|

দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ

অন লাইন ডেস্ক,  | ১২ মে ২০১৫, মঙ্গলবার, দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগে যুক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এতে ক্রমবর্ধমান ব্যান্ডউইথ চাহিদা পূরণ ও ক্যাবল সংযোগ নিরবিচ্ছিন্ন থাকবে।
আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৬৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘আঞ্চলিক সাবমেরিন টেলিযোগাযোগ প্রকল্প, বাংলাদেশ’ নামে এ সম্পর্কিত একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। ডাক ও টেলিগোযোগ বিভাগের এ প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি কোষাগার থেকে ১৬৬ কোটি, প্রকল্প সাহায্য ৩৫২ কোটি এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিলের ১৪২ কোটি টাকা দেয়া হবে।   প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আজ সকালে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ সভায় আঞ্চলিক সাবমেরিন টেলিযোগাযোগ প্রকল্পসহ ২ হাজার ৩৬৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকায় মোট ১০টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।  এর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন হচ্ছে ১ হাজার ৫৩১ কোটি ৩৩ লাখ, প্রকল্প সাহায্য ৬৮১ কোটি ৩৭ লাখ এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১৫২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৬টি নতুন এবং ৪টি সংশোধিত।
সভায় মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ ও সরকারের সচিবসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের ব্রিফকালে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক তথ্য প্রযুক্তির মহাসড়কে সাউথ ইস্ট এশিয়া-মিডল ইস্ট-ওয়েস্ট এশিয়া-৪ ( এস ই এ- এম ই- ডাব্লিউ এ- -৪) কনসোর্টিয়ামের আওতায় একটি মাত্র সাবমেরিন ক্যাবলের সাথে যুক্ত। যা সংক্ষেপে এস এম ডব্লিউ-৪ নামে পরিচিত। কোন কারণে এ ক্যাবলটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে এর বিকল্প হিসেবে এস ই এ- এম ই- ডাব্লিউ এ- ৫ ক্যাবলের মাধ্যমে সংযোগ নিরবিচ্ছিন্ন রাখার লক্ষ্যে এ প্রকল্পটি গৃহীত হয়েছে।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এস এম ডব্লিউ-৪ ক্যাবলটি বিশ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ। এর সাথে এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের ১৪টি দেশের ১৬টি টেলিকম কোম্পানি যুক্ত রয়েছে। এ কেবলটি কোন কারণে কাটা পড়লে বা অন্য কোন সমস্যা দেখা দিলে তা মেরামত করতে ৭ থেকে ১০ দিন সময় প্রয়োজন হয়। এতে তথ্য প্রযুক্তির কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে। সম্ভাব্য এ সমস্যার উত্তরণের ব্যাকআপ হিসেবে নতুন ক্যাবল এস এম ডব্লিউ-৫ এর সাথে সংযুক্ত হওয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। এতে আরো ১৩০০ জিপিএস সাবমেরিন ক্যাবল ব্যান্ডউইথ পাওয়া যাবে এবং এস এম ডব্লিউ-৫ হচ্ছে এস এম ডব্লিউ-৪ এর চেয়ে দশগুণ শক্তিশালী।
তিনি বলেন, পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটায় এ সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগের প্রাউন্ড লোকেশন ঠিক করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ডেটা ও ভয়েসের ক্ষেত্রে দেশের ব্যান্ডউইথ চাহিদা বৃদ্ধির সাথে সরবরাহও বৃদ্ধি পাবে। এতে নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ দেয়ার সঙ্গে এর ক্যাপাসিটি ও স্পিড দুইই বাড়বে এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ইন্টারনেট পৌঁছে যাবে । এ সঙ্গে কল সেন্টার, সফটওয়্যার রপ্তানি ও ডাটা এন্ট্রি খাত প্রসারিত হবে।
আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ২০১৪-’১৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের হার হচ্ছে ৫৬ ভাগ। এর পরিমাণ হচ্ছে ৪৩ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা। যা গত অর্থবছরের একই সময় পর্যন্ত ছিল ৫৪ ভাগ এবং টাকার পরিমাণ ৩৪ হাজার ৫৫৭ কোটি । অর্থাৎ, চলতি বছরে গত অর্থবছরের চেয়ে ৯ হাজার কোটি টাকার কাজ বেশি হয়েছে।
এছাড়া সভায় অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে- ২৯ কোটি ২৫ লাখ টাকায় বিসিক শিল্পনগরী মিরসরাই (২য় সংশোধিত)। প্রকল্পটির মেয়াদকাল হচ্ছে ২০১০-এর জুলাই থেকে ২০১৬-এর জুন পর্যন্ত।  ২৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে অন্তর্বর্তীকালীন পানি সরবরাহ প্রকল্প। এর বাস্তবায়নের মেয়াদকাল হচ্ছে ২০১৫-এর মার্চ থেকে ২০১৮-এর জুন।
২০১৫-এর জানুয়ারি থেকে ২০১৮-এর জুন মেয়াদকালে বাস্তবায়িত ৪১৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ে অনুমোদিত হয়েছে পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্য-শিক্ষা প্রকল্প।
৬২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয়ে দিনাজপুর-বিরল-পাকুয়া, রাধিকাপুর (বিরল স্থলবন্দর) সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়নের মেয়াদ হচ্ছে ২০১৫-এর মার্চ থেকে ২০১৭-এর জুন পর্যন্ত।  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও পল্লী উন্নয়ন অনুষদের ভৌত ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এর বাস্তবায়নের সময় হচ্ছে ২০১৫-এর জুলাই থেকে ২০১৭-এর ডিসেম্বর।
বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্য বিমোচন প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্স (বর্তমানে বি এ পি এ আর ডি) কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জের সম্প্রসারণ, সংস্কার ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের (দ্বিতীয় সংশোধিত) ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এর বাস্তবায়নের মেয়াদ হচ্ছে ২০১০-এর মার্চ থেকে ২০১৮-এর জুন পর্যন্ত।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, গাজীপুর প্রকল্পের (তৃতীয় সংশোধনী) মোট ব্যয় হচ্ছে ৩২৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। প্রকল্পটি ২০১০-এর মার্চ থেকে ২০১৭-এর ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে।
জাতীয় ভূমি জোনিং প্রকল্পের (দ্বিতীয় পর্যায়-দ্বিতীয় সংশোধিত) বাস্তবায়নের সময় হচ্ছে ২০১২-এর জুলাই থেকে ২০১৭-এর জুন পর্যন্ত। এর মোট ব্যয়ের পরিমাণ হচ্ছে ২৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।
বিএডিসি’র বিদ্যমান বীজ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। প্রকল্পটি ২০১৫-এর এপ্রিল থেকে ২০১৮-এর জুনের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে। (বাসস)

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ৭:০০ অপরাহ্ণ | মে ১২, ২০১৫