়ে বর্তমানে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। তাদের এক মাত্র আর্থি বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন তাদের ছেলেদের উদ্ধারের জন্য সহায়তা কামনা করছেন।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ৫:৪০ অপরাহ্ণ | মে ১৬, ২০১৫